মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৩)
, ২১ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
ধ্বনিত হয় এমন অলংকার পরিধান করা হারাম:
যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ -
অর্থ: মহিলারা যেন এমনভাবে পদচারণা না করে, যাতে তাদের অলংকারের গোপনীয়তার শব্দ পর-পুরুষ শুনতে পায়। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩১)
অলংকারের মধ্যে যে সকল অলংকারে শব্দ বা ঝনঝনি সৃষ্টি করে এধরনের অলংকার পরিধান করা নাজায়িয। খাছ করে নূপুর পরিধান করা নাজায়িয।
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُوسَى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ حَضْرَتْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَحَدَّثَ حَضْرَتْ سَالِمٌ عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جُلْجُلٌ-
অর্থ: হযরত আবূ বকর ইবনে মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বসা ছিলাম। তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ঐ কাফেলার সাথে থাকেন না, যাদের মধ্যে নূপুর রয়েছে। (নাসায়ী শরীফ)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت اُمِّ الْمؤْمِنِيْنَ السّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ جُلْجُلٌ وَلَا جَرَسٌ وَلَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جَرَسٌ-
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একথা বলতে শুনেছি যে, ঐ গৃহে সম্মানিত রহমত উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে নূপুর পরিধান করে এবং অলংকারের শব্দ হয়। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা ঐ কাফেলার সাথে থাকেন না, যাদের মধ্যে ঘণ্টা বা অলংকারের শব্দ রয়েছে। (সুনানে নাসায়ী)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت بُنَانَةَ مَوْلَاةِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَّانَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه عَنْ حَضْرَتْ اُمّ الْمُؤْمِنِيْنَ سَيِّدَتنَا الثَّالِثَة الصِّدِّيْقَة عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ بَيْنَمَا هِيَ عِنْدَهَا إِذْ دُخِلَ عَلَيْهَا بِجَارِيَةٍ وَعَلَيْهَا جَلَاجِلُ يُصَوِّتْنَ فَقَالَتْ لَا تُدْخِلْنَهَا عَلَيَّ إِلَّا أَنْ تَقْطَعُوا جَلَاجِلَهَا وَقَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيهِ جَرَسٌ-
অর্থ: হযরত আব্দুর রহমান ইবনে হাসসান আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একজন আযাদকৃত দাসী হযরত বুনানা রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা তিনি উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারকে অবস্থান মুবারক করতেছিলেন, এমন সময় একজন বালিকা শব্দ করে এমন অলংকার তার পায়ে পরিধান করে উনার নিকট প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে প্রবেশ করোনা, যতক্ষণ না তুমি তোমার এই পায়ের অলংকার কেটে নিবে। তখন তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একথা বলতে শুনেছি যে, ঐ গৃহে সম্মানিত রহমত উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে অলংকারের শব্দ হয়। (আবূ দাউদ শরীফ, মুসনাদে আহমদ-৬/২৪২, মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/১৭৭, ফতহুর রব্বানী লি-তারতীবে মুসনাদিল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানী-১৭/২৮১, আল-মাফাতীহু ফী শারহিল মাছাবীহি-৫/৩২, তুহফাতুল আহওয়াজী-৫/২৯৩)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت عَلِيّ بْن سَهْلِ بْنِ الزُّبَيْرِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَخْبَرَهُ أَنَّ مَوْلَاةً لَهُمْ ذَهَبَتْ بِابْنَةِ حَضْرَتْ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه إِلَى حَضْرَتْ فَاروْق اَعْظَم عَلَيْهَ السَّلَام وَفِي رِجْلِهَا أَجْرَاسٌ فَقَطَعَهَا حَضْرَتْ فَاروْقٌ اَعْظَمُ عَلَيْهَ السَّلَام ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ مَعَ كُلِّ جَرَسٍ شَيْطَانًا-
অর্থ: হযরত আলী ইবনে সাহাল ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, তাদের একজন আযাদকৃত কৃতদাসী ছিলেন, উক্ত দাসিটি পায়ে নূপুর পরিধান করে হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত বানাত উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তার পায়ের নূপুর কেটে দিলেন। অতঃপর বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয়ই প্রত্যেক নূপুরের সাথে শয়তান থাকে। (আবূ দাউদ শরীফ, আল-মাফাতীহু ফী শারহিল মাছাবীহ-৫/৩২, শরহু মাছাবীহিস সুন্নাহ লিল-বাগাভী-৫/৪৩, ফয়দ্বুল ক্বদীর-২/৫২৩, তুহফাতুল আহওয়াজী-৫/২৯৩)
-আল্লামা মুহম্মদ মুফিদুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (৩)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলতের অধিকারী
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যিকিরের মাধ্যমে ইলমে তাসাউফ অর্জন করা ফরয (৩য় পর্ব)
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












