সুন্নত মুবারক তা’লীম
কদমবুছী করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক; ইহানত করা কাট্টা কুফরী (৩)
, ১৭ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও একে অপরের হস্তবুছী ও কদমবুছী করেছেনঃ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ قَبَّلَ يَدَ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَاَخْرَجَ اَيْضًا اَنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ الاِمَامَ الْاَوَّلَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَبَّلَ يَدَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ العَبَّاسِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَرِجْلَهٗ-
অর্থঃ- হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিয়েছেন। তিনি এটাও বর্ণনা করেন যে, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত ও পা মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিয়েছেন। (ফতহুল বারী জিঃ ১১; পৃঃ ৫৭,- তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী শরহে তিরমিযী জিঃ ৭; পৃঃ৫২৮)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَبَّلَ حَضْرَتْ خَيْشَمَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَدِىْ وَقَالَ حَضْرَتْ مَالِكٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَبَّلَ حَضْرَتْ طَلْحَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَدِىْ-
অর্থঃ- হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত খায়শামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমার হাতে বুছা (চুম্বন) দেন এবং হযরত মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমার হাতে বুছা (চুম্বন) দেন। (মুছান্নিফ ইবনে আবী শায়বা জিঃ ৮; পৃঃ ৫৬২, তাবাক্বাতে ইবনে সা’দ জিঃ ৬, পৃঃ ২০১)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَقَبَّلَ حَضْرَتْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَدَ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ حِيْنَ اَخَذَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ بِرِكَابِهٖ.
অর্থঃ- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার (ঘোড়ার) লাগাম ধরে থাকা অবস্থায় হযরত যায়িদ ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার হাত মুবারকে বুছা (চুম্বন) দিয়েছেন। (ফাতহুল বারী জিঃ ১১ পৃঃ ৫৬, তিবরানী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ حَضْرَتْ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَامَ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبَّلَ يَدَهٗ.
অর্থঃ- হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার (সম্মানার্থে) দাঁড়াতেন, অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (মহাসম্মানিত হাত মুবারকে) বুছা (চুম্বন) দিতেন। (ফতহুল বারী জিঃ ১১; পৃঃ ৫৭, তুহ্ফাতুল আহ্ওয়াযী শরহে তিরমিযী জিঃ ৭; পৃঃ ৫২৮)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ تَمِيْمِ بْنِ سَلَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا قَدِمَ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ الشَّامَ اسْتَقْبَلَهٗ اَبُوْ عُبَيْدِبْنُ الْجَرَّاحِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فصافه قبل يده فكان تميم يقول تقبيل اليد سنة.
অর্থঃ- হযরত তামীম ইবনে সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি যখন শাম দেশে আসতেন, হযরত আবু ওবাইদা ইবনুল জাররাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে স্বাগত জানাতেন ও তার সাথে মুছাফাহা করতেন এবং দস্ত (হাত) বুছা (চুম্বন) দিতেন। হযরত তামীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, দস্তবুছী সুন্নত। (মুসনাদে আহমদ জিঃ ৩ পৃঃ ৪০৪, ফতহুল বারী জিঃ ১১ পৃঃ ৫৭, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী জিঃ ৭, পৃঃ ৫২৮, মুসান্নিফ ইবনে আবী শায়বা জিঃ ৮, পৃঃ৫৬২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী জিঃ ৭ পৃঃ ১০১,)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (২)
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পুরুষের জন্য দাড়ি ও গোঁফ রাখার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তারতীব মুবারক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“পেট পূর্ণ করে নয়, বরং পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহার করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।”
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পানি পান করার সময় তিন ঢোকে পান করা ও পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












