ঢাকায় মানব বসতির ইতিহাস আড়াই হাজার বছরের! পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্মতাত্ত্বিক খননে মিলেছে প্রাচীন মানব বসতির আলামত
, ১৭ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পাঁচ মিশালী
বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মানব বসতির ইতিহাস। এতদিনের জানা ইতিহাসের বাইরে সুপ্রাচীন ঢাকার সমৃদ্ধ ও উন্নত জনপদের প্রমাণ মিলছে, যা ৪০০ বছরের ঢাকার ইতিহাসকে আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে বদলে ফেলতে পারে! যার সঙ্গে সুপ্রাচীন কালের পুর্নগর বা মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বরের ইতিহাসের সদৃশ রয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকরা বলছে, প্রাচীন দুর্গের সন্ধানে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিচালিত এক প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আদি-ঐতিহাসিক যুগের গ্লেজড ও রোলেটেড মৃৎপাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা ঢাকাকে ভূ-মধ্যসাগর ও পারস্য বা চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বা যোগাযোগের সম্পর্ককে নির্দেশ করে। এ বাণিজ্যপথ বা সিল্ক রুটের সঙ্গে যুক্ত ছিলো আদি-ঐতিহাসিক যুগে উয়ারী-বটেশ্বর ও পুর্নবর্ধন বা মহাস্থানগড়ও।
গবেষকরা আরো বলছে, প্রচলিত ধারণা ও তথ্যের ভিত্তিতে আজ অবধি ঢাকার ৪০০ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাসই শুধু পাঠ করে এসেছি। বিগত ১৬১০ সালে সুবেদার ইসলাম খান ঢাকাকে সুবে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। প্রচলিত তথ্যমতে, ১৬১০ সাল থেকে আজ অবধি ঢাকা পাঁচ বার লাভ করেছে রাজধানীর মর্যাদা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণার এক তথ্য বলছে, সমৃদ্ধ শহর হিসেবে ঢাকা সাত বার লাভ করেছিলো রাজধানীর মর্যাদা, যা বিশ্বের ইতিহাসে একেবারেই বিরল ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকার আদি ইতিহাসের সন্ধানে প্রথম বারের মতো ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয়। খননে ঢাকার ইতিহাসের বাঁক ফেরানোর নিদর্শন পাওয়া যায়। কারা হাসপাতালের সামনে ও প্রধান কারা ফটকের কাছাকাছি কিছু জায়গার ভূ-উপরিভাগে জরিপের মাধ্যমে প্রাচীন ইট ও মৃৎপাত্রের টুকরার উপস্থিতি দেখে তিনটি স্থানের ১১টি স্পটে পরীক্ষামূলক উতখনন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অধ্যাপক ও খননকাজের তত্ত্বাবধায়ক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় প্রায় সব উতখনন খাদে প্রাচীন মানব বসতির আলামত পাওয়া গেছে, যা পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্দেশনা দেয় ঢাকার ইতিহাস শুধু কয়েক শ বছরের নয়, প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার বছরের। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দূরত্ব অনুযায়ী প্রতœস্থানসমূহের অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আদর্শ ভূমিরূপে প্রাচীনকাল থেকেই ঢাকায় গড়ে উঠেছিলো এক সমৃদ্ধ মানব বসতি ও সভ্যতা।
এ প্রতœতত্ত্ববিদ জানান, তার নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল প্রতœতত্ত্ব গবেষক ও শিক্ষার্থী ২০১৭-১৮ সালে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ করেন। তারা কারাগারের প্রধান ফটকের সামনের অংশ, রজনীগন্ধা ভবনের আঙিনা, কারা হাসপাতালের সামনের অংশ, ১০ সেল ও যমুনা ভবনের পশ্চিম এলাকা-এই পাঁচ স্থানে ১১টি খননকাজ করেন। এতে তারা একটি প্রাচীন দুর্গের দেওয়াল, কক্ষ, নর্দমা, কূপের সন্ধান পান। এছাড়া এখানে কড়ি, মোগল আমলের ধাতব মুদ্রা, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির স্থাপত্যসহ অনেক রকম প্রতœনিদর্শন পেয়েছে।
