নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) ও পবিত্র নূরুর রিহালাহ শরীফ (বিছালী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ ও সময় নিয়ে ইখতিলাফের জওয়াব
, ১১ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ছহীহ হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ,বার, মাস সবই বর্ণনা করা আছে।
বিখ্যাত মুহাদ্দিস, উপমহাদেশের যুগশ্রেষ্ঠ আলেম, শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “জমহুর সিরাত ইতিহাস বিদগণের মতে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের সময় হস্তিবাহীনির বৎসরের ৫৫ দিন পর ছিলো। এই বক্তব্য হলো সর্বাধিক প্রসিদ্ধ আর তা ছিলো পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১২ তারিখ আর অধিকাংশ আলেম ও ইতিহাসবিদগণ এই মতামতই গ্রহণ করেছেন এবং এই তারিখের উপর একমত হয়েছেন।” (মাদারেজুন নবুওয়াত ২ খন্ড ১৪ পৃষ্ঠা)
অনেকে আবার পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফকে অস্বীকার করতে বিভিন্ন মহাকাশবিদের রেফারেন্স দেয়ার অপচেষ্টা করে। এ সকল লোকদের জন্য নিম্নোক্ত গবেষণামূলক গাণিতিক হিসাব উল্লেখ করা হলো-
আর রাহীকুল মাখতুম বইটিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঊনার তাশরীফ মুবারক অর্থাৎ বিলাদত শরীফের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ৫৭১ সালের ২০ বা ২২শে এপ্রিল, ৯ রবীউল আউওয়াল। চাঁদের হিসেব কষে একটু মিলিয়ে নেই।
সনঃ ৫৭১ খৃষ্টাব্দ
১১ এপ্রিল, শনিবার, রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখার সাপেক্ষে
আরবী তারিখ ঈসায়ী তারিখ বার
১লা রবীউল আউওয়াল ১২ এপ্রিল রবিবার
৯ রবীউল আউওয়াল ২০ এপ্রিল সোমবার
১২ রবীউল আউওয়াল ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার
চাঁদ না দেখে বিগত মাস ৩০ দিনে পুর্ণ করার সাপেক্ষে
আরবী তারিখ ঈসায়ী তারিখ বার
১লা রবীউল আউওয়াল ১৩ এপ্রিল সোমবার
৯ রবীউল আউওয়াল ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার
১২ রবীউল আউওয়াল ২৪ এপ্রিল জুমুয়াবার
যেহেতু বার হিসেবে বিলাদত দিবস ছিলো সোমবার তাই তারা সেটার মিল রেখে উল্লেখ করেছে ৯ রবীউল আউওয়াল ২০ এপ্রিল । ২২শে এপ্রিল হলে কোন কিছুই মিলছে না। কিন্তু আমাদের মেলাতে হবে কমপক্ষে ৪ টি বিষয়।
১। বার। যা হবে সোমবার।
২। তারিখ । যা হতে হবে ১২ই রবীউল আউওয়াল।
৩। সময়। যখন চাঁদ এতটা আলোকিত ছিলো যে, সেই আলোয় হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম কাবা ঘর মেরামত করেছিলেন।
৪। যোগফল হতে হবে ৬৩ বছর।
যদি আমরা ৫৭০ সন ধরে হিসেব করি তাহলে আসে-----------
সনঃ ৫৭০ খৃষ্টাব্দ
২২ এপ্রিল মঙ্গলবার, রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের চাঁদ দেখার সাপেক্ষে
আরবী তারিখ ঈসায়ী তারিখ বার
১লা রবীউল আউওয়াল ২৩ এপ্রিল বুধবার
৯ রবীউল আউওয়াল ১ মে বৃহস্পতিবার
১২ রবীউল আউওয়াল ৪ মে জুমুয়াবার
চাঁদ না দেখে বিগত মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করার সাপেক্ষে
আরবী তারিখ ঈসায়ী তারিখ বার
১লা রবীউল আউওয়াল ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার
৯ রবীউল আউওয়াল ২ মে জুমুয়াবার
১২ রবীউল আউওয়াল ৫ মে সোমবার
