হিজরী দশম শতকের মহান মুজাদ্দিদ, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী বা জীবনী মুবারক (২)
, ১১ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৩ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার পিতামহ:
আল্লামা সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আমার পিতা কয়েকদিন যাতুল জানব তথা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাতের ওফাত লাভ করেছেন।”
আল্লামা সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, “উনার পিতা (অর্থাৎ আমার দাদা) সাইয়্যিদুনা আবু বকর কামালুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ওফাতের পর উনার প্রতিপালিত হযরত মুযাক্কেউল হাকাম আজীজ তুলুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে স্বপ্নে দেখে বললেন, হে আমার সর্দার! এ দুনিয়ার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে এ দুনিয়ায় বিপদ দিয়েছেন আপনাকে প্রশান্তি দেয়ার জন্য। আমার পিতা (সত্যায়ন করে) বললেন, ঠিক এমনটাই হয়েছে আল্লাহ তায়ালা উনার উপর অনুগ্রহ করুন! আর উনার উছিলায় আমাদের অসংখ্য গুনাহ ক্ষমা করুন। আমীন!” (ইমাম সুয়ূতী, বাগিয়াতুল ও’য়াত, ১/৪৭২ পৃষ্ঠা)
দার্শনিক জীবন:
প্রাথমিক অবস্থা: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক যখন পাঁচ বছর তখন উনার মাথা মুবারক থেকে পিতার ছায়া সরে গেলো। অর্থাৎ উনার পাঁচ বছর বয়সে উনার পিতা দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। ইন্তেকালের পূর্বে নিজের আদরণীয় সন্তানের লালন পালন ও দেখাশুনার জন্য অনেক মানুষকে অসিয়ত করেছিলেন, যাদের মধ্যে যুগ শ্রেষ্ঠ তরিকত ইমাম, যুগের প্রসিদ্ধ দার্শনিক, শায়েখ কামালুদ্দীন ইবনু হাম্মাম হানাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখযোগ্য একজন। তিনি শাইখুনিয়্যা মাদ্রাসা থেকে হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শিক্ষা জীবন আরম্ভ করালেন এবং নিজ দেখাশুনার দায়িত্বে রাখলেন এবং উনাকে বিশেষভাবে শিক্ষাদানে মনোযোগ দিলেন। {আল্লামা নিজামুদ্দীন মুহম্মদ ইবনু মুহাম্মদ গায্যী (১০৬১ হিজরী), কাওয়াকিবুস সায়িরাহ, ১/২২৭ পৃষ্ঠা, ক্রমিক, ৪৬১ (ইমাম সুয়ূতীর জীবনী), দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন, ১৪১৮ হিজরী}
ধ্যানে নিমগ্ন; বুযুর্গের দোআ:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার পিতার জীবদ্দশায় আমাকে মজযুব বুযুর্গ ব্যক্তি হযরত শায়েখ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে নেয়া হলো, তিনি মহানুভব ওলীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তিনি মাশহাদে নফিসীর নিকটতম অঞ্চলে বসবাস করতেন। তিনি আমার জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন। (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৮৮ পৃষ্ঠা)
শিক্ষার যাত্রা:
অতি অল্পবয়সে উনার পিতা হাম্মামুদ্দীন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জ্ঞানী ও পীর বুযূর্গদের দরবারে নিয়ে যেতেন যে বয়সে শিশুরা সাহিত্যিক জ্ঞান লাভের যোগ্যতাও রাখে না। আল্লামা আবদুল কাদের আইদরুস রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উনার পিতা উনাকে তিন বছর বয়সে শাইখুল ইসলাম হযরত ইমাম ইবনু হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে নিয়ে গেলেন। আল্লামা ইয়াদরুসী, নুরুস সাফর, ৯১ পৃষ্ঠা (ইমাম সুয়ূতীর জীবনী)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক তখন ৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তিনি সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ হিফজ করে ফেললেন। অতঃপর অতি অল্পবয়সেই “উমদাতুল আহকাম”, “আল-মিনহাজু লিন নববী” “আল ফিয়্যাতু ইবনু মালেক” এবং “মিনহাজুল বায়যাভী” প্রমুখ কিতাব মৌখিক পাঠ সমাপ্ত করলেন। প্রসিদ্ধ উস্তাদ এবং যুগের মুর্শিদকে শুনিয়ে সনদও লাভ করলেন। বিভিন্ন মাশায়েখ হতে ফিকহ, নাহু এবং উত্তরাধিকার বণ্টন আইন শাস্ত্র আল্লামা শায়েখ শিহাবুদ্দীন শারমাসাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে লাভ করেন।
যুক্তিবিদ্যার কয়েকটি কিতাব পড়ে ক্ষান্ত হয়ে গেলেন! এ ব্যাপারে তিনি নিজেই বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কীয় কিছু জ্ঞান লাভ করলাম অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমার অন্তরে যুক্তিবিদ্যার প্রতি অনিহা সৃষ্টি করে দিলেন এবং তার পরিবর্তে আমাকে হাদীছ শাস্ত্রের জ্ঞান দান করলেন, যা হলো- “আশরাফুল উলুম।” (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৮৮ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ধারাবাহিক জ্ঞান লাভের জন্য আল্লামা ইলমুদ্দীন বুলক্বায়নী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গমন এবং উনার ইন্তিকালের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত উনার কাছ থেকে ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করতে থাকলেন। এবং উনার ইন্তিকালের পরে উনারই ছেলে থেকে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফিকহ শাস্ত্রীয় বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করলেন।
৮৭৬ হিজরীতে আল্লামা ইলমুদ্দীন বুলক্বায়নী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমাম সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে শিক্ষার সনদ এবং ফতওয়া প্রদানের অনুমতি দিলেন। ৮৯৬ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করলে আল্লামা সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আল্লামা শরফুদ্দীন মানাভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট গমন করলেন। আর উনার কাছে “মিনহাজ” এবং শরহে লাহজার কয়েকটি অধ্যায় এবং ফসীরে বায়যাভী অধ্যয়ন করলেন। অতঃপর তিনি শায়েখ আল্লামা ইমাম কতিউদ্দিন শিবলী হানাফি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট গমন করে চল্লিশ বছর পর্যন্ত উনার কাছে অবস্থান করে হাদীছ শাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। (ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মুহাদ্বারাহ, ১/২৮৯ পৃষ্ঠা) (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












