ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮৫)
, ০৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
(৪৩৯)
{والصديقين} كافاضل صحابة الانبياء عليهم السلام. والصديق: المبالغ فى صدق ظاهره بالمعاملة وباطنه بالمراقبة او الذي يصدق قوله بفعله، {والشهداء} والذين استشهدوا فى سبيل الله {والصالحين} ومن صلحت احوالهم وحسنت اعمالهم.
অর্থ: (ছদিক্বীন) হচ্ছেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদাময় সঙ্গীগণ উনারা। ‘ছিদ্দীক’ শব্দখানা ইসমু ফায়িল মুবালাগাহ। যিনি বাহ্যিক আমলে সত্যবাদী এবং আভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও সজাগ তিনিই ছিদ্দীক, অথবা যিনি উনার কথাকে স্বীয় কাজ দ্বারা সত্যায়ন করেন তিনিই ছিদ্দীক।
(শুহাদা) যারা মহান আল্লাহ পাক উনার পথে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন উনারাই শুহাদা।
(ছলিহীন) যারা নিজেদের অবস্থা সংশোধন করেছেন এবং আমলগুলোকে সুন্দর করেছেন উনাদেরকে ছলিহীন বা নেককার বলা হয়। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাকায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী, লেখক: ইমাম ফকীহ মুতাকাল্লিম-আকায়িদ বিশারদ হযরত আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭১০ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৬৯)
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও উনার তাফসীর উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উছিলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছিদ্দীকীন, শুহাদা, ছালিহীন তথা ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে অবারিত নিয়ামত মুবারক দিয়েছেন তা বর্ণনা করা হয়েছে। আর উনারা যার মুবারক উছিলায় নিয়ামতপ্রাপ্ত হয়েছেন অর্থাৎ স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক পথটিই হচ্ছে ছিরাতুল মুস্তাকীম তথা সরল-সঠিক পথ।
আরো প্রমাণিত হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করা মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক।
আর ইহাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম তথা মাযহাব উনার অনুসরণ। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৫
افَلَا يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْانَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوْا فِيْهِ اخْتِلَافًا كَثِيْرًا.
অর্থ: তারা কী পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে নিয়ে গবেষণা করে না? যদি ইহা মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তাহলে তোমরা এতে অনেক বৈপরিত্য দেখতে পেতে। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৪৪০)
فيه دليل على صحة القياس.
অর্থ: أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ এ পবিত্র আয়াতাংশ থেকে বুঝা যায় যে, পবিত্র শরয়ী কোন বিষয়ে পবিত্র কিয়াস করা তথা গবেষণা করা ছহীহ। (আত তাফসীরুল মাযহারী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ ৮২ নং আয়াত শরীফ, লেখক: আল্লামা হযরত কাজী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী হানাফী মাতুরীদী মাযহারী মুজাদ্দিদী নকশবন্দী পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ১২২৫ হিজরী)
(৪৪১)
قال الامام احمد رحمة الله عليه: حدثنا انس بن عياض حدثنا ابو حازم عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: لقد جلست انا واخي مجلسا ما احب ان لي به حُمر النَّعم اقبلت انا واخي واذا مشيخة من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم على باب من ابوابه فكرهنا ان نفرق بينهم فجلسنا حَجْرَة، اذ ذكروا آية من القرآن، فتماروا فيها حتى ارتفعت اصواتهم، فخرج رسولُ الله صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا حتى احمر وجهه، يرميهم بالتراب، ويقول: "مهلا يا قوم، بهذا اهلكت الامم من قبلكم باختلافهم على انبيائهم، وضربهم الكتب بعضها ببعض، ان القرآن لم ينزل يكذب بعضه بعضا بل يصدّق بعضه بعضا، فما عرفتم منه فاعملوا به وما جهلتم منه فردوه الى عالمِه".
অর্থ: হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আনাস বিন আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ হাযিম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে। তিনি উনার পিতা থেকে তিনি উনার দাদা থেকে।
হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দাদা বলেন, একবার আমি ও আমার ভাই একটি মজলিসে বসার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। গৃহপালিত রক্তবর্ণের উষ্ট্রদির চেয়ে উক্ত মজলিস আমার নিকট অধিকতর প্রিয় ছিলো। উক্ত মজলিসের ঘটনার বিবরণ এই যে, “একবার আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে এসে কিছু সংখ্যক প্রবীণ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উপবিষ্ট দেখলাম।
আমরা উনাদের থেকে জুদা হওয়া পছন্দ করলাম না তাই উনাদের একপার্শ্বে বসলাম। উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একখানা পবিত্র আয়াত শরীফ নিয়ে আলোচনায় মশগুল হলেন। এমনকী উনারা তা নিয়ে সূক্ষ¥ ও গভীর আলোচনা শুরু করলেন। একসময় উনাদের কন্ঠস্বর কিছুটা উচ্চ হয়ে উঠলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট আগমন করলেন। উনার চেহারা মুবারক রক্তিম মুবারক হয়ে গেলো। তিনি বলতেছিলেন, হে লোক সকল ইখতিলাফী বিষয় সম্পর্কে ধৈর্যধারণ করুন এবং ফিকির করুন। কারণ, এভাবেই আপনাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলো। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী, কটাক্ষকারী, অবমাননাকারীদেরকে শরঈ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮৪)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১২)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮৩)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১১)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮২)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৮০)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী, কটাক্ষকারী, অবমাননাকারীদেরকে শরঈ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৯)
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৯)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












