উপকূলের লবণাক্ততা ফল উৎপাদনে যে পরিবর্তন এনেছে
, ১৩ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) দেশের খবর
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
এক সময় সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ আশাশুনি ও শ্যামনগরের গ্রামগুলো ছিল আম, কাঁঠাল, জাম ইত্যাদি জাতের ফলগাছে সমৃদ্ধ। বাড়ির আঙিনায় দেখা মিলতো আম, জাম, জামরুল, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, সফেদা, বিলম্বি, জলপাই, কুল, করমচা ও নারকেল গাছ।
কিন্তু গত দুই দশকে ঘূর্ণিঝড় ও নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা বদলে দিয়েছে সেই চিত্র। অনেক এলাকায় বিলুপ্তির পথে চলে গেছে পরিচিত ফলগাছের বহু জাত।
যেখানে আম, কাঁঠাল কিংবা লিচু টিকতে পারছে না, সেখানে নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে তাল, নারকেল, তেঁতুল, কদবেল, সফেদা (ছবেদা) ও কয়েকটি দেশীয় লবণ-সহিষ্ণু ফলগাছ। এসব গাছ শুধু টিকেই থাকছে না, বরং ভালো ফলনও দিচ্ছে। আর সেই ফল এখন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে দেশের বড় বড় আচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে সব ফলগাছ সমানভাবে লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে না। আম ও কাঁঠাল তুলনামূলকভাবে কম লবণ সহনশীল।
অন্যদিকে জাম কিছুটা বেশি সহনশীল হলেও নারিকেল ও তালগাছ উচ্চমাত্রার লবণাক্ত পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারিকেল বেশি লবণাক্ত মাটিতেও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এছাড়া কুল বা বরই ৪ থেকে ৬ ফঝ/স লবণমাত্রার মাটিতেও সন্তোষজনক ফলন দিতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় ফলবাগান সম্প্রসারণে তাই লবণ সহনশীল প্রজাতি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় চরম আবহাওয়া ও লবণাক্ততা সহ্য করে টিকে থাকার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে তেঁতুল ও কদবেলের মতো টক জাতীয় ফলগাছের। এর পাশাপাশি সফেদা, পেয়ারা, বরই (কুল), কাঠবাদাম, তাল ও নারকেল গাছ লাগিয়েও এখন ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি মিষ্টি পানির পুকুর পাড়ে যেখানে লবণ কম সেখানে আম্রুপালির মতো নতুন জাতের আমগাছ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আশাশুনির খাজরা এলাকার কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কদবেল ও তেঁতুল গাছ এখন সবচেয়ে ভালো টিকে থাকে। খুব একটা পরিচর্যা লাগে না। ঝড়েও সহজে নষ্ট হয় না। এছাড়া তাল গাছ, নারকেল গাছ ও সফেদা গাছে ভালো ফল হয়।
একই এলাকার গৃহিণী শেফালী রানী জানান, কদবেল আগে তেমন গুরুত্ব পেত না। এখন অনেকেই লাগাচ্ছে। ফলও ভালো হয়, বাজারেও চাহিদা আছে। কোনো বাড়তি যত্ন করা লাগে না। এমনিতেই বেড়ে উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমে কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ তেঁতুল ও কদবেল সংগ্রহ করা হয়।
কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া হাটের জামাল উদ্দিন বলেন, ঢাকা, যশোর ও খুলনার বিভিন্ন আচার কোম্পানির লোকজন সরাসরি এসে ফল কিনে নিয়ে যায়। তেঁতুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ কদবেলও বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, আগে যেসব ফল শুধু পারিবারিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলো অনেক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস হয়ে উঠছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের আগে তেল সংকটের শঙ্কা, ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের সতর্কতা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
২০ লাখ শিশু নেই সরকারের খাতায়
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৮৭ টাকার মাল্টায় শুল্ক ১০৭ টাকা!
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জাহাজশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করা ও দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপ খনন, মিলেছে গ্যাস
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গরিবের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ ঘরে তালা
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
এসআই প্রবীর কুমার তালা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রাইভেটকারে তুলে দেয়!
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেসিক ব্যাংকের ঋণের ৬৪ শতাংশের বেশি খেলাপি
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সোনাদিয়া থেকে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করবে নৌবাহিনী
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রাররা বদলি হবেন লটারির মাধ্যমে
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












