তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (২)
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
আপনি যদি আপনার ত্বালাক্ব প্রাপ্তা আহলিয়াকে নিয়ে সংসার করতে চান তাহলে উক্ত আহলিয়া (্স্ত্রী) ইদ্দত পালনের পর অন্যত্র বিবাহ বসে ঘর সংসার করার পর অর্থাৎ একান্তবাসের পর যদি দ্বিতীয় আহাল বা স্বামী তাকে ত্বালাক্ব দেয় অথবা সে মারা যায় অতপর ইদ্দত পালন করে তখন প্রথম আপনি আপনার উক্ত আহলিয়া বা স্ত্রীকে পূনরায় বিবাহ করে সংসার করতে পারবেন। এটা মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَه مِنْ بَعْدُ حَتّٰى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
অর্থ: অতঃপর যদি সে তার আহলিয়াকে (স্ত্রীকে) তিন ত্বালাক্ব দেয়, তবে সে আহলিয়া (স্ত্রী) যে পর্যন্ত না তাকে ছাড়া অপর কোন আহাল বা স্বামীর সাথে বিবাহ বসবে, সে পর্যন্ত তার জন্য হালাল হবে না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩০)
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-
عن حضرت على عليه السلام مرفوعا ايما رجل طلق امرأته ثلاثا مبهنة او ثلاثا عند الاقراء لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি মারফু সনদে বর্ণনা করেন, কোনো ব্যক্তি যদি তার আহলিয়াকে একত্রে তিন ত্বালাক্ব দেয় তবে সে আহলিয়া তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য আহালকে বিবাহ করবে।” (দারুকুতনী, ফিকহুস সুনান ওয়াল আছার-২/৭৫)
যদি কারো আহলিয়া নিয়ে সমস্যা হয়, তাহলে কোন তারতীবে উক্ত সমস্যা সমাধান করতে হবে সেসর্ম্পকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَاللَّاتِى تَخَافُوْنَ نُشُوْزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِى الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَاِنْ اَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
অর্থ: “তোমরা যারা নিজেদের আহলিয়ার (স্ত্রী) অবাধ্যতার আশঙ্কা করো তারা তাদের আহলিয়াকে নছীহত করো (তাতে কাজ না হলে) তাদের বিছানা পৃথক করে দিও। (তাতে কাজ না হলে) তাদের (মৃদু) প্রহার করতে পারবে। (এই পন্থা অবলম্বন করলে) যদি তারা অনুগত হয়ে যায় তাহলে তাদের ব্যাপারে অন্য কোনো পথের অনুসন্ধান করা থেকে বিরত থাকবে। অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহান।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)
আর যদি এসব তারতীব অবলম্বন করার পরও কোনো ফল পাওয়া না যায়, আহলিয়ার মনোভাবের পরিবর্তন না আসে, আহাল-আহলিয়া উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছেদের দিকে গড়তে থাকে তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে কোন্ তারতীব অবলম্বন করতে হবে তাও মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন। ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَاِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ اَهْلِه وَحَكَمًا مِنْ اَهْلِهَا اِنْ يُرِيدَا اِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللّٰهُ بَيْنَهُمَا ۗ اِنَّ اللّٰهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
অর্থ: “যদি তোমরা তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিই আশঙ্কা করো তাহলে আহাল বা স্বামীর পরিবার থেকে মিমাংসা করার যোগ্যতা সম্পন্ন একজনকে এবং আহলিয়া বা স্ত্রীর পরিবার থেকে মিমাংসা করার যোগ্যতা সম্পন্ন একজনকে সালিস নিযুক্ত করবে। আর এই দুই ব্যক্তি যদি সংশোধন কামনা করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আহাল ও আহলিয়ার মধ্যে মুহব্বত-সম্প্রীতি পয়দা করে দিবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাজ্ঞানী, সর্ববিষয়েই খবর রাখেন।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৫)
আর এই তারতীব অবলম্বন করে তথা সালিস দুই ব্যক্তির মাধ্যমে সংশোধনের সর্বাত্মক কোশেশও যদি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। বিচ্ছেদ ছাড়া কোনো পথ না থাকে তাহলে কিভাবে ত্বালাক্ব বা বিচ্ছেদ ঘটাবে তারও বর্ণনা মহান আল্লাহ পাক তিনি সুনিপুনভাবেই দিয়েছেন।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (১ম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৩)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (১)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












