সম্পাদকীয়-১
দেশকে বাঁচানোর দেশকে আগানোর কারিগর রেমিটেন্স যোদ্ধাদের- “অতিরিক্ত ব্যায়, সুরক্ষার অভাব সহযোগিতার অভাব” এসব অভিযোগ আর কত শুনতে হবে? অকৃতজ্ঞ সরকার কৃতঘœ তকমাই পছন্দ করবে?
, ২৭ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
(১)
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
চলতি বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৮২ জন জনশক্তি রপ্তানি করেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জানিয়েছে, গত ১১ মাসে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৮২ জন বাংলাদেশি নাগরিক কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। এর আগে, ২০২৪ সালে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৫৬ জন এবং ২০২৩ সালে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশ গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সরকারকে প্রয়োজনভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি যেমন- নার্স, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মী গড়ে তুলতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
রেকর্ডসংখ্যক শ্রমিক বিদেশে গেলেও বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের বাস্তব চিত্র খুব একটা বদলায়নি। একক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, আকাশছোঁয়া অভিবাসন ব্যয়, দুর্বল সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অদক্ষ শ্রম রপ্তানির পুরোনো চক্র- সব মিলিয়ে দেশের শ্রম রপ্তানি ব্যবস্থা এখনো ভঙ্গুরই রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রবাসী কল্যাণ খাতে বাজেট বরাদ্দও কমেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকায়। গত পাঁচ বছরে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই খাতে।
অথচ প্রবাসীরা প্রতিবছর ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, 'এই বরাদ্দ কমে যাওয়াই স্পষ্ট করে দেয় যে প্রবাসী কল্যাণকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হয়নি।'
প্রবাসী লাউঞ্জ, বিদেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার কিংবা সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির মতো সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগগুলো কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
প্রবাসী মন্ত্রণালয় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নতুন করে সাজানোর ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করেছে।
আগের সরকার পতনের পর বিশেষজ্ঞরা দক্ষতা উন্নয়ন, কল্যাণ, নিয়োগ সংস্কার ও শ্রম কূটনীতি নিয়ে একটি 'ন্যাশনাল মাইগ্রেশন ডিকেড' ঘোষণার কথা বললেও বাস্তবে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
(২)
শ্রমিকের কাঁধে সবচেয়ে বড় বোঝা-অভিবাসন ব্যয়
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এখনো অভিবাসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়।
দৈনিক আল ইহসানের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়ন্ত্রিত দালালদের কারণে একই বাজারে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নেপালি শ্রমিকদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হয়।
এর পাশাপাশি, ‘বিমানবন্দরে হয়রানি কমানো জরুরি। শুধু লাউঞ্জ করলেই সমস্যা মেটে না। শ্রমিকেরা চায় ঝামেলাহীন অভিজ্ঞতা, বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়।’
সরকার ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যে ব্যবস্থায় শ্রমিককে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, সেই ব্যবস্থার খরচই শ্রমিককে বহন করতে হচ্ছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গঠিত ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ডের বড় অংশ প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হচ্ছে, বিপদে পড়া শ্রমিকদের সহায়তায় নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এখনো কম দক্ষ শ্রমিক রপ্তানি করছে স্বল্প মজুরির বাজারে। বিএমইটির প্রশিক্ষণগুলো স্বল্পমেয়াদি, দুর্বলভাবে স্বীকৃত এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দক্ষ শ্রম অভিবাসনের একটি ধারাবাহিক পথ তৈরি হয়নি।
এই সমন্বয়হীনতাই বাংলাদেশকে নিম্নমূল্যের শ্রম রপ্তানির ফাঁদে আটকে রেখেছে।
(৩)
এদিকে মালয়েশিয়া, উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইউরোপ থেকে আসা প্রতিবেদনে দূতাবাস সেবার দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতার চিত্র উঠে এসেছে। শ্রম উইংগুলো প্রায়ই জনবলস্বল্প, ভুলভাবে বণ্টিত এবং শ্রমিকদের জন্য দুর্লভ।
কুয়ালালামপুরে সাত বছর ধরে বসবাসরত এক বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক বলেন, ‘আমরা দূতাবাসে গেলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে বলে বা পরে আসতে বলে। ফোন ধরেই না। মালিকের সঙ্গে সমস্যা হলে কোনো দিকনির্দেশনা পাই না।’