৫৭০ খৃস্টাব্দের ২১শে এপ্রিল, ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), পৃথিবীর কোথাও পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাবার আকৃতিতে আসেনি। চাঁদ দৃশ্যমান অবস্থায় আসে ২২শে এপ্রিল, ছুলাছা (মঙ্গলবার)। কিন্তু সেদিন চাঁদ দেখাকে বিবেচনায় নিয়ে ২৩ শে এপ্রিল, আরবিয়া (বুধবার) থেকে পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস শুরু করলে ১২ই শরীফের দিন হয় আহাদি অর্থাৎ রবিবার। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ২২শে এপ্রিল, ছুলাছা (মঙ্গলবার), সেদিন মক্কা শরীফের আকাশ মেঘলা ছিলো এবং চাঁদ দেখা না যাবার কারণে মাস শুরু হয়নি। পবিত্র সফর শরীফ মাস ত্রিশ দিন গণনা করে ২৪শে এপ্রিল, খামীস (বৃহস্পতিবার) মাস শুরু হয় এবং এতে পবিত্র ১২ই শরীফের দিন হয় ইসনাইনীল আযীম শরীফ (সোমবার) এবং ঈসায়ী সন হিসেবে তারিখ হয় ৫ ই মে ৫৭০ খৃষ্টাব্দ।
সম্মানিত ১২ই শরীফের রাত প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম (হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম) তিনি বলেন, এটা ছিলো চন্দ্রের আলোয় আলোকিত রাত। চারপাশে কোন প্রকার অন্ধকার ছিলো না। সে সময় হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার সন্তানগণকে সাথে নিয়ে রাতের বেলা চাঁদের আলোয় পবিত্র হারাম শরীফ উনার দিকে যান বাইতুল্লাহ শরীফ উনার ভাঙা দেয়াল মেরামত করার জন্য। (সূত্র: প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক আল্লামা হায়তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক রচিত ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)
অনেকে দাবি করেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত দিবস নাকি ২, ৮ কিংবা ৯ই রবীউল আউওয়াল শরীফ তারিখে। কিন্তু বিভিন্ন হিসেবেই এই তারিখগুলো ভুল। কেননা সম্মানিত হাদীস শরীফ, বিভিন্ন ঘটনাবলী এবং মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় বোঝা যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের দিন ছিলো ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, সোমবার। সুবহানাল্লাহ!
যুক্তি-১
২রা রবীউল আউওয়াল হবার সম্ভাবনা একারণেই নেই যে সেদিন চাঁদ উদয় হবার পর প্রায় ১ ঘণ্টা পর চাঁদ অস্ত গিয়েছিলো অর্থাৎ আলোকিত রাত ছিলোনা। ৯ ই রবীউল আউওয়াল হবার সম্ভাবনা নেই কারণ সেদিন চাঁদের আলো ততটা তীক্ষè ছিলোনা, ৮৬ ভাগ আলোকিত ছিলো। চাঁদ উঠেছিলো দুপুর ৩ টা ৩১ মিনিটে চাঁদ অস্ত গিয়েছিলো ভোর ৩ টা ১২ মিনিটে। অর্থাৎ সুবহে সাদিকের সময় জোসনা ছিলো না। আর পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ রাতে চাঁদ ১০০ ভাগ আলোকিত ছিলো।
যুক্তি-২
সেদিন (১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ) সুবহে সাদিক শুরু হয়েছিলো ভোর ৪ টা ২৫ মিনিটে আর সূর্য উদয় হয়েছিলো ৫ টা ৪৪ মিনিটে। কিন্তু চাঁদ উঠেছিলো সন্ধ্যা ৬ টা ১৭ মিনিটে এবং চাঁদ অস্ত গিয়েছিলো সকাল ৫ টা ০৮ মিনিটে। সেদিন সুর্যাস্ত বা মাগরিব শুরু হয়েছিলো ৬ টা ৪৬ মিনিটে (সতর্কতামূলক ৫ মিনিট যোগ বাদে) । অর্থাৎ মাগরিব শুরুর পূর্বেই চাঁদ উঠেছিলো এবং সুবহে সাদিকেরও পর প্রায় ৪৩ মিনিট বেশী সময় চাঁদ আকাশে ছিলো। তাহলে সেই রাতে যে হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার সন্তানগণদের সাথে নিয়ে হারাম শরীফ-এর দিকে যান বাইতুল্লাহ শরীফ-এর ভাঙা দেয়াল মেরামত করার জন্য সে বিষয়টি সহজেই বোঝা যায়। অর্থাৎ হযরত উম্মু রাসুলিনা আলাইহাস সালামের ভাষ্য অনুযায়ী সেদিন যে জোছনার রাত ছিলো তা প্রমাণিত। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের দিন ছিলো ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, সোমবার। সুবহানাল্লাহ।
১২ই শরীফে প্রসঙ্গে দলীল:
৬৩ বছরের প্রমাণ:
যদি বিলাদত দিবস ৫৭০ সালে আর বিছাল শরীফ ৬৩২ সালে তাহলে হাতে গুনলে বয়স কত হয়?
