পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে ছিরাতুল মুস্তাক্বীম উনার ছহীহ তাফসীর (৪)
, ১০ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৬ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন বলেছেন ঠিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلاَم أَتٰى رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّـوْرَاةِ فَـقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّـوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يَـقْرَأُ وَوَجْهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـتَـغَيَّـرُ فَـقَالَ حَضْرَتْ أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَام ثَكِلَتْكَ الثَّـوَاكِلُ! مَا تَـرٰى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـنَظَرَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلاَم إِلٰى وَجْهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ غَضَبِ اللهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَضِيْـنَا بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيْـنًا وَبِسَيِّدِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلَانَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا فَـقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَـفْسُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ حَضْرَتْ مُوْسَى عَلَيْهِ السَّلاَم فَاتَّـبَـعْتُمُوهٗ وَتَـرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيْلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُـبُـوَّتِي لَاتَّـبَـعَنِي
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। করেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তাওরাত শরীফের একটি অংশ নিয়ে আসলেন। অত:পর তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি তাওরাত শরীফের একটি অংশ। (এতে ঈমানদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নছীহত মুবারক ছিলো) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি তা পড়তে থাকলেন। (উনার এই পাঠ করার বিষয়টি পছন্দ করলেন না) আর এদিকে আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত চেহারা মুবারক আস্তে আস্তে লাল হতে লাগলো। অর্থাৎ তিনি নূরুল আহমার বা জালালী শান মুবারক বা অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ করলেন। বিষয়টি দেখে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম! (আরবী একটি প্রবাদ: যে,) আপনার মাতা আপনাকে হারিয়ে ফেলুক! আপনি কি লক্ষ্য করেন না? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত চেহারা উনার দিকে কি আপনি লক্ষ করেন না? (বলার সাথে সাথে) সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি সেটা রেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত চেহারা মুবারক উনার দিকে তাকালেন এবং (তাকিয়ে যখন দেখতে পেলেন বিষয়টি ব্যতিক্রম, দেখা যাচ্ছে) জালালী শান মুবারক যাহির হচ্ছেন (সাথে সাথে তিনি নূসখাটা বন্ধ করে ফেললেন) এবং বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং উনার হাবীব, মাহবূব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাচ্ছি, ইস্তেগফার করছি এবং সাথে সাথে বললেন, অবশ্যই আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে রব হিসেবে সন্তুষ্ট হয়েছি, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে খুশি হয়েছি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত রসূল, নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। বলে চুপে চুপে ইছতেগফার করতে লাগলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমার নূরুল কুদরত প্রাণ মুবারক রয়েছেন উনার কসম, (তিনি এটা স্বাভাবিকভাবে বললেই পারতেন কিন্তু তিনি অত্যন্ত তাক্বীদ দিয়ে কসম করে বলেছেন) এ সময় যদি আপনাদের নিকট এখানে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যাহির হতেন আর আপনার আমার কাছ থেকে সরে যেয়ে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ করতেন তাহলে আপনারা অবশ্যই ছিরাতুল মুস্তাক্বীম থেকে চ্যুত হয়ে গোমরাহ হয়ে যেতেন। এমনকি তিনি (হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম) যদি এখন হায়াতে থাকতেন আর আমার এই নুবুওওয়াত মুবারক উনার সময়টি পেতেন তাহলে নিশ্চয়ই তিনি আমার অনুসরণ করতেন অর্থাৎ উনার জন্য ফরযে আইন হয়ে যেত আমার ইত্তেবা করা।” সুবহানাল্লাহ! (দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ ১/৬৮, মিরকাত শরীফ)
এখানে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, আসমানী কিতাব পাওয়ার দিক থেকে প্রথম হচ্ছেন হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। উনার মত ব্যক্তিত্বও যদি উনার তাওরাত শরীফ নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় যাহির হতেন তাহলে উনার জন্যও ফরযে আইন হয়ে যেত উনার তাওরাত শরীফ রেখে দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনা এবং ঈমান এনে উনার অনুসরণ করা, সেই সাথে পবিত্র কুরআন শরীফ মেনে চলা। অন্যথায় তিনিও গোমরাহ্দের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যেতেন। নাঊযূবিল্লাহ!
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযাদারের জন্য তিনটি বিশেষ ফযীলত
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (২)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার বিশেষ তিনটি পবিত্রতা এই মাসের সম্মানার্থে-
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১০)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












