পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-১৩
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ.
অর্থ: তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। মানবজাতির মধ্য থেকে তোমাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে আর অসৎ কাজ (শরীয়তের খিলাফ কাজ) থেকে নিষেধ করবে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান আনবে। (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৩৯১)
(كُنْتُمْ) يَا أُمَّة مُحَمَّد বাকি অংশ পড়ুন...
হযরত খলীল বিন আহমদ বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মানুষ ৪ প্রকার। যথা: (১) এমন মূর্খ লোক যে কিছুই জানে না, সে যে জানে না তাও বুঝে না। এমন লোক আহমক তথা গন্ড মূর্খ, তাই তার থেকে দূরে থাকবে। (২) এমন মূর্খ লোক, যে জানে যে সে মূর্খ, এমন লোক জাহিল, তাই তাকে ইলিম শিক্ষা দিবে। (৩) এমন জ্ঞানী লোক, যে জানে না যে সে জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি ঘুমন্ত, তাই তোমরা তাকে জাগিয়ে দাও। (৪) এমন জ্ঞানী লোক, যিনি জানেন যে তিনি জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি আলিম, তাই তোমরা উনাকে অনুসরণ করো।
অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাক বাকি অংশ পড়ুন...
কুকুর হত্যার বিষয়ে আদেশ মুবারক:
কুকুর হত্যার বিষয়ে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেছেন। যেমন-
১ম দলীল:
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ
অর্থ : সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্ল বাকি অংশ পড়ুন...
(৩৮৭)
(ياأيها الذين امَنُواْ أَطِيعُواْ الله) أي في الفرائض (وَأَطِيعُواْ الرسول) أي في السنن. ويقال: أطيعوا الله فيما فرض، وأطيعوا الرسول فيما بيّن. ويقال أَطِيعُواْ الله بقول لا إله إلا الله، وأطيعوا الرسول بقول محمد رسول الله صلى الله عليه و سلم (وَأُوْلِى الامر مِنْكُمْ) يعني أطيعوا أولي الأمر منكم. قال الكلبي ومقاتل: يعني أمراء السرايا. وقال الضحاك: يعني الفقهاء والعلماء في الدين. ويقال: الخلفاء والأمراء ويجب طاعتهم ما لم يأمروا بالمعصية.
অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো,) অর্থাৎ ফরজসমূহ পালন করো (সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করো) অর্থাৎ সুন্নতসমূহ পালন করো। বলা হ বাকি অংশ পড়ুন...
(৩৮৩)
(يَا اَيُّهَا الذين امَنُواْ) عثمان بن طلحة واصحابه (اَطِيعُوا الله) فيما امركم (وَاَطِيعُوا الرسول) فيما يأمركم (وَاُولِي الامر مِنْكُمْ) امراء السرايا ويقال العلماء.
অর্থ: (হে ঈমানদারগণ!) হযরত উছমান বিন ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও উনার সঙ্গী-সাথী উনারা (তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করো) তিনি যা তোমাদেরকে নির্দেশ করেন তা মান্য করো (সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করো) তিনি যা তোমাদেরকে নির্দেশ করেন তা মান্য করো (এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর-আদেশদাতা উনাদের অনুসরণ করো।) উনারা হলেন জিহাদ বাকি অংশ পড়ুন...
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন
৩য় দলীল
অন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ سَعِـيْدِ ۣ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحّٰى بِكَـبْشٍ اَقْـرَنَ وَقَالَ هٰذَا عَنِّـىْ وَعَمَّنْ لَّـمْ يُضَحِّ مِنْ اُمَّتِـىْ
“হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শিং বিশিষ্ট একটি দুম্বা সম্মানিত কুরব বাকি অংশ পড়ুন...
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন
১ম দলীল
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন- “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এমন একটি শিংওয়ালা দুম্বা আনতে যা কালোতে হাঁটে, কালোতে শোয় ও কালোতে দেখে অর্থাৎ যার পা, পেট ও চোখ সবই কালো। অতঃপর সম্ম বাকি অংশ পড়ুন...
