অন্তর্জালে আম্রিকার সাথে বাংলাদেশের গোপন সমঝোতা- নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ ও সমালোচনা।
সরকারের পক্ষ থেকে এসবের জবাব আসবে কবে?
, ১৫ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০২ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মন্তব্য কলাম
আম্রিকার সাথে বাংলাদেশের গোপন সমঝোতা নিয়ে তোলপার নেট দুনিয়া। অনেকেই প্রতিবাদ সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। তাদের আলোচনার সার কথা হলো-
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পর ড্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক ব্যক্তিগত চিঠিতে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি, সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা চুক্তি এঝঙগওঅ জিসোমিয়া এবং অধিগ্রহণ ও ক্রস সার্ভিসিং চুক্তি এসিএসএ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এসিএসএ স্বাক্ষরিত হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ভরা এবং রসদ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ও কক্সবাজারের মাতারবাড়ির কৌশলগত কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের এঝঙগওঅ - এ চুক্তি হলে আম্রিকা বঙ্গোপসাগরের উপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি করতে পারবে। অথচ ঠিক এই অঞ্চল দিয়েই চীন মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে সমুদ্র বাণিজ্য করে। এখানে মার্কিন জাহাজ চীনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে তারা।
অথচ গত এক দশকে চীন বাংলাদেশকে সব রকমভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে। বাংলাদেশের মোট সামরিক সরঞ্জামের প্রায় বাহাত্তর শতাংশই আসে চীন থেকে। এর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিন থেকে শুরু করে ফ্রিগেট ও যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ি বন্দরে চীন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করে বাংলাদেশকে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বিআরআই এর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছিল।
এখন আম্রিকার সাথে বাংলাদেশের যদি এই প্রতিরক্ষা চুক্তি হয় তাহলে চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি তো আছেই, তাদের জাতীয় নিরাপত্তাও বিপদের মুখে পড়বে। চীনের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মালাক্কা প্রণালী। চীনের আশি শতাংশ জ্বালানি আমদানি হয় মালাক্কা প্রণালী দিয়ে। কিন্তু সে অঞ্চলে আম্রিকার বেশ কয়েকটি ঘাঁটি আছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী চীনা জাহাজ অবরুদ্ধ করে চীনকে জ্বালানি সংকটে ফেলতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে চীন তৈরি করছে চায়না-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর এবং রাখাইনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর।
এই ক্ষেত্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করার জন্য আম্রিকা আরাকান আর্মিকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এজন্য বার্মা অ্যাক্টকে আরও শক্তিশালী করে ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট করেছে ড্রাম্প। এর ফলে এখন নির্দ্বিধায় আরাকান আর্মিকে সাহায্য করতে পারে আম্রিকা। সেজন্য বাংলাদেশকেও করিডোর হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে তারা।
ঠক ইউনুসের আমলে মানবিক করিডোরের কথা আমরা শুনেছি। আর এবারে তো সরাসরি বাংলাদেশেই মার্কিন উপস্থিতির সুযোগ হলো। যদি সেই চুক্তি হয় এবং যদি আম্রিকা বাংলাদেশের নারিকেল দ্বীপ (সেন্ট মার্টিন) বা অন্য কোন বন্দরে কৌশলগত উপস্থিতি পায় তবে কিয়াকফিউ বন্দর এবং পাইপলাইনগুলো সরাসরি মার্কিন নজরদারির আওতায় চলে আসবে। বেইজিংয়ের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তখন হয়ে পড়বে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
দুই হাজার চব্বিশ সালে সাবেক সরকারের পতন এবং ঠক ইউনুসের সরকার গঠন আম্রিকাকে একটা বিরাট সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি যে পোশাক খাত, সেই পোশাক খাতকে জিম্মি করে আম্রিকা বাংলাদেশে এআরটি চুক্তি করতে বাধ্য করে। এ অবস্থায় চীন কি পদক্ষেপ নেবে সেটাই এখন আলোচনা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনের গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চীনের ঋণে তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রায় চল্লিশ শতাংশ এখন চীনের মালিকানায়। কাজেই চীন রক্ষণাত্মক অবস্থান নিলে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার মতো অচল করে দিতে পারে।
পাঁচই মে আম্রিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ দশ সদস্যের একটি দল নিয়ে বাংলাদেশে আসে। তিন দিনের সফরে তারা বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনায় বসে। কিন্তু তার এই সফরের সময় বাংলাদেশের কোন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কারো সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায় নাই। অথচ ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, এই সময়ে তারা বাংলাদেশকে দ্রুত সামরিক চুক্তি করার জন্য তাগাদা দিয়েছে।
বিশেষ করে ড্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে যে দুটো চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছিলো সেই চুক্তি করার জন্য বাংলাদেশ নাকি ফাইনাল স্টেজে আছে এমনটাই বলছে তারা।
যদি তাদের দাবি সত্যি হয় তাহলে বাংলাদেশের জন্য দুই পরাশক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর হয়ে উঠবে নতুন স্নায়ুযুদ্ধের মূল রণক্ষেত্র। আম্রিকা এবং চীনের প্রক্সি ওয়ারের কেন্দ্রও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।
দুঃখজনক হলেও সত্য এতসব স্পর্শকাতর প্রচারণার পরও সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয় বা সংশ্লিষ্টরা কোন জবাব তো দিচ্ছেনই না এমনকী কোনো প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছেন না। কিন্তু এক্ষেত্রে সরকারের স্পষ্ট জবাব জানতে পারা জনগণের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার লঙ্ঘন করলে সরকার ক্ষমতায় আসার নৈতিক অধিকার হারাবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভূয়া অস্ত্র বেঁচে টাকা লুট করতে চায় ভূয়া আম্রিকানরা মনে করে আম্রিকা যুদ্ধে সেরা অথচ মেক্সিকো, স্পেন, জার্মানসহ কয়েকটি কাফের রাষ্ট্র ছাড়া কানাডা ভিয়েতনামসহ অনেক কাফের রাষ্ট্রের কাছেও তারা শোচনীয়ভাবে হেরেছে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক বছরের পর বছর চালু রেখে এক সময় বিয়ে না করলে দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষক হয় পুরুষ।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে এখন চাপ আর চাপ এসব চাপকে- জনগণের নিজের মনে করতে হবে।
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি করে কার্গো এলএনজি আমদানি কথা চলছে। যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বা কম মূল্যে নির্ধারণ হয়নি। এবং এমন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
১৯৪৭ সালের বেনিয়া বৃটিশদের দেশবিভক্তির দোহাই দিয়ে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের ভূখন্ড দাবী করছে উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












