ঘটনা থেকে শিক্ষা :
কাফির মুশরিকদের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখার পরিণতি হতে পারে অনেক কঠিন
, ১৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
কিতাবের মধ্যে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়, হিন্দুস্তানে মহান আল্লাহ পাক উনার একজন জবরদস্ত ওলী ছিলেন উনার বিছাল শরীফ গ্রহণ উনার পর অন্য একজন বুযুর্গ ব্যক্তি উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! আপনি কেমন আছেন? মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী তিনি জওয়াবে বললেন, আপাতত আমি ভালোই আছি কিন্তু আমার উপর দিয়ে এক কঠিন সময় অতিবাহিত হয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমার ইন্তিকালের পর আমাকে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে পেশ করেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বলেন, “হে হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম! আপনারা তাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?
হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, মহান আল্লাহ পাক! আমরা উনাকে আপনার খাছ বান্দা হিসেবে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য নিয়ে এসেছি।
এ কথা শ্রবণ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, তার হাশর নাশর হবে হিন্দুদের সাথে, কেননা সে পূজা করেছে।
এ কথা মুবারক শুনে আমি ভয় পেয়ে গেলাম এবং আমার সমস্ত শরীর ভয়ে কাঁপতে লাগল। তখন আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজু পেশ করলাম, “আয় মহান আল্লাহ পাক আমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে কেন, আমি তো সবসময় আপনার এবং আপনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফরমাবরদার ছিলাম, কখনো ইচ্ছাকৃত নাফরমানি করিনি এবং পূজা করা তো দূরের কথা, মন্দিরের নিকটবর্তীও কখনো হইনি।
মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বললেন, তুমি সেই দিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন হিন্দুস্থানে হোলি পূজা হচ্ছিল। তোমার সামনে পিছনে, ডানে বামে, উপরে নিচে সমস্ত গাছপালা তরুলতা পশু পাখি কীটপতঙ্গ সবকিছুই রং দেয়া হয়েছিল। এমন অবস্থায় তোমার সামনে দিয়ে একটি গাধা যাচ্ছিল, যাকে রং দেয়া হয়নি। তখন তুমি পান চিবাচ্ছিলে, তুমি সেই গর্দভের গায়ে এক চিপটি পানের রঙিন রস নিক্ষেপ করে বলেছিলে, হে গর্দভ! তোমাকে তো কেউ রং দেয়নি, এই হোলি পূজার দিনে আমি তোমাকে রং দিয়ে দিলাম। এটা কি তোমার পূজা হয়নি? তুমি কি জানো না “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে। সুতরাং তোমার হাশর-নশর হিন্দুদের সাথে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন এই কথা বললেন, তখন আমি লা-জাওয়াব হয়ে গেলাম এবং ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম এবং বললাম, আয় বারে ইলাহী! মহান আল্লাহ পাক! আমি এটা বুঝতে পারিনি।
মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন বললেন, হ্যাঁ তোমাকে অন্যান্য আমলের কারণে ক্ষমা করা হয়েছে।
এই ঘটনা থেকে জানা গেল যে, এই বুযুর্গ ব্যক্তি উনার সমস্ত আমল ভালো ছিল, তিনি না জেনে না বুঝে ওই আমলটা করেছিলেন, এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
-তাসনীমে শিরিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৪)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তওবা
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৩)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