সাধারণভাবেই ইন্তেকাল প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কুরবানী করা জায়িয
৩য় দলীল
তিরমিযী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘তুহফাতুল আহওয়াযীতে’ বর্ণিত রয়েছে-
وَفِىْ رِوَايَةٍ صَحَّحَهَا الْحَاكِمُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَلٰى مَا فِى الْمِرْقَاةِ اَنَّهٗ كَانَ يُضَحِّىْ بِكَـبْشَيْنِ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِكَـبْشَيْنِ عَنْ نَـفْسِهٖ وَقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَنِىْ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ اَبَدًا فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ اَبَدًا فَرِوَايَةُ الْحَاكِمِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هٰذِهٖ مُخَالِفَةٌ لِرِوَايَةِ التِّرْمِذِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَيُمْكِنُ الْجَمْعُ بِاَنْ يُّـقَالَ اِنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ا বাকি অংশ পড়ুন...
সাধারণভাবেই ইন্তেকাল প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কুরবানী করা জায়িয
পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ দ্বারা অনেক ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা দলীল গ্রহণ করেছেন।
১ম দলীল
যেমন, হযরত আমীনুদ্দীন ইবনে ফিরিশতা যিনি ইবনে মালাক কিরমানী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৮৫৪ হিজরী) হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন-
يَدُلُّ عَلٰى اَنَّ التَّضْحِيَةَ تَجُوْزُ عَمَّنْ مَاتَ
“এই পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যারা ইন্তেকাল করেছেন উনাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়িয।”
২য় দলীল
মিরআতুল মাফাতীহ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
وَالْحَدِيْثُ يَدُلُّ عَلٰى اَنَّ التَّضْح বাকি অংশ পড়ুন...
আপত্তিকারীদের তৃতীয় আপত্তি
নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করা যদি ফরয হয়। তাহলে কুরবানী না করলে ফরয তরক করার গুনাহ হবে? হ্যাঁ হবে। সেই জন্য বলা হচ্ছে কেহ একা করতে না পারলে একাধিক জন মিলে যেন করে। তা ১০/২০/৩০/৪০/৫০/৬০/৭০/৮০/৯০/১০০ জন আরো বেশিও হতে পারে। অর্থাৎ প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করতে হবে এমন নয়। তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই।
বাকি অংশ পড়ুন...
(৩৭৯)
المسألة الحادية عشرة: قد دللنا على أن قوله: وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ يدل على أن الإجماع حجة فنقول: كما أنه دل على هذا الأصل فكذلك دل على مسائل كثيرة من فروع القول بالإجماع.
অর্থ: একাদশ মাসয়ালা: উলিল আমর সম্পর্কিত মহাপবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা দলীল নেয়া হয় যে, ইজমাউল উম্মাহ মহাসম্মানিত শরীয়ত উনার অকাট্য দলীল। প্রমাণিত আছে যে, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ দ্বারা অসংখ্য শাখামূলক মাসয়ালা বের করা হয়েছে।
(৩৮০)
المسألة الثانية عشرة: ذكرنا أن قوله: فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ يدل على صحة العمل بالقياس، فنقول: كما أن هذه الآية دلت على هذا الأصل، فكذلك دلت على مسائل كثيرة من فروع القول بالقياس.
অর্থ: দ্বাদশ মাসয়ালা: আমরা আ বাকি অংশ পড়ুন...
আপত্তিকারীদের দ্বিতীয় আপত্তি
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ নাকি দ্বয়ীফ। আসলে পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে ইলিম-কালাম না থাকলে যা হয়, সেটাই হয়েছে।
সত্তাগতভাবে কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফই দ্বয়ীফ বা দুর্বল নয়। রাবী বা বর্ণনাকারীদের অবস্থার ভিত্তিতে পবিত্র হাদীছ শরীফ বিশারদগণ এটা একটা পরিভাষা তৈরি করেছেন। সনদের দিক থেকে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ দ্বয়ীফ মনে হলেও উছূলের মানদ-ে মোটেও দ্বয়ীফ নয়। পবিত্র হাদীছ শাস্ত্রের একটা উছূল হচ্ছে, কোনো হযরত ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যেই পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছ বাকি অংশ পড়ুন...












