কথিত ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ে শরঈ ফতওয়া (৩)
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
, ২০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
বর্তমানে তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে দেশ-বিদেশের মানুষ কঠিন ভয়াবহ ফিতনার সম্মুখীন হয়েছে। এ ব্যাপারে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক ফায়ছালা কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
জওয়াব (ধারাবাহিক):
হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার এক বিষয় নয়:
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা:
* পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীল:
১. মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষকে পুরুষ অথবা মহিলা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং সর্বোত্তম ছূরত বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন:
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالْاُنْثٰى
অর্থ : ক্বসম! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার, যিনি পুরুষ ও মহিলা সৃষ্টি করেছেন। (পবিত্র সূরা লাইল : আয়াত শরীফ ৩)
এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিভিন্ন তাফসীরগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছেন,
اِنَّ اللهَ لَمْ يَخْلُقْ خَلْقًا مِنْ ذَوِى الْاَرْوَاحِ لَيْسَ بِذَكَرٍ وَلَا اُنْثٰى
অর্থ : নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পুরুষ ও মহিলা ব্যতীত অন্য কোন জীব বা প্রাণী সৃষ্টি করেননি। অর্থাৎ মানুষসহ সমস্ত প্রাণীই হয়তো পুরুষ অথবা মহিলা। এর বাইরে নয়। (রূহুল বায়ান, ফুতুহুল গইব, তাফসীরে যামাখশারী ইত্যাদি)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
لِلّٰهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَّشَاءُ اِنَاثًا وَّيَهَبُ لِمَنْ يَّشَاءُ الذُّكُوْرَ. اَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّاِنَاثًا وَّيَجْعَلُ مَنْ يَّشَاءُ عَقِيْمًا اِنَّهٗ عَلِيْمٌ قَدِيْرٌ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন সমস্ত আসমান এবং যমীনের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা মেয়ে সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা ছেলে সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন ছেলে ও মেয়ে উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছু জানেন, সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা : আয়াত শরীফ ৪৯-৫০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন,
لَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ فِىْٓ اَحْسَنِ تَقْوِيْمٍ
অর্থ : অবশ্যই আমি মানুষকে সর্বোত্তম ছূরতে সৃষ্টি করেছি। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা তীন : আয়াত শরীফ ৪)
কাজেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মানুষকে পুরুষ অথবা মহিলা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং সর্বোত্তম ছূরত বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! একজন মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার এই ফায়ছালাকে বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে মেনে নেয়া এবং এর উপর সন্তুষ্ট থাকা। সুতরাং কেউ যদি নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার দাবি করে অর্থাৎ কোনো পুরুষ যদি নিজেকে মহিলা দাবি করে অথবা কোনো মহিলা যদি নিজেকে পুরুষ দাবী করে, তাহলে তার অর্থ হলো মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তাকে পুরুষ অথবা মহিলা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এই ফায়ছালার উপর সে সন্তুষ্ট না এবং সে এটা মানেও না; বরং সে এই ফায়ছালার বিরোধীতা করে এবং বিরোধীতা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়ছালার বিপরীতে সে নিজেকে পুরুষ বা মহিলা হিসেবে দাবী করে। যেটা মহান আল্লাহ পাক উনার সমকক্ষ দাবি করার শামিল। না‘ঊযুবিল্লাহ! যা চরম সীমালঙ্গন, সুস্পষ্ট গোমরাহী, কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُهِيْنٌ
অর্থ : আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নাফরমানী করলো, অবাধ্য হলো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলো মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সে ব্যক্তি সেখানে অনন্তকাল যাবৎ অবস্থান করবে। তার জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা’ : আয়াত শরীফ ১৪)
-আল্লামা মুহাদ্দিস মুহম্মদ আমিন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












