খাছ সুন্নতী কাঠের পেয়ালা মুবারক-১৪
, ১৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অপর এক বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ دَخَلَتْ حَضْرَتْ أُمُّ سُنْبُلَةَ الْأَسْلَمِيَّةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَطْبَيْنِ مِنْ لَبَنٍ تُهْدِيْهِمَا لَهٗ فَقَالَ مَرْحَبًا بِأُمِّ سُنْبُلَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا مَرْحَبًا بِأُمِّ سَلَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْها قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هٰذَا لَبَنُ إِبِلٍ أَهْدَيْتُهٗ لَكَ وَفِي يَدِهَا قَعْبٌ قَالَ صُبِّيْ فِي هَذَا الْقَعْبِ فِيْ يَدِكِ قَالَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ قُلْتُ أَوَلَمْ تَكُنْ قُلْتَ اِنَّكَ لَا تَقْبَلُ هَدِيَّةً مِنْ أَعْرَابِيٍّ؟ فَقَالَ اَوَأَعْرَابٌ أَسْلَمُ يَا سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ ؟ إِنَّهُمْ لَيْسُوْا بِأَعْرَابٍ وَلٰكِنَّهُمْ اَهْلُ بَادِيَتِنَا وَنَحْنُ حَاضِرَتُهُمْ اِذَا دَعَوْنَاهُمْ اَجَابُوْنَا وَاِذَا دَعَوْنَا اَجَبْنَاهُمْ
অর্থ:- সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উম্মু সুনবুলাহ আল আসলামিইয়্যাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে দুইটি দুধের মশক নিয়ে প্রবেশ করলেন, যে দুধের মশক দুইটি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করবেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মারহাবা! হযরত উম্মু সুনবুলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে, মারহাবা! হযরত উম্মু সালামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে, হযরত উম্মু সুনবুলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহা হচ্ছে উটের দুধ যা আমি আপনাকে হাদিয়া মুবারক করেছি। আর হযরত সুনবুলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সম্মানিত হাত মুবারকে ছিল কাঠের পেয়ালা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি আপনার হাত থেকে এই কাঠের পেয়ালায় (দুধ) ঢালুন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, (ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি কি বলেন নি যে, আপনি বেদুঈনদের থেকে হাদিয়া কবুল করেন না/ গ্রহণ করেন না? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম! আসলাম সম্প্রদায় কি বেদুইন? নিশ্চয়ই তারা বেদুঈন নয়, বরং তারা আমাদের মরুভূমির অধিবাসী, এবং আমরা হচ্ছি তাদের প্রধান নগর/রাজধানী। আমরা যখন তাদেরকে দাওয়াত দিবো তখন তারা আমাদের দাওয়াত কবুল করবে, এবং তারা যখন আমাদেরকে দাওয়াত দিবে তখন আমরা তাদের দাওয়াত কবুল করবো। (আল মুনতাক্বা মিন কিতাবিত ত্ববাক্বাতি লি আবী আরূবাতাল র্হারানী- ২১ নং পৃষ্ঠা)
উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারকে হযরত উম্মু সুনবুলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি দুই মশক দুধ হাদিয়া মুবারক করেন। আর হযরত উম্মু সুনবুলাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সাথে করে একটি কাঠের পেয়ালাও নিয়ে আসেন। অত:পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (পান করার জন্য) মশক থেকে সেই কাঠের পেয়ালাতে দুধ মুবারক ঢালার জন্য নির্দেশ মুবারক করেন।
উক্ত আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাঠের পেয়ালাতে ঢেলে দুধ মুবারক পান করতেন। অর্থাৎ কাঠের পেয়ালায় ঢেলে দুধ পান করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ সুন্নত মুবারক। (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












