আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদেরকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১২)
, ১৮ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৭ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
দ্বয়ীফ বর্ণনাসমূহের গ্রহণীয় স্থান
যে সমস্ত স্থানে দ্বয়ীফ বর্ণনাসমূহ গ্রহণীয় তা নিম্নরূপ-
১. মুস্তাহাব পর্যায়ের আহকামসমূহ
২. কোন প্রমাণিত আমলের ফযীলতের বর্ণনা
৩. তারগীব তথা কোন আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান
৪. তারহীব তথা কোন কাজে ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে
৫. সাওয়াব কোন আমলের নেকী সম্পর্কে
৬. যুহদ দুনিয়া বিমূখতা সম্পর্কে
৭. মাকরূহে তানযীহী সংক্রান্ত বিষয়ে
৮. কিসাস পূর্বের নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘটনাবলী প্রসঙ্গে
৯. ইকাব বা কোন কাজের শাস্তি সম্পর্কে
১০. রাকায়েক বা যে সব কারণে অন্তর নরম হয় সে সম্পর্কে
১১. সীরাত তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বা অন্য কারো জীবনী মুবারক সম্পর্কে,
১২. মানাকিব বা কোন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বা অন্য কারো বৈশিষ্ট সম্পর্কে
১৩. মালাহিম বা যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পর্কে,
১৪. মাগাযী বা বিজয়ীদের কর্মকান্ড ও গুণাবলী সম্পর্কে,
১৫. তারীখ বা ইতিহাস সম্পর্কে,
১৬. তাফসীর বা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে।
এক কথায় আক্বায়িদ ও আহকামের মধ্যে হালাল-হারাম, মাক্রূহে তাহরীমী, ফরজ, ওয়াজিব ছাড়া সমস্ত বিষয়ে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য।
কোন হাদীছ শরীফ ছহীহ দ্বয়ীফ নির্ণয় করা সবার জন্য বৈধ নয়
হাফিযে হাদীছ হযরত ইবনুস সালাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরবর্তী যুগের মানুষদের জন্য ছহীহ, দ্বয়ীফ নির্ণয় করা সঠিক মনে করতেন না।
তিনি বর্ণনা করেন-
فَقَدْ تَعَذَّرَ فِي هٰذِهِ الْاَعْصَارِ الْاِسْتِقْلَالُ بِاَدْرَاكِ الصَّحِيْحِ بِـمُجَرَّدِ اِعْتِبَارِ الْاَسَانِيْدِ
অর্থ : “শুধু সনদের উপর নির্ভর করে এই যুগে ছহীহ হাদীছ শরীফ আখ্যা দেয়া অনেক কঠিন কাজ। ” (মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ ফি উলুমিল হাদীছ ১/১৭, শরহুল তাবছিরাহ ওয়া তাযকিরাহ ১/৪৩)
হাফিযে হাদীছ ইমাম হযরত শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইবনুস সালাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মান নির্ণয়ের দরজা মুতাআখ্খিরীন (পরবর্তী আগত) উনাদের জন্য এ কারণে বন্ধ করতে চান, যাতে এ রকম স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অযোগ্য শ্রেণীর লোকেরা ঢুকে না পড়ে। যারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ, ইলাল খুব ভালোভাবে জানে না, যারা অধ্যায়ন ও গবেষণার উপর শতভাগ সচেতন নয়। (ফতহুল মুগিছ ১৬২ পৃষ্ঠা)
এই বিষয়গুলো অনেক জটিল ও স্পর্শকাতর। সবাই যদি এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে তবে নিজের ফিরক্বার মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য নফসানিয়াতের শিকার হবে। আর অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে বাতিল বলে ঘোষণা করবে। কারণ ক্ষেত্র বিশেষে শুধু সনদ দেখেও রায় দেয়া যায় না। এ বিষয়ে উছূলে হাদীছ শরীফ ও উম্মতের আমলসহ অনেক বিষয় দেখতে হয়। সবাই যদি নিজেদের মত ঊছূল বর্ণনা করতে যায় তাহলে যে ঘটনা ঘটবে সেটা প্রমাণসহ উল্লেখ করা হলো।
-মুহম্মদ নূরুদ্দীন (পলাশ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












