ডিসলেক্সিয়া সম্পর্কে জানেন, কেন হয়?
, ১৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) চিকিৎসা
ডিসলেক্সিয়ার প্রধান ধরন মূলত ৩টি। তবে, কিছু ক্ষেত্রে মিশ্র ধরন দেখা যায়।
১. ফনোলজিক্যাল ডিসলেক্সিয়া: এটি সবচেয়ে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ধরন। এই ধরনের ডিসলেক্সিয়ায় শব্দের ধ্বনি বোঝা ও বিশ্লেষণে সমস্যা হয়। এর ফলে নতুন শব্দ পড়তে কষ্ট হয়, শব্দ ভেঙে পড়তে পারে না, অচেনা শব্দ পড়তে গিয়ে আটকে যায়, বানান শেখা কঠিন হয়।
২. সারফেস ডিসলেক্সিয়া: এক্ষেত্রে ব্যক্তি শব্দের চেহারা দেখে দ্রুত চিনতে পারে না, যেমন: পরিচিত শব্দও ধীরে পড়ে, অনেক সময় শব্দ বানান করে পড়ে, নিয়মিত শব্দ চিনতে সমস্যা হয়।
৩. ভিজ্যুয়াল ডিসলেক্সিয়া: চোখে দেখা তথ্যগুলো গুলিয়ে যায়, অক্ষর ও শব্দ দেখে আলাদা করতে সমস্যা হয়। যেমন: ‘ন’ ও ‘ফ’ এবং ‘ঢ়’ ও ‘য়’ গুলিয়ে ফেলে, শব্দ উল্টো দেখে বা লেখে, লাইনে পড়তে গিয়ে হারিয়ে যায়, লেখা ঝাপসা বা নড়াচড়া করছে মনে হয়।
৪. মিশ্র ডিসলেক্সিয়া: একাধিক ধরনের সমস্যা একসঙ্গে থাকে। ব্যক্তির মধ্যে ফনোলজিক্যাল ও ভিজ্যুয়াল সমস্যা আবার ফনোলজিক্যাল ও সারফেস সমস্যা একসঙ্গে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে পড়া, লেখা, বানান সবদিকেই সমস্যা হয়, শেখার গতি খুব ধীর ও বেশি ভুল হয়।
লক্ষণ:
সাধারণত বয়স অনুযায়ী (শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক) লক্ষণগুলো ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়-
ছোট শিশু: এই বয়সে মূলত ভাষা শেখায় প্রাথমিক সমস্যা দেখা যায়, যেমন: কথা বলতে দেরি হওয়া, নতুন শব্দ শিখতে সমস্যা, মনে রাখতে কষ্ট, শব্দের ধ্বনি আলাদা করতে সমস্যা, নাম, রং বা সাধারণ শব্দ বারবার ভুলে যাওয়া, নির্দেশনা বুঝতে সমস্যা। এই পর্যায়ে লেখাপড়া শুরু না হলেও ভাষাগত দুর্বলতা বোঝা যায়।
স্কুলগামী শিশু: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, কারণ লেখাপড়া শুরু হয়।
পড়ার সমস্যা: ধীরে ধীরে পড়া, শব্দ ভেঙে পড়তে না পারা, পড়ার সময় লাইন হারিয়ে ফেলা, একই লাইন বারবার পড়া।
লেখার সমস্যা: বানান ভুল বেশি করা, অক্ষর উল্টে লেখা (ন → ফ, ঢ় → য়), অগোছালো হাতের লেখা, একই শব্দ ভিন্নভাবে লেখা।
বোঝার সমস্যা: পড়া বুঝতে সমস্যা, নির্দেশনা মনে রাখতে কষ্ট, পড়ার ধারাবাহিকতা ধরতে না পারা।
কিশোর বয়স: এই বয়সে চাপ বাড়লে সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়। পড়াশোনায় ধীরগতি, পরীক্ষায় সময় কম পড়ে যাওয়া, বড় লেখার অংশ বুঝতে কষ্ট, নোট নিতে সমস্যা, শব্দ মনে রাখতে সমস্যা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, অনেক সময় তারা বুদ্ধিমান হলেও ফলাফল খারাপ হয়।
প্রাপ্তবয়স্ক: ডিসলেক্সিয়া অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও থেকে যায়। এসময় দ্রুত পড়তে সমস্যা, ইমেইল বা ডকুমেন্টে বানান ভুল, নাম, তারিখ মনে রাখতে সমস্যা, নির্দেশনা ভুল বোঝা, কাজ গুছিয়ে করতে কষ্ট হওয়া।
ডিসলেক্সিয়ায় করণীয় ও চিকিৎসা:
অধ্যাপক ডা. এম এস জহিরুল বলেন, ডিসলেক্সিয়া হলে প্রথমেই বুঝতে হবে এটি কোনো রোগ নয় যা একটিমাত্র ওষুধে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। এটি হলো শেখার ধরনে স্নায়বিক ভিন্নতা। তাই চিকিৎসা বলতে মূলত বিশেষ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়ক থেরাপি বোঝায়।