তিনি আরও জানান, দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা অনেক সময় ‘সমস্যা সমাধানের বদলে বাধা তৈরি করেন’। ফলে জরুরি অবস্থাতেও শ্রমিকদের বেসরকারি দালালের কাছে যেতে হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার এখনো মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার খুলতে পারেনি। আগের বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়টি বাজারও পুনরুজ্জীবিত করতে পারেনি।
অভিজ্ঞমহল সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী বছর বিদেশে কর্মী পাঠানো হঠাৎ কমে যেতে পারে।
এমনকি বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গন্তব্য সৌদি আরবেও এখন নতুন কড়াকড়ি আসছে-তাকামুল সনদ, ইকামা প্রক্রিয়ায় দেরি, বেতন পরিশোধে বিলম্ব ও চাকরি বদলের জটিলতা শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘এই চাপগুলো একটি বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। পুরো ব্যবস্থা একটি বাজারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরবে সামান্য নীতিগত পরিবর্তনই পুরো ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।’
মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক নিলয় মজুমদার বলেন, ‘আমরাই দেশে ডলার পাঠাই। কিন্তু বিপদে পড়লে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।’
বাংলাদেশ এখনো রেমিট্যান্সকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু যারা সেই রেমিট্যান্স এনে দেন, সেই শ্রমিকদের অগ্রাধিকার নেই।
আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। তাদের শক্ত হাতেই আমাদের সঞ্চয় সমৃদ্ধি হচ্ছে। তাদের শক্ত হাত আরও শক্ত হবে যদি এসব শ্রমিককে যথেষ্ট দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো যায়। ইনশাআল্লাহ সেই কাজ করতে হবে দেশের সরকারকেই।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
তুরস্ক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনকারী দেশ। তুরস্কের সামরিক বাহিনী বেশ আধুনিক, ফলে দেশটি থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া এবং সমরাস্ত্র কেনা---দু'দিক থেকেই লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ।
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গঃ স্বদেশের প্রতি মুহব্বত দাবিদার মুসলমান এবং স্বদেশের প্রতি আঘাত।
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাজারে ভয়ংকর ঘন চিনি মিথ্যা ঘোষণায় আসছে আমদানি নিষিদ্ধ ঘন চিনি পুরুষত্বহানি, মূত্রাশয়ে ক্যান্সারের তথা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এই ঘন চিনি বন্ধে সরকারকে এখনি জিহাদ ঘোষণা করতে হবে
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার আসলে পশু প্রবৃত্তি চরিতার্থের অধিকার। জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘ কমিশনের কার্যালয় দুটোই চরম ঘৃণা ও ধিক্কারের সাথে পরিত্যাজ্য ও প্রত্যাখান যোগ্য। এদের প্রতিহত করা ঈমানী দায়িত্ব। জিহাদী কর্তব্য। যে জিহাদে গাজী হওয়ার বিকল্প নেই- ইনশাআল্লাহ।
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দেশে সাড়ে ৩ কোটি শুধু শিশুই সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এবং সব প্রাপ্ত বয়স্করাও ক্ষতিগ্রস্ত সিসার ক্ষতি থেকে বাঁচতে সুন্নতী তৈজসপত্র ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের জিনিস ক্রয়ে নিবেদিত হতে হবে ইনশাআল্লাহ
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ব্যাপকভাবে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হয়রানী জান-মাল এবং সম্মান হিফাজতে সরকারকে এখনি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। ইনশাআল্লাহ!
১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দৈনন্দিন ৩২ বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করলেও মুসলমান কি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শুধু পাঠের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে? ফিকির আর আমল কী অধরাই থাকবে?
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দেশের ফসলী জমিতে কমছে জৈবসারের ব্যবহার, বাড়ছে রাসায়নিক সার। সরকারের উচিত আইন করে জৈবসার ব্যবহার ও জৈবসারের জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তুকি-প্রণোদনা প্রদান করা।
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্যসব কিছুর চেয়ে গ্রন্থাগারের বিস্তার ও মান উন্নয়নে স্মার্টলি কাজ করতে হবে ইনশাআল্লাহ
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নাটক-সিনেমার মাধ্যমে মুসলিম প্রজন্মকে দ্বীন ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরকালের কথা স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহকে বিধর্মীদের এসব ষড়যন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শিশু কিশোরদের মাঝে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ভয়াবহ এবং মারাত্মক ঝুকিপূর্ণভাবে বাড়ছে। শিশু-কিশোরদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে জরুরীভাবে নজর দেয়া উচিত ইনশাআল্লাহ।
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা শিশুরাও এখন মাদকের বাহক, ক্রেতা, এমনকি মওজুদকারক কেবলমাত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনায় মদ ও মাদকের প্রতি কঠিন ঘৃণাবোধের সঞ্চার সম্ভব
০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












