তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (২)
, ২০ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ:
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওলামায়ে সূদের প্রতি বদ দোয়া করেছেন। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْلٌ لِّاُمَّتِىْ مِنْ عُلَمَاءِ السُّوْءِ يَتَّخِذُوْنَ هٰذَا الْعِلْمَ تِجَارَةً يَبِيْعُوْنَهَا مِنْ اُمَرَاءِ زَمَانِهِمْ رَبَحًا لِّاَنْفُسِهِمْ لَا اَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَهُمْ
“হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের ওলামায়ে সূ’দের জন্য জাহান্নাম; যারা সম্মানিত ইলিম মুবারক উনাকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের যামানার আমীর-উমরা, রাজা-বাদশাহ্দের কাছে অর্থ ও পদ লাভের জন্য তা বিক্রি করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন তাদের এই ধর্মব্যবসায় কখনো বরকত না দেন। ” (দায়লামী শরীফ ৪/৩৯৮, রবীউল আবরার ৪/৩৮, আল গ্বরাইব ২৬৫৫ পৃ. কানযুল উম্মাল ১০/২০৫ জামিউল আহাদীছ ২২/৪৮০, জামউল জাওয়ামি’ ১০/৭২৩ ইত্যাদি)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার হাক্বীক্বত হলো: ওলামায়ে সূদের পরিণতি হলো- তারা জাহান্নামী হবে। তাদের আলামত হলো:
১. তারা ইলম অর্জন করবে ব্যবসার জন্য।
২. তারা আমির-ওমরা, রাজা-বাদশাহ্, রাষ্ট্রপতি, উজির-নাজিরদের কাছে ইলম বিক্রি করবে। অর্থাৎ ইলম উনার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা-পয়সা, ক্ষুদ-কুড়া সংগ্রহ করবে।
৩. ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য।
৪. তাদের ব্যবসায় কোন দিন লাভবান হবে না।
সেটাই বর্তমান যামানার ওলামায়ে সূ’দের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
ওলামায়ে সূরা হচ্ছে ভয়ানক ফিতনার কারণ। এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَنَا مِنْ غَيْرِ الدَّجَّالِ اَخْوَفُ عَلَيْكُمْ مّـِنَ الدَّجَّالِ فَقِيْلَ وَمَا هُوَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُلَمَاءُ السُّوْءِ
“আমি তোমাদের ব্যাপারে এক সম্প্রদায়কে দাজ্জালের চেয়েও অধিক বেশি ভয়ঙ্কর মনে করি (যাদের ফিতনা হবে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অনেক বড় কঠিন ও ভয়ঙ্কর)। তখন একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটা কোন্ সম্প্রদায়? জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ওলামায়ে সূ’। অর্থাৎ ওলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী মালানাদের ফিতনাই হচ্ছে দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অনেক বড় কঠিন ও ভয়ঙ্কর ফেৎনা। ” না‘ঊযুবিল্লাহ! (ই’জাযুল কুরআন লিস সুয়ূত্বী ৩/৫২০-৫২১, বিদায়াতুল হিদায়াহ্ ১/২)
উল্লেখ্য এই সকল ওলামায়ে সূ’রা দাজ্জালের থেকেও অনেক বড় ও কঠিন এবং ভয়ঙ্কর ফিতনাকারী। অর্থাৎ দজ্জাল ঈমানদারদের যতটুকু ঈমানী ক্ষতি করবে, ওলামায়ে সূরা তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করবে।
এই জন্যই হুজ্জাতুল ইসলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
ایک زمانہ بدنام علماء سوء
بہتر از صد سال طاعت بے ریا
“সামান্য সময় ওলামায়ে সূদের হাক্বীক্বত প্রকাশ করা একশত বৎসর রিয়াহীন অর্থাৎ মক্ববুল ইবাদত থেকেও উত্তম। ”
এর ব্যাখ্যা হলো- একজন মানুষ যদি কোনো ওলামায়ে সূ’র ধোঁকাতে পড়ে যায়, তাহলে তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যায়, সে বিভ্রান্ত-গোমরাহ্ হয়ে যায়। ১০০ বৎসর দ্বারা বুঝানো হয়েছে, একটা মানুষের জীবন। অর্থাৎ একজন মানুষ যদি কোনো ওলামায়ে সূ’র বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় বা ধোঁকায় পড়ে যায়, তাহলে তার জীবনটা বরবাদ হয়ে যায়। কারণ, সে তার গুমরাহীতে গোমরাহ্ হয়ে বেঈমান হয়ে মারা যাবে। তাই, ওলামায়ে সূ’দের বিভ্রান্তি থেকে, কুফরী থেকে, বেঈমানী থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর জন্য ওলামায়ে সূ’দের হাক্বীক্বত প্রকাশ করাটা ফরয। সেজন্য স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ওলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত প্রকাশ করেছেন, করতে বলেছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ওলামায়ে ‘সূ’দের হাক্বীক্বত প্রকাশ করেছেন, করতে বলেছেন।
এই কারণেই বর্তমান যামানার ওলামায়ে সূ’দের হাক্বীক্বত প্রকাশ করে এই কিতাবখানা রচনা করা হয়েছে। যাতে মানুষ তাদের খপ্পর থেকে নিজেদের ঈমান, আমল ও আক্বীদাকে হিফাযত করতে পারে।
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মুসলমানদেরকে এই সকল মূর্তিপূজারী, মুশরিক ও দাজ্জালের চেয়ে কঠিন ভয়ঙ্কর ফেতনাবাজ ওলামায়ে সূ’দের ফেতনা থেকে হিফাযত করুন। (আমীন!)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