সঠিকভাবে শনাক্ত করা: নির্দিষ্ট কোনো একটি পরীক্ষার মাধ্যমে ডিসলেক্সিয়া নির্ণয় করা কঠিন। মূলত বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এটি নির্ণয় করতে হয়। পড়াশোনার দক্ষতা পরীক্ষা, মনোবিজ্ঞানী ও স্নায়ুবিকাশ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন, পঠন, বানান ও বোধগম্যতা পরীক্ষা, কখনো স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট করে ডিসলেক্সিয়া আছে কি না, তা শনাক্ত করা হয়।
বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতি: এটি ডিসলেক্সিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে শেখানো, ছোট ছোট অংশ পড়ানো, বারবার অনুশীলন, মাল্টিসেন্সরি লার্নিংয়ের (চোখ, কান, হাত একসঙ্গে ব্যবহার) মাধ্যমে শেখানো হয়।
স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি: যাদের শব্দ বোঝা বা উচ্চারণে সমস্যা বেশি থাকে তাদের জন্য কার্যকরী। এর মাধ্যমে শব্দের ধ্বনি বোঝা সহজ হয়, পড়ার গতি বাড়ে, ভাষা বোঝার ক্ষমতা উন্নত হয়।
পারিবারিক সহায়তা: ডিসলেক্সিয়া আক্রান্তের চিকিৎসায় পারিবারিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে ধৈর্য ধরে শেখাতে হবে, ভুল করলে শিশুকে বকা না দেওয়া, ছোট ছোট সফলতায় উৎসাহ দেওয়া, তুলনা না করা (অন্যরা পারে তুমি পারো না-এসব বলা থেকে বিরত থাকা)।
সরাসরি ওষুধে ডিসলেক্সিয়া ভালো হয়ে যাবে-এমন কোনো চিকিৎসা নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ, বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি, সহায়ক পরিবেশ দিলে ডিসলেক্সিয়া ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অনেকেই স্বাভাবিক জীবন ও সফল ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একটি নয়, মানুষের মস্তিষ্ক আসলে দুটি আলাদা অঙ্গ!
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আলঝেইমার রোগ
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের লক্ষণ ফুটতে পারে চোখ-মুখেই : গবেষণা
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ব্যথা না পাওয়ার বিরল রোগ ‘সিপা’
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্লিনিকাল ট্রায়ালে প্রমাণিত- ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কালোজিরা কার্যকর
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডেঙ্গু নাকি সাধারণ জ্বর বুঝবেন কীভাবে?
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
চুম্বকের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম রক্তনালি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিৎসা কী?
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
লিভারের নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস ডি, অবহেলা করবেন না
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইস্তেঞ্জায় ফেনা : অবহেলা করবেন না
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নবজাতকের ওজন, স্বাভাবিক বৃদ্ধি-হ্রাস এবং গড় ওজন)
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শীতে ত্বক ও চুলের যতেœ খাবার
২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