সাধারণভাবে "হাতে গুনলে" ষবধঢ় ুবধৎ (অধিবর্ষ) বা মাসের দিনের তারতম্য ধরা হয় না শুধু বছর বিয়োগ করা হয়।
আগমন দিবস: ৫ মে ৫৭০
দিদার মুবারকঃ ৮ জুন ৬৩২
এখন যদি শুধু বছর দিয়ে হাতে গুনি (৬৩২ - ৫৭০):
৬৩২ - ৫৭০ = ৬২ বছর
অর্থাৎ সাধারণ দৃষ্টিতে বয়স মুবারক হয় ৬২ বছর।
কিন্তু যদি আসল দিন-মাস ধরে হিসাব করেন (৫ মে ও ৮ জুন সহ), তাহলে:
৫ মে ৫৭০ থেকে ৫ মে ৬৩২ = পুরো ৬২ বছর
তারপর ৫ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত = ৩৪ দিন বেশি (মে-এর ২৬ দিন + জুনের ৮ দিন)
তাই প্রকৃত বয়স দাঁড়ায়:
৬২ বছর ৩৪ দিন (অথবা ৬২ বছর ১ মাস ৩ দিন)।
হিজরি (চান্দ্র) বছরে যদি হিসাব করেন, তাহলে যেহেতু চান্দ্র বছর সৌর বছরের চেয়ে ১০-১১ দিন ছোট, তাই বয়স দাঁড়ায় প্রায় ৬৪ বছর (কিছু দিন বেশি)।
সংক্ষেপে:
হাতে গুনলে (শুধু বছর): ৬২ বছর
দিন-মাসসহ সঠিক সৌর হিসাবে: ৬২ বছর ৩৪ দিন
হিজরি হিসাবে: প্রায় ৬৪ বছর
এখন আসুন প্রাচীন আরবে বয়স গণনা পদ্ধতি কেমন ছিলো?
প্রাচীন আরবে বয়স গণনার পদ্ধতি ছিলো আমাদের আজকের ধারণার থেকে অনেকটাই ভিন্ন, অস্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট কোনো একক পদ্ধতিতে আবদ্ধ ছিলো না । এটাকে বোঝার জন্য তাদের সময় গণনার পদ্ধতি, সমাজের চাহিদা এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট একসঙ্গে দেখতে হবে।
১. নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডারের অভাব
আমরা যেমনটি আজ করি, তেমনভাবে প্রাচীন আরবে জন্মের সঠিক বছর বা দিন লিপিবদ্ধ করার কোনো প্রচলিত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিলো না । কারণ:
কোনো কেন্দ্রীয় ক্যালেন্ডার ছিলো না: ইসলামি হিজরি ক্যালেন্ডার চালু হয় খলিফা ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার সময়, হিজরতের প্রায় ১৭ বছর পরে । এর আগে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ক্যালেন্ডার (চান্দ্র, সৌর, বা উভয়ের মিশ্রণ) ব্যবহৃত হতো, কিন্তু তা ছিলো আঞ্চলিক ও অস্পষ্ট ।
ঘটনার মাধ্যমে সময় চিহ্নিত করা হতো: সাধারণ মানুষের কাছে সময় গণনার প্রধান মাধ্যম ছিলো স্মরণীয় ঘটনা। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর বছরকে বড় কোনো ঘটনার সাথে যুক্ত করে মনে রাখা হতো, যেমন "হস্তী বছরের" (আম আল-ফিল, যে বছর আবিসিনিয়ার রাজা আব্রাহা কাবা ঘর আক্রমণ করতে এসেছিলো) কয়েক বছর আগে বা পরে । এটি ছিলো অনেকটা "ঐ বড় বন্যাটির তিন বছর পর" বলার মতো।
২. বয়স ছিলো আনুমানিক
যেহেতু সঠিক জন্ম তারিখ লিপিবদ্ধ করার রেওয়াজ ছিলো না, তাই কারও বয়স বলতে গেলে তা ছিলো মূলত একটি আন্দাজ । এই আন্দাজ করা হতো বিভিন্ন কারণে:
বিবাহ, উত্তরাধিকার ও সাক্ষ্য দানের জন্য: বয়সের প্রাসঙ্গিকতা ছিলো মূলত আইনি ও সামাজিক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য, যেমন কখন একজন ব্যক্তি বিবাহের উপযুক্ত হলো, বা উত্তরাধিকারী হতে পারলো ।
বালাগা হওয়া থেকে গণনা: কিছু ঐতিহাসিক সূত্র জানায় যে, অভিজাত পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়স প্রায়শই বয়ঃসন্ধি প্রাপ্তির পর থেকে গণনা করা হতো । এর অর্থ হলো, কেউ যদি বলে "আমার বয়স ৮ বছর," তাহলে সেটি তার জন্মের পর থেকে ৮ বছর নয়, বরং বয়ঃসন্ধির পর থেকে ৮ বছরও হতে পারে।
