ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৯)
, ১২ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
(৪২২)
اختلفوا في اولى الامر: قال ابن عباس وجابر رضى الله عنهما وهو قول جماعة: هم العلماء والفقهاء، وقال ابو هريرة رضى الله عنه: هم الولاة والسلاطين، وقيل: هم امراء السرايا الذين بعثهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحروب. وقال عكرمة رحمة الله عليه: اراد به ابا بكر وعمر عليهما السلام.
অর্থ: উলিল্ আমর উনার ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। হযরত ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও একদল মুফাসসিরীন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উনারা হলেন হযরত উলামা ও ফুকাহা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম।
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি বলেন, উনারা হলেন খলীফার তরফ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও সুলতান। কারো কারো মতে, যুদ্ধের সেনাপতি, যাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদে প্রেরণ করেছিলেন।
হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উলিল্ আমর দ্বারা আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা উদ্দেশ্য। (তাফসীরুস্ সাময়ানী লেখক: হযরত আবুল মুজাফ্ফর মানছূর বিন মুহম্মদ বিন আব্দুল জব্বার সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিলাদত: ৪২৬ হিজরী ওফাত: ৪৮৯ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২৩)
من الكتاب والسنة، فإن لم يكن فالسبيل فيه الاجتهاد.
অর্থ: সর্ব ব্যাপারে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ শরীফ উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব বা ফরজ, তা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে স্পষ্ট পাওয়া যাবে। আর যদি সে বিষয়ে উনাদের মধ্যে কোন সরাসরি ফায়সালা না পাওয়া যায় তাহলে ইজতিহাদ তথা কিয়াস উনার আশ্রয় নিতে হবে। (তাফসীরুস্ সাময়ানী লেখক: হযরত আবুল মুজাফ্ফর মানছূর বিন মুহম্মদ বিন আব্দুল জব্বার সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত: ৪২৬ হিজরী, ওফাত: ৪৮৯ হিজরী পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২৪)
قال ابْنُ عَبَّاسٍ وجَابِرٌ رضى الله عنهما: أولو الأمْرِ هُمُ الفُقَهَاءُ والعلماءُ الَّذِينَ يعلِّمُونَ النَّاسَ دينهم. وهو قَوْلُ الحَسَنِ والضَّحاكِ ومُجاهِدٍ رحمة الله عليهم.
وقال أبُو هُرَيرَة رضى الله عنه: هم الأمَرَاءُ والوُلاة، وقال عليُّ بْنُ أبي طالبٍ عليه السلام: حقٌّ على الإمام أن يَحْكُمَ بما أنْزَلَ اللهُ ويُؤَدِّي الأمَانَة فإذا فَعَلَ ذلك حَق علي الرَّعِيَّةِ أنْ يَسْمَعُوا وَيُطِيعُوا.
وقال عكْرمَة رحمة الله عليه: اولو الامْرِ ابُو بَكْر وعُمَر عليهما السلام. وقيلَ: هم الخُلَفَاءُ الرَّاشِدُون عليهم السلام.
وقال عَطَاء رحمة الله عليه: هم المُهَاجِرُون والأنْصَار والتَّابِعُون لهم بإحْسَانٍ.
অর্থ: হযরত ইবনু আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বলেন, হযরত ফুকাহা ও উলামা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, যারা মানুষদেরকে দ্বীন ইসলাম উনার তা’লীম দিয়ে থাকেন। ইহা হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত দ্বহহাক ও মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত।
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমীর-উমরা, হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনি বলেন, ইমামের জন্য ফরজ হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করা এবং আমানত প্রতিষ্ঠা করা। যখন তা প্রতিষ্ঠিত হবে তখন অধীনস্তদের জন্য তা মেনে নেয়া ও আনুগত্য করা ওয়াজিব হবে।
হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উলিল্ আমর হলেন আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা।
আবার কেউ কেউ বলেন, উনারা হলেন হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম। হযরত আত্বা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনারা হলেন হযরত মুহাজিরুন ও আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণকারী হযরত তাবিঊন কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। (তাফসীরুল্ লুবাব লি ইবনি আদিল লেখক: হযরত আবূ হাফ্ছ উমর বিন আলী ইবনু আদিল দামিশ্কী হাম্বালী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮৮০ হিজরী পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৯)
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রায় ৭০০ বছর আগের ঐতিহাসিক ফতওয়া:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












