সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
“গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ করা কবীরা গুনাহ” (পর্ব- ১)
, ১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَتـِمُّوْا الْحَجَّ وَ الْعُمْرَةَ لِلّهِ
অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হজ্জ্ব ও উমরা আদায় কর। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ- ১৯৬)
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وَ لِلّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَيْهِ سَبِيْلاً
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ্ব ফরজ করা হয়েছে, যার পাথেয় ও পথের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৯৭)
অর্থাৎ যার পাথেয় ও পথের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে তার জন্যই একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে হজ্ব ফরয করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّه صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ياَيُّهَا النَّاسُ اِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ الْحـَجَّ فَقَامَ الْاَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ رَضِىَ اللّهُ تَعَالَى عَنْهُ فَقَالَ أَ فِىْ كُلِّ عَامٍ يَا رَسُوْلُ اللّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَسَكَتَ حَتّىٰ قَالـَهَا ثَلاَثاً قَالَ لَوْ قُلْتُهَا نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَ لَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَعْمَلُوْا بـِهَا وَ لَـمْ تَسْتَطِيْعُوْا وَ الْـحَجَّ مَرَّةً فَمَنْ زَادَ فَتَطَوُّعٌ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মানুষেরা! নিশ্চয়ই মাহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের উপর হজ্জ্ব ফরজ করেছেন। অতঃপর আকরা ইবনে হাবিস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! প্রতি বৎসরই কি হজ্জ্ব ফরজ? এভাবে তিনি তিনবার বললেন। তখন তিনি বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম; তাহলে ফরজ হয়ে যেত। আর যদি তা ফরজ হয়ে যেত তাহলে আপনারা উনার উপর আমল করতে পারতেন না এবং আপনারা সক্ষমও হতেনা। আর হজ্জ্ব হলো (জীবনে) একবার (ফরজ)। যদি কেউ এর অতিরিক্ত করে তাহলে তা হবে নফল। (আহমদ শরীফ, দারিমী শরীফ, নাসাঈ শরীফ)
উল্লেখিত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তির পাথেয় ও পথের নিরাপত্তা রয়েছে তার উপর একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাসিলের লক্ষ্যে জীবনে একবার হজ্জ্ব করা ফরজ।
স্মরণীয় যে, এখানে পাথেয় বলতে হজ্জ্বে যাওয়া এবং ফিরে আসা পর্যন্ত নিজের এবং পরিবারের সকলের ব্যয় বহনে সক্ষম হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। আর পথের নিরাপত্তা বলতে বুঝানো হয়েছে, যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা এবং ঈমান-আমলের নিরাপত্তা থাকা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اِلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهُ صلى لله عليه و سلم فَقَالَ يَا رَسُوْلَ الله صلى الله عليه و سلم مَا يُوْجِبُ الْـحَجَّ فَقَالَ اَلزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ .
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন। অতঃপর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন বিষয় হজ্জ্বকে ওয়াজীব করে? তিনি বললেন, পাথেয় এবং বাহন। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
অপরদিকে সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে ,
فَمَنْ فَرَضَ فِىْهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَ لاَ فُسُوْقَ وَ لاَ جِدَالَ فِىْ الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللهُ وَ تَزَوَّدُوْا فَاِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوى وَاتَّقُوْنِ ياُولِى الْاَلْبَابِ
অর্থ: হজ্বের মাস সমূহের মধ্যে যে ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয; সে ব্যক্তি হজ্বের মধ্যে অশ্লীল-অশালীন কাজ, ফাসেকী কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ করবেনা। আর তোমরা যা নেক আমল কর তা মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন। তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। আর উত্তম পাথেয় হল তাক্বওয়া। হে জ্ঞানীগণ ! তোমরা আমাকে ভয় কর। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ১৯৭)
এখানে, আয়াত শরীফ দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, যার উপর হজ্জ্ব ফরয সেই ব্যক্তি হজ্জ্ব করতে গিয়ে অশ্লীল-অশালীন কাজ, নাফরমানীমূলক কাজ ও ঝগড়া-বিবাদ করতে পারবে না।
কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, পুরুষ-মহিলা উভয়ে একত্রে হজ্জ্ব করার কারণে, হজ্জ্বের কার্যাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে পুরুষ-মহিলা উভয়ের আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ‘রফাছ’ তথা অশালীন কাজ হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও দেখা যাচ্ছে, হজ্জ্বে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন কারণে পারস্পারিক ঝগড়াবিবাদেও লিপ্ত হচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। আর উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।’
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা।)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত সালমা বিনতে হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












