ঘটনা থেকে শিক্ষা
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
, ২৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত মীর্জা মাযহার জানজানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি মায়ের পেট থেকে ত্রিশ পারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাফেজ ছিলেন। কিতাবে লেখে- দু’জন ব্যক্তি মায়ের পেট থেকে ত্রিশ পারার হাফেজ হয়ে জন্ম গ্রহণ করেছেন। একজন হলেন- হযরত বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, দ্বিতীয়জন হলেন- হযরত মীর্জা মাযহার জানজানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি বাদশাহ আলমগীরের আত্মীয় ছিলেন। তিনি ওলীয়ে মাদারযাদ, হাফেজে মাদারযাদ, বিরাট বুযুর্গ। তিনি উনার পীর ছাহেব হযরত নূর মুহম্মদ বাদায়ুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে রীতিমত যাওয়া-আসা করতেন। একদিন পীর ছাহেব বললেন, মীর্জা ছাহেব আপনার শরীর থেকে শরাবের গন্ধ আসছে, তার কি কারণ? পীর ছাহেব নিজেও জানতেন যে, হযরত মীর্জা মাযহার জানজানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শরাব পান করা তো দূরের কথা, কোনদিন দেখেনওনি। আর মীর্জা ছাহেব নিজেও ফিকির করতেছিলেন যে, ব্যাপারটি কি ঘটে গেল? আমার শরীর থেকে শরাবের গন্ধ বের হচ্ছে কেন? অনেক ফিকির করার পর বললেন, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন, আমি যখন আপনার দরবার শরীফ আসছিলাম, তখন বাতাস উল্টো দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছিল। একটা শরাবখোর শরাব পান করে মাতাল হয়ে, আমি রাস্তার যেদিক দিয়ে আসতেছিলাম, তার বিপরীত দিক থেকে সে হেঁটে যাচ্ছিল। তার শরীরের বাতাসগুলো আমার শরীরে লেগেছিল। সম্ভবতঃ সে কারণেই আপনি আমার শরীর থেকে শরাবের গন্ধ পাচ্ছেন। যখন তিনি এটা বললেন, তখন হযরত নূর মুহম্মদ বাদায়ূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি খালেছ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী ছিলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার বুযুর্গ ছিলেন, তিনি বললেন যে, হ্যাঁ তাই হবে, সেই শরাবখোরের শরীরের বাতাস আপনার শরীরে লেগেছে, যার কারণে আপনার শরীর থেকে শরাবের গন্ধ বের হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
এখন চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয় এই যে, একটা শরাবখোরের শরীর থেকে শরাবের বাতাস লাগার কারণে একজন খালেছ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, যিনি ওলীয়ে মাদারযাদ, হাফেজে মাদারযাদ, উনার শরীর থেকে যদি শরাবের গন্ধ বের হতে পারে, তাহলে দুনিয়ার গন্ধ আমাদের শরীর থেকে কতটুকু বের হবে? সেটাই ফিকিরের বিষয়।
যেহেতু দুনিয়ার মধ্যে আমরা রয়েছি এবং দুনিয়ায় সংশ্লিষ্ট এবং দুনিয়ার মধ্যে আমরা মশগুল এবং আমাদের অন্তরের মধ্যে দুনিয়ার মুহব্বত রয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের শরীর থেকে দুনিয়ার মহব্বত কতটুকু আসতে পারে, এটা ফিকিরের বিষয়। যেহেতু দুনিয়ার একটা তাছীর বা ক্রিয়া রয়েছে।
কাজেই প্রত্যেক ব্যক্তিকেই এই তাছীর এবং ক্রিয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ তার অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দিতে হবে। কারণ মানুষ সাধারণতঃ দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্থ হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন বেহেশত এবং দোযখ সৃষ্টি করেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে তিনি বলেন যে, “হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি দেখেনতো আমার বেহেশত-দোযখ কেমন হয়েছে।” তিনি দেখে এসে বলেন, মহান আল্লাহ পাক! এত সুন্দর হয়েছে আপনার বেহেশত যে, আপনার সমস্ত বান্দারা বেহেশতে যাবে। আর দোযখ এতো কঠিন আযাবের জায়গা, কেউ সেখানে যাবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমলনামা সৃষ্টি করে বললেন যে, “এক কাজ করুন আমল নামাটা দেখুন কেমন হয়েছে?” হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমল নামাটা দেখলেন, দেখে বললেন যে, মহান আল্লাহ পাক! আপনার সমস্ত বান্দারাই জাহান্নামে যাবে। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আপনি কিছুক্ষণ আগে বললেন আমার সমস্ত বান্দারা বেহেশতে যাবে, আর এখন বলছেন সব জাহান্নামে যাবে, তার কি কারণ?” তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক! আমি বেহেশতের সুখ-শান্তি ও দোযখের আযাব-গযব দেখে বলেছিলাম। কারণ কেউ চায়না কষ্টে থাকুক, সকলেই চায় সুখ। আমি সুখ দেখে বলেছিলাম, এখন আপনি যখন আমাকে আমলনামা দেখালেন এখন তো আমার মনে হয় আপনার কোন বান্দা বেহেশতে যেতে পারবে না, সকলেই জাহান্নামে যাবে। কারণ দুনিয়ার মোহে তারা গরক থাকবে, মোহগ্রস্থ থাকবে, দুনিয়ার বিলাসিতায় যারা মশগুল থাকবে, তারা কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না, সকলেই জাহান্নামে যাবে।
কাজেই যারা দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্থ হবে, তাদের তো নাযাতের পথ নেই। মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক তিনিই এটাকে নছীহত, ইবরত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার যারা বান্দা, তাদের ইবরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাক্বীক্বত দুনিয়ার মোহে যারা মোহগ্রস্থ থাকবে, তারা তো নাযাত পেতে পারে না। কাজেই তাদের জন্য কঠিন ও দুরূহ নাযাত পাওয়া। প্রত্যেক ব্যক্তিকেই নাযাতের জন্য তার হাক্বীক্বী কোশেশ করতে হবে। অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দেয়ার জন্য তাকে হাক্বীক্বী কোশেশ করতে হবে। এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন-
أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنْتُمْ لَهَا كَارِهُونَ
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন যে, “দেখুন- আমি কি তোমাদেরকে আমার নিয়ামত চাপিয়ে দিব, আর তোমরা অস্বীকার করবে?”
এটা কখনো হতে পারেনা, আমি নিয়ামত জবরদস্তি দিব, এটা কখনো হতে পারে না। তোমরা চাবে না, আমি দিয়ে দিব, তোমরা আমার নিয়ামতকে ফেলে দিবে। আমি দিয়ে দিব, তোমরা সেটা নিয়ে যাবে, অর্থাৎ সেটাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে, অবহেলা করবে, তা হতে পারে না। চাইতে হবে, চাওয়ার পরে আমি দিব। অতএব, চাইতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্তর থেকে দুনিয়ার মুহব্বত দূর করে দিন। আর আপনার মুহব্বত ও আপনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত পয়দা করে দিন, তাহলেই পাওয়া সম্ভব।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফির মুশরিকদের থেকে দূরে থাকতে এবং তাদেরকেও দূরে রাখার ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সঠিক তারতীবে যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা ফরয-ওয়াজিব
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












