হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৪)
, ১০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
২. শর্তবিহীন হীলাহ্। যা জায়েয, শরীয়তসম্মত ও ফযীলতের কারণ। শরীয়তের পরিভাষায়, কোন মুসলমান ভাইয়ের উপকার করার জন্য তার তালাক প্রাপ্তা আহলিয়াকে (স্ত্রী) শর্ত-শারায়েত ব্যতীত বিবাহ করতঃ ঘরÑসংসার করে তথা একান্ত নির্জনবাসের পর তালাক্ব দেয়, তাকে হীলাহ্ বিবাহ বলা হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَه مِنْ بَعْدُ حَتّٰى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
অর্থ: অতঃপর যদি সে তার আহলিয়াকে (স্ত্রী) তিন তালাক্ব দেয়, তবে সে আহলিয়া (স্ত্রী) যে পর্যন্ত না তাকে ছাড়া অপর কোন আহাল বা স্বামীর সাথে বিবাহ বসবে, সে পর্যন্ত তার জন্য হালাল হবে না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩০)
উল্লেখ্য যে, তালাক একটি ঘৃণিত হালাল কাজ। অতীব প্রয়োজনে তার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ইলিম আকল সমঝের অভাবে এক শ্রেণীর লোক তার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনা। তাদের অজ্ঞতার কারণে তারা এমন অবস্থার স্বীকার হয় যা পরবর্তি জীবনে অনুশোচনার কারণ হয়। তিন তালাক একত্রে দেয়া হোক কিংবা পৃথকভাবে, তার দ্বারা আহাল-আহলিয়ার (স্বামী-স্ত্রী) বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যায়। তবে একত্রে তিন তালাক দেয়ার কারণে তালাকদাতা গুনাহগার হয়। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকীদা, বিশ্বাস।
অতএব, এই আকীদা, বিশ্বাসের খিলাফ আকীদা যারা পোষণ করে তারা বাতিল ও জাহান্নামী বাহাত্তর ফিরকার অন্তর্ভুক্ত। তাদের বিভ্রান্তিমূলক কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তালাক কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে পুনরায় সম্পর্ক গড়তে চাইলে তাকে শরীয়া দিক নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। যদি কোন আহাল-আহলিয়া তথা স্বামী-স্ত্রী ভুলবশতঃ এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, নিরূপায় হয়ে উভয়ে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে যেতে চায়, তাহলে সম্মানিত শরীয়ত যে পন্থা-পদ্ধতি অনুমোদন দিয়েছে, সেটাই হচ্ছে হীলাহ্ পদ্ধতি। তবে হীলাহ্ বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত- শারায়েত রয়েছে। তা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
* প্রথম আহাল বা স্বামীর ইদ্দত পালন শেষ হওয়ার পর আহলিয়া বা স্ত্রীকে দ্বিতীয় আহাল বা স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
* দ্বিতীয় আহাল বা স্বামীর সাথে নিরিবিলি অবস্থান করতে হবে। তারপর সে আহলিয়া বা স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে।
* সেই তালাকের পর আহালিয়া বা স্ত্রী আবারো ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত পালন শেষ হলে, তারপর আহালিয়া (স্ত্রী) প্রথম আহাল বা স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
এই তাহলীল বা বৈধ করন পদ্ধতি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য উল্লেখিত শর্তগুলি আবশ্যক। কারণ এর কোন একটি শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে আহলিয়া (স্ত্রী) প্রথম আহাল বা স্বামীর জন্য হালাল হবেনা। আর শরীয়ত সম্মত তাহলীল ব্যতীত তালাকপ্রাপ্তা আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ। এমতাবস্থায় যতদিন তারা একত্রে বসবাস করবে ততদিন তা ব্যভিচার বলে গণ্য হবে। (নাঊযুবিল্লাহ্)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৪)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি মূলত দ্বীন ইসলাম উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলেন”
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৫)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