৩. চান্দ্র বছরের প্রভাব
আরবরা মূলত চান্দ্র মাস অনুসরণ করতো । চান্দ্র বছর সৌর বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দিন ছোট। এই পার্থক্যের কারণে, কারও বয়স যদি "৩০ বছর" বলা হয়, তবে সেটি সৌর বছরে ২৯ বছরের কিছু বেশি হতে পারে। এই পার্থক্য আজকের হিসাবের সাথে আরেকটি অস্পষ্টতা যোগ করে ।
সংক্ষেপে-
প্রাচীন আরবে বয়স ছিলো কোনো নির্দিষ্ট বিজ্ঞানসম্মত হিসাবের বিষয় নয়, বরং একটি আনুমানিক ধারণা, যা কোনো স্মরণীয় ঘটনার প্রেক্ষাপটে, ব্যক্তির জীবনচক্রের পর্যায়ে (যেমন বয়ঃসন্ধি), এবং চান্দ্র বছরের হিসাবে প্রকাশ করা হতো। সে সময়কার একজন ব্যক্তির সঠিক বয়স নিয়ে আজকের ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক থাকার একটি প্রধান কারণই এটি।
৫৭০ থেকে ৬৩২ সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেটি "হস্তী বছরের" (আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ) কাছাকাছি সময় । সে যুগে কারও বয়স গণনা করা হলে তা সম্ভবত "হস্তী বছরের কিছু পরে" অথবা "ইসলামের সূচনার" মতো ঘটনার সাথে সম্পর্কিত করে বলা হতো, এবং তা ছিলো খুবই আন্দাজি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত বছর হায়াত মুবারকে ছিলেন?
উত্তর আসে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬৩ বছর দুনিয়ায় অবস্থান মুবারক করেছেন।
এটি একটি সুপরিচিত এবং সর্বসম্মত ঐতিহাসিক তথ্য। উনার মুবারক জীবনকালকে সাধারণত দুটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা হয়:
মক্কী জীবন: ৫৩ বছর
মাদানী জীবন: ১০ বছর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত সাল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এবং বিছাল শরীফ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। এই দুই তারিখের মধ্যে ব্যবধানই ৬৩ বছর কিভাবে প্রমাণিত হবে?
শুধু ৬৩২ ও ৫৭০ বিয়োগ করলে সৌর হিসেবে দাঁড়ায় ৬২ বছর, অথচ আমরা বলি ৬৩ বছর। এই ১ বছরের পার্থক্যটা কেন হয়?
কিন্তু আরবরা তখন চন্দ্র বছর গণনা করতো। একটি চান্দ্র বছর ৩৫৪.৩৬৭ দিন, আর একটি সৌর বছর ৩৬৫.২৪২ দিন। অর্থাৎ প্রতি বছর চান্দ্র ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের থেকে প্রায় ১১ দিন ছোট।
এই হিসাবে, ৬২ সৌর বছর = ৬২ দ্ধ ৩৬৫.২৪২ = ২২,৬৪৫ দিন (প্রায়)।
আর এই ২২,৬৪৫ দিনকে চান্দ্র বছর দিয়ে ভাগ করলে (২২,৬৪৫ স্ট ৩৫৪.৩৬৭) = প্রায় ৬৩.৯ বছর হয়। যাকে আমরা সাধারণত ৬৩ বছর বলে থাকি।
২. জন্ম ও মৃত্যুর মাস-তারিখের হিসাব (সৌর বছর ধরলেও)
যদি আমরা সৌর বছর ধরেই হিসাব করি, তবুও ৬৩ বছর হতে পারে, যদি:
জন্ম: ৫৭০ সালের ৫ মে
মৃত্যু: ৬৩২ সালের ৮ জুন
এখন ৫ মে ৫৭০ থেকে ৫ মে ৬৩২ = পুরো ৬২ বছর।
তারপর ৫ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দিনের ব্যবধান = ৩৪ দিন
এই ৩৪ দিন = প্রায় ১ মাস ৪ দিন।
এখন, এই ১ মাস ৪ দিন কিন্তু আরেকটি পূর্ণ বছর হওয়ার মতো নয়। তাহলে ৬৩ হলো কীভাবে?