প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে প্রমাণিত হয়েছে, ইসলাম খানের আগমনের অনেক আগেই ঢাকায় একটি প্রাসাদ দুর্গ ছিলো। সুবেদার ইসলাম খানের সেনাপতি ও লেখক মির্জা নাথান তার ‘বাহারীস্তান-ই-গায়েবী’ বইতে ঢাকায় যে দুর্গের কথাটি উল্লেখ করেছিলেন, সেটিকে পরে ইতিহাসবিদরা ‘ঢাকাদুর্গ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। এই দুর্গে ইসলাম খান বসবাস করেছেন। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে পাওয়া নিদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের বেটা ল্যাবরেটরিতে কার্বন-১৪ পরীক্ষার পর প্রমাণ পাওয়া গেছে, এগুলো ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দের। ফলে এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যাচ্ছে, এই দুর্গ ইসলাম খানের আসার আগেই নির্মিত হয়েছিলো এবং এটিকে ‘ঢাকাদুর্গ’ নয়; বরং ‘ঢাকার দুর্গ’ বলা সংগত।
অধ্যাপক সুফি বলেন, ইসলাম খানের আগে ঢাকার ইতিহাস স্পষ্ট নয়। নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদসহ কিছু নিদর্শন থেকে এটা জানা গিয়েছিলো, ইসলাম খানের আগমনের আগেও এখানে সমৃদ্ধ জনপদ ছিলো। কিন্তু এই খননের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, শুধু জনপদই নয়, এখানে অন্তত বড় একটি প্রাসাদ দুর্গ ছিলো এবং সমৃদ্ধ নগর ছিলো। যেখানে সুবেদার ও তার সঙ্গে আসা ৫০ হাজার সেনার বিশাল বাহিনী বসবাস করেছিলেন।
এই প্রতœতত্ত্ববিদ আরো বলেন, এটা আমাদের পরীক্ষামূলক খননকার্য। এ খননকার্য্যে আমরা অংশবিশেষ পেয়েছি। এর মধ্য দিয়ে এ এলাকা জুড়ে ইতিহাসের বাঁক ফেরানোর আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই খননকার্য আমাদের আর করতে দেওয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে প্রফেসর মুনতাসীর মামুন নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিলেন। নানাভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাধা দিয়েছিলেন। যেহেতু আমরা বড় একটি আবিষ্কার করেছি। তিনি আবার ঢাকা বিশেষজ্ঞ। বাস্তবায়ন কমিটিতে ছিলেন। তার নেতৃত্ব ছিলো। তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পর্কে প্রচার পর্যন্ত করতে দেননি। তিনি নানাভাবে বাধা দিয়েছেন। কি যেন গোপন তথ্য তার কাছে আছে। সেজন্য এটা করা যাবে না-এমনটাই বারবার বলেছিলেন। অথচ এসব খননকার্য কোনো প-িত ইতিহাসবিদের জন্য নয়, দেশবাসীর জন্য। দেশের মানুষ গবেষণাপত্র পড়বে না। পড়বে গণমাধ্যমের সংবাদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
দুই শতাব্দীর সাক্ষী রূপসা জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাকিস্তানে ঐতিহাসিক ১২০ বছরের ‘বাবা জি’ মসজিদ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতারে যেসব পানীয় পানে দূর হবে ক্লান্তি
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কদম মুবারকে কদম রসূল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৌদি আরব কেন লাখ লাখ উটকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে কারণে ইফতার-সাহরিতে খেজুর খাবেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নারীদের জন্য লালশাক খাওয়া যে কারণে জরুরি
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে বক চয়, জানুন উপকারিতা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইফতারে হালিম কি স্বাস্থ্যসম্মত?
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে রমজানে যত প্রথা
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিশ্বে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষে কারা?
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন?
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












