পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৬)
, ২৩ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কাজেই, যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন তাই উনাকে ব্যতীত অন্য কারো পথ, তর্জ-তরীক্বা অনুসরণ করা যাবে না। যদি কেউ করে তাহলে প্রকাশ্য গোমরাহে সে গোমরাহ্ তো হবে-ই এবং তার ভয়াবহ পরিণতিও হবে। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا
অর্থ: “হযরত আমর ইবনে শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের ব্যতীত অন্য কারো সাথে মিল রাখে বা অনুসরণ করে।” (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّ أُمَّتِيْ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبٰى! قِيْلَ وَمَنْ أَبٰى يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِيْ دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِيْ فَـقَدْ أَبٰى
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সমস্ত উম্মত জান্নাতী। ঐ সমস্ত উম্মত ব্যতীত যারা আমাকে অস্বীকার করবে। (তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা) উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন বা তিনি জিজ্ঞাসিত হলেন: ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কারা আপনাকে অস্বীকার করলো? তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যারা আমাকে অনুসরণ করলো বা ইত্তেবা করলো অর্থাৎ আমার সুন্নত মুবারক পালন করলো তারাই জান্নাতী। আর যারা আমার নাফরমানী করবে আমাকে ইত্তেবা করবে না তারাই আমাকে অস্বীকারকারী।” নাঊযূবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ: ১৪৮৭, মুসলিম শরীফ: ৩৩২১)
কাজেই যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করলো উনারই ছিরাতুল মুস্তাক্বীম বা সরল সঠিক পথে অনুসরণ করলো আর তারাই জান্নাতী। কাজেই, যদি কেউ অন্য কারো পথ অনুসরণ করে তারা জাহান্নামী। নাঊযূবিল্লাহ!
সে বিষয়টিই মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিলেন যে তোমরা দোয়া করো-
اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ
অর্থ: “আয় বারে ইলাহী! ‘আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।” (পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ: ৫)
সেটা কোন পথ তাও তিনি স্পষ্ট করেছেন-
اِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ. عَلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনি যে পথে আছেন সেই পথই হচ্ছেন ছিরাতুল মুস্তাক্বীম বা সরল পথ।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ: ৩-৪)
কাজেই একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক-ই হলেন ছিরাতুল মুস্তাক্বীম বা সরল সঠিক পথ। আর অন্য কারো পথ ছিরাতুল মুস্তাক্বীম নয়। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: “অবশ্যই তোমাদের জন্য সর্বউত্তম আদর্শ মুবারক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: ২১)
তাহলে সমস্ত কায়িনাত বান্দা-বান্দী উম্মত জীন-ইনসান সকলের জন্য ফতওয়া হচ্ছে- কোন সময় কোন অবস্থাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করা জায়েয নেই। যদি কেউ করে সে প্রকাশ্য গোমরাহে গোমরাহ্ হবে। নাঊযূবিল্লাহ!
আর উপরোক্ত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ দ্বারা সু-স্পষ্ট ভাবেই প্রমানিত হয়েছে যে- পূর্বের যত তাফসীরে বলা হয়েছে যে- নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ এবং ছলেহ উনাদের পথ ছিরাতুল মুস্তাক্বীম তা সম্পূর্ণভাবেই অশুদ্ধ এবং সে পথ অনুসরণ করলে গোমরাহ্ হওয়া ব্যতীত দোছরা কোন পথ খোলা নেই।
একমাত্র আহলে বাইতে রসূলিল্লাহ ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে যে তাফসীর মুবারকখানা করেছেন। তা পরিপূর্ণরূপে ছহীহ ও শুদ্ধ।
কেননা, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ-এ সু-স্পষ্টভাবে-ই বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ-ই ছিরাতুল মুস্তাক্বীম। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও বলা হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ ব্যতীত অন্য কারো পথ অনুসরণ করা জায়েয হবে না। বরং সে গোমরাহ্ কাফির হয়ে যাবে। নাঊযূবিল্লাহ!
কাজেই মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সকলকে হাক্বীক্বীভাবে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম - সরল সঠিক পথ উনার অনুসরণ করে সে পথে দায়িম-ক্বায়িম থাকার তাওফীক্ব মুবারক দান করুন। আমীন! (সমাপ্ত)
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