আসলে এখানে বছর গণনার শুরুর বিন্দু নিয়ে সমস্যা। প্রাচীন আরবে তারা জন্মদিন থেকে পরের জন্মদিন পর্যন্ত পূর্ণ বছর গণনা করতো না; তারা চান্দ্র মাস অনুসরণ করতো। আর চান্দ্র মাসে ১২ মাস হয় ৩৫৪ দিনে, তাই ৬২ সৌর বছর পার হতে চান্দ্র হিসাবে ৬৩ বছর লেগে যায়।
৩. আরেকটি সহজ প্রমাণ: ইসলামিক ঐতিহাসিক সূত্র
বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থকার ইবনে হিশাম, ইবনে সাদ, এবং তাবাকাত গ্রন্থে সর্বসম্মতভাবে উল্লেখ করেছেন:
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক যখন ৪০ বছর, তখন উনার আনুষ্ঠানিক নবুওয়াত প্রকাশ ঘটে।
তিনি ২৩ বছর ছিলেন (১৩ বছর মক্কা শরীফে + ১০ বছর মদিনা শরীফে)।
এখন ৪০ + ২৩ = ৬৩ বছর।
এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, কারণ এটি ঘটনা-ভিত্তিক (নবুওয়াতের সময়কাল) এবং তা হাদিস ও ইতিহাসের অকাট্য সূত্রে বর্ণিত।
৪. কেন ৬৩ বলা হয়, ৬২ বা ৬৪ নয়?
৬২ হয় যদি কেবল সৌর বছর বিয়োগ করেন।
৬৩ হয় কারণ: নবুওয়াত ৪০ বছর বয়সে + ২৩ বছর = ৬৩ (প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক বর্ণনা)
অথবা চান্দ্র বছরে ৬২ সৌর বছর = ৬৪ চান্দ্র বছর হলেও, প্রাচীন আরবে জন্মবছরকে ১ ধরে গণনা করলে (অর্থাৎ জন্মের বছরটিকেই ১ বছর ধরা) সেটি ৬৩-৬৪-এর কাছাকাছি হয়।
সারসংক্ষেপ প্রমাণ:
পদ্ধতি গণনা ফলাফল
সৌর বছর বিয়োগ ৬৩২ ও ৫৭০ = ৬২ ৬২ বছর
চান্দ্র বছরে রূপান্তর ৬২ দ্ধ ৩৬৫.২৪২ স্ট ৩৫৪.৩৬৭ ≈ ৬৩.৯ বছর
ঐতিহাসিক বর্ণনা ৪০ (নবুওয়াত) + ২৩ (নবুওয়াতের সময়) = ৬৩ ৬৩ বছর (নির্ভরযোগ্য)
প্রাচীন আরবি রীতি (অন্তর্ভুক্তি গণনা) জন্ম বছরকে ১ ধরে ৬৩ বছর হয়
সুতরাং, সঠিক ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হলো নবুওয়াত প্রাপ্তির বয়স (৪০) + নবুওয়াতের সময়কাল (২৩) = ৬৩ বছর, যা হাদিস ও সীরাত গ্রন্থে সুপ্রতিষ্ঠিত।
অ্যাস্ট্রোনমারদের গবেষণায় নির্ভুলভাবে প্রমাণ হয় পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের তারিখ-
হিজরী সন: ১১ হিজরীর ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ
ঈসায়ী সন: ৬৩২ সাল, ৮ই জুন
বার: সোমবার
তাই অ্যাস্ট্রোনমার বা জ্যোর্তিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় নির্ভুলভাবে প্রমাণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ (বিলাদতী শান মুবারক) প্রকাশের দিন অবশ্যই পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ।
-মুহম্মদ রুহুল হাসান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৯তম পর্ব)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-২)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৩)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-১)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












