মুসলমানদের জন্য ফরয বিষয় ছাড়াও আরও যে ফরয রয়েছে
, ২৬ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ০৮ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সাধারণভাবে ইলিম দেয়ার জন্য ১৩০ ফরযের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উল্লেখিত ফরয বিষয়সমূহ ছাড়াও আরো অনেক ফরয রয়েছে।
উক্ত ১৩০ ফরযসমূহ হচ্ছে মুসলমানের পাঁচ রুকনে ৫ ফরয, চার কুরসীতে ৪ ফরয, চার মাযহাবে ৪ ফরয, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ৫ ফরয, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সতের রাকায়াতে ১৭ ফরয, ঈমানের ৭ ফরয, পাঁচ কলেমায় ৫ ফরয, উযূতে ৪ ফরয, গোসলে ৩ ফরয, তায়াম্মুমে ৩ ফরয, নামাযের পূর্বে আরকানে ৬ ফরয, নামাযের ভিতর আহকামে ৭ ফরয, ত্রিশ রোযায় ৩০ ফরয এবং ত্রিশ রোযার নিয়তে ত্রিশ ফরয; এই হলো মোট ১৩০ ফরয।
উক্ত ফরযসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা উল্লেখ করা হলো-
মুসলমানের পাঁচ রোকনে ৫ ফরয:
১। কালিমা শরীফ।
২। নামায।
৩। যাকাত।
৪। হজ্জ।
৫। রোযা।
চার কুরসীতে ৪ ফরয:
১। সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম।
২। সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম।
৩। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
৪। সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
চার মাযহাবে ৪ ফরয:
১। হানাফী মাযহাব।
২। মালেকী মাযহাব।
৩। শাফিয়ী মাযহাব।
৪। হাম্বলী মাযহাব।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের নিয়তে ৫ ফরয:
১। মাগরিব।
২। ইশা।
৩। ফজর।
৪। যোহর।
৫। আছর।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সতের রাকায়াতে ১৭ ফরয:
১। ফজরের ২ রাকায়াত।
২। যুহরের ৪ রাকায়াত।
৩। আছরের ৪ রাকায়াত।
৪। মাগরিবের ৩ রাকায়াত।
৫। ইশার ৪ রাকায়াত।
ঈমানের ৭ ফরয:
১। মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ঈমান আনা।
২। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান আনা।
৩। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর ঈমান আনা।
৪। মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা।
৫। তাকদীরের উপর ঈমান আনা।
৬। মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত হওয়ার উপর ঈমান আনা।
৭। ক্বিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনা।
ওযুতে ৪ ফরয:
১। সমস্ত মুখমন্ডল ধৌত করা।
২। উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করা।
৩। মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা।
৪। উভয় পায়ের গিরাসহ ধৌত করা।
গোসলে ৩ ফরয:
১। কুলি করা।
২। নাকের ছিদ্রের ভিতরে পানি পৌঁছানো।
৩। সমস্ত শরীর উত্তমরূপে ধৌত করা।
পাঁচ কালিমায় ৫ ফরয:
১। কালিমায়ে তইয়িবা।
২। কালিমায়ে শাহাদাত।
৩। কালিমায়ে তামজীদ।
৪। কালিমায়ে তাওহীদ।
৫। কালিমায়ে রদ্দে কুফর।
তায়াম্মুমে ৩ ফরয:
১। নিয়ত করা।
২। সমস্ত মুখমন্ডল মাসেহ করা।
৩। উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করা।
নামাযের পূর্বে আহকাম ৭ ফরয:
১। শরীর পাক।
২। কাপড় পাক।
৩। জায়গা পাক।
৪। সতর ঢাকা।
৫। নামাযের ওয়াক্ত হওয়া।
৬। ক্বিবলামুখী হওয়া।
৭। নিয়ত করা।
নামাযের ভিতর ৬ ফরয:
১। তাকবীরে তাহরীমা বাঁধা।
২। ক্বিয়াম করা অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নামায পড়া।
৩। নামাযের ভিতর কিরাআত পাঠ করা।
৪। রুকূতে যাওয়া।
৫। সিজদা করা।
৬। আখেরী বৈঠক করা।
ত্রিশ রোযায় ৬০ ফরয:
১। ত্রিশ রোযায় ৩০ ফরয।
২। ত্রিশ রোযার নিয়তে ৩০ ফরয।
এই হচ্ছে মোট ১৩০ ফরয।
উপরে উল্লেখিত ফরয বিষয়সমূহ ছাড়াও আরো অনেক ফরয রয়েছে। যেমন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা ফরয, উনাদের খিদমত করা ফরয। পর্দা করা ফরয। হালাল কামাই করা ফরয। দাড়ি রাখা ফরয। ক্বলবী যিকির করা ফরয। ইলিম অর্জন করা ফরয। ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ অর্জন করা ফরয। ইখলাছ অর্জন করা ফরয। রিয়া, অহংকার, মিথ্যা, গীবত ইত্যাদি বদস্বভাবগুলো দূর করা ফরয। ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের কৃষ্টি-কালচার নিয়ম-নীতি, গ্রহণ ও পালন করা থেকে বেঁচে থাকা ফরয। উলামায়ে সূ ও মুনাফিকদের বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকাও ফরয। এমনিভাবে আরো অনেক ফরয রয়েছে।
কাজেই হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও ফক্বীহগণ যে সকল বিষয় ফরয হিসেবে বর্ণনা করেছেন তা মু’মিন মুসলমান, জিন-ইনসান, পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে সকলের জন্য অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্যরূপে পালনীয়। এ সকল ফরয বিষয় যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আক্বীদা ও হুসনেযন বা সুধারণার সাথে সম্পর্কযুক্ত। একইভাবে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রতি আক্বীদা ও হুসনেযন বা সুধারণার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












