খুলনায় ধুন্দল চাষে স্বাবলম্বী আলম শেখ
, ৩০ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) দেশের খবর
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ফুলগাছি গ্রামের বাসিন্দা আলম শেখ বাণিজ্যিকভাবে ধুন্দল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সম্প্রতি ডুমুরিয়ার নবনির্মিত টিপনা-শোভনা সড়ক ধরে যাওয়ার সময় গোনালী গ্রামে চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর ধুন্দল ক্ষেত। সবুজ লতা ভর্তি জমিতে ফুটে থাকা উজ্জ্বল হলুদ ফুল পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে।
বর্ষার শুরুতে এমন সবজি চাষ করে অনেক কৃষকই ভালো লাভের মুখ দেখছেন। গোনালী, টিপনা, ভদ্রদিয়া, বরাতিয়া, শোভনা, বান্দা ও পেরিখালি- এসব গ্রামে ধুন্দল চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে এই ফল বনজ উদ্ভিদ হিসেবে জন্মাত, এখন তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান ও জীবিকা দুটোই বাড়ছে।
আলম শেখ বলেন, ‘আমি নিয়মিত সবজি চাষ করি। এখন ধুন্দল সহ আরও কিছু সবজি চাষ করছি। কম রাসায়নিক ও অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষ করি। নিজেই ক্ষেতের দেখাশোনা করি। নিজ পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও আয় হয়।’
তিনি জানান, আগে ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন টানা দুই বছর ধরে প্রায় ৪০ শতক জমিতে ধুন্দল চাষ করছি। চৈত্র থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে তিন মণের বেশি ধুন্দল মাঠ থেকে তুলেছি।
আষাঢ়ের মাঝামাঝি প্রথম ফসল কাটা শুরু হয়। আলম বলেন, প্রথম দিকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। ধুন্দুল ছাড়াও করলা, বরবটি, শসা ইত্যাদি চাষ করে বছরে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা আয় হয়।
তবে সমস্যাও রয়েছে। তিনি জানান, বন্যার কারণে আরও ৬০ শতক জমি চাষ করতে পারেননি। জমি তলিয়ে গেছে।
তবে তিনি জানান, এমন কঠিন সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই) পাশে ছিল।
টিপনা গ্রামের কৃষক ফারুক সরদারও একই রকম সাফল্যের গল্প শোনান। তিনি বলেন, আগে অল্প জমিতে ধুন্দল চাষ করতাম। এখন বাণিজ্যিকভাবে করছি। তিন বিঘা জমি থেকে প্রতি মৌসুমে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা আয় হয়।
খুলনা কৃষি বিভাগ জানায়, আগে থেকেই ধুন্দল চাষ হতো, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা বাণিজ্যিক রূপ পেয়েছে। কম খরচ, বেশি চাহিদা ও দ্রুত ফলন পাওয়ায় চাষ বেড়েছে। চলতি বছর উৎপাদনও বেড়েছে।
বীজ বপনের ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর ফসল তোলা শুরু হয় এবং ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস পর্যন্ত তা চলে। শুরুতে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন তা ২৫-৩০ টাকায় নামছে।
প্রতি বিঘা (প্রায় ৩৩ শতক) জমি থেকে গড়ে ৫০ মণ (প্রায় ২ হাজার কেজি) ধুন্দল পাওয়া যায়। খরচ পড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা। আর আয় হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত, যা অন্য অনেক ফসলের চেয়ে লাভজনক।
ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, ‘ডুমুরিয়ার সবজি শুধু খুলনা নয়, আশপাশের জেলাতেও যাচ্ছে। ধুন্দল যেমন পুষ্টিকর, তেমনি লাভজনক। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশ থেকে পাট কিনবে পাকিস্তান
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘আর কোনো ট্রিপ পামু না, আগে গাড়ি ঠিক করতে অইব’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আশ্রয়কেন্দ্রেও পীড়নের শিকার নারী-শিশুরা
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলো এমপি হান্নান মাসউদ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই -প্রধানমন্ত্রী
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ‘পিওরলি’ আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থা -ফরাসউদ্দিন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই -চিফ প্রসিকিউটর
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বন্যার্তরা সরকারি সহায়তা পাচ্ছে না, প্রশাসনকে দুষলো নাহিদ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের বহুমাত্রিক উদ্যোগ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসনে আসতে পারে নতুন মুখ
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘বের না হলে বাজার করার টাকাও থাকবে না, পেট তো আর বৃষ্টি বোঝে না’
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












