পাঠক কলাম:
নারীবাদের বিকৃত বয়ান সমাচার ও কিছু কথা
, ১৪ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
সম্প্রতিকালে বাংলাদেশ একটি জাতীয় দৈনিকে একটি নিবন্ধ ছাপানো হয় যার সংক্ষিপ্ত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-
“সংসারে অভাব-অনটন, স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়া, একাধিক বিয়ে, ঋণের কিস্তি পরিশোধসহ বিভিন্ন কারণে পঞ্চগড়ে নারীদের একটি বড় অংশ বেঁচে থাকার তাগিদে পাথর-বালি কোয়ারি, চা বাগানসহ বিভিন্ন জায়গায় শ্রম বিক্রি করছে। পাথর ভাঙা মেশিনের প্রচ- শব্দ এবং ধূলিকণার বলয়ে এই কাজ করতে গিয়ে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলরোগে ভুগছে অনেকে। ”
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, “আধুনিক জীবনমানের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা চোখে পড়ার মতো। সমাজের প্রতিটি অংশে নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। সমাজের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ”
এখানে আমার কিছু কথা রয়ে গিয়েছে। তারা নিজেরাই বলছেন নারীদের জন্য সমান অধিকার চান। আবার বিপরীতে তারা পুরুষদের সমান কাজ করতে অসম্মতি প্রকাশ করছে। এই বিষয়গুলো কি পরস্পর বিরোধী নয়? আপনি যদি সমান অধিকার দাবি করেন তাহলে পুরুষরা যেমন রিকশা চালায় তেমনি মহিলাদেরকেও রিকশা চালাতে হবে নাউজুবিল্লাহ। কিন্তু সেটা হবে সভ্যতার নামে এক অসভ্য পদচারণা।
অথচ কথিত নারীবাদের উৎসদেশ সন্ত্রাসী আমেরিকার কি অবস্থা?
এখন থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইক্যুয়েল পে অ্যাক্ট’ আইন পাস করলেও এখনও ১৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে কর্মরত নারীরা একই কাজের জন্য পুরুষদের চাইতে প্রতি ডলারে ২৩ সেন্ট কম উপার্জন করে। ইউএস গভর্ণমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস-এর জরিপ থেকে দেখা যায়, সে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোট কর্মচারীর প্রায় ৭০ ভাগ নারী হলেও নারী ব্যবস্থাপকরা পুরুষের চেয়ে অনেক কম অর্থ পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ১৯৯৫-২০০০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নারীপুরুষের উপার্জনের এই বৈষম্য ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। (ইনকিলাব, ৫ এপ্রিল ২০০৮, পৃঃ ১৪; ২৬ মার্চ ২০০৮, ১৬ পৃষ্ঠা)
অথচ পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের তৈরী ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ’ (সিডও)-এর ১১ (ঘ) ধারায় নারীর ‘বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ সমান পারিশ্রমিক, একই মানের কাজের ক্ষেত্রে একই আচরণ, সেই সাথে কাজের মান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেটা আসলে পুরোই ধোঁকাবাজি।
‘হেরাল্ড ট্রিবিউন’ এর এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সালের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড শহরে ১৯৯১ সালে একটি মহিলা কলেজে সহশিক্ষা চালু করা হলে সেখানকার ছাত্রীরা কান্নাজুড়ে দেয় এবং চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘সহশিক্ষার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভাল’। তারা তাদের গায়ের জামায়ও একই কথা লেখে। এমনকি সহশিক্ষা বিরোধী লেখা দিয়ে ক্যাম্পাস ভরে দেয়। এর একটিমাত্র কারণ তা হল, পুরুষের সম্ভ্রমহানীকর নিপীড়ন।
মূলত এখানেই নারীবাদের অসারতা ধরা পড়ে। বরঞ্চ পুরুষ মহিলা একত্রে কাজ করানোর মাধ্যমে আজকে মহিলাদের সম্ভ্রম এর অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ইতঃপূর্বে মহিলারা মহিলারা যে নিজেদের মধ্যে একটি সোসাইটি বা কমিউনিটি করে থাকতেন, সেখান থেকে তাদেরকে বের করে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মূলত নারীবাদের অন্তরালে মুসলমানদের পারিবারিক জীবন ধ্বংস করার এক ভিন্ন ষড়যন্ত্র পরিচালিত হয়ে আসছে। যেটার জন্য কাজ করে যাচ্ছে পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট বিভিন্ন এনজিওগুলি।
মূলত নারীবাদের অন্তরালে আজকে নারী অধিকার হরণের মচ্ছব চলছে।
-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












