জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
বিলাদত শরীফ: ৬১৯ খৃ: বিছাল শরীফ: ৬৮ হিজরী (৬৮৮ খৃ:) বয়স মুবারক: ৭০ বছর।
, ১১ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি
বলতেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি তোমাদের সকলের অপেক্ষা বড় বিদ্বান। তিনি উনার সম্বন্ধে আরো বলতেন, ইনিفتى الكهول
(তরুণ প্রবীন অর্থাৎ বয়সে তরুণ,
জ্ঞানে
প্রবীন)।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু
ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উক্তি করেছেন,
পবিত্র
কুরআন শরীফ উনার তাফসীর বর্ণনার সময় মনে হয় যেন তিনি একটি স্বচ্ছ পর্দার অন্তরাল হতে
অদৃশ্য বস্তুসমূহ প্রত্যক্ষ করছেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলতেন,
হযরত
ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি কুরআন শরীফ উনার সর্বশ্রেষ্ঠ তাফসীরকারক।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি বলতেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তৎসম্পর্কে
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা
জ্ঞানী।
মুহম্মদ হুসাইন আয-যাহাবী হযরত
ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিদ্যাবত্তার কয়েকটি বিশেষ কারণ বর্ণনা
করেছেন- (১) নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে উনার
জন্য এ দোয়া মুবারক করেছিলেন-
أللهم علمه الحكمة و تأويل الكتاب ,أللهم فقهه فى الدين وعلمه التأويل
অর্থ: আয় আল্লাহ পাক! আপনি
উনাকে কিতাব ও হিকমার জ্ঞান, দ্বীন সম্পর্কে অনুধাবন
এবং কুরআন শরীফ তাফসীরের জ্ঞান দান করুন। (২) নবী পরিবারে উনার প্রশিক্ষণ লাভ, (৩) বড় বড় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের
সান্নিধ্য লাভ, (৪) অসাধারণ স্মরণ শক্তি
এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের অগাধ জ্ঞান। সুবহানাল্লাহ!
হযরত মাসরুক রহমতুল্লাহি আলাইহি
যিনি একজন শ্রেষ্ঠ তাবেয়ী তিনি বলেন,
আমি যখন
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখলাম, তখন উনাকে বললাম- أجمل الناس (সুন্দরতম ব্যক্তিত্ব)। যখন হযরত ইবনে
আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কথা বললেন, তখন আমি বললাম- أفصح الناس (সর্বোত্তম প্রঞ্জলভাষী) এবং যখন
তিনি আলোচনা করলেন, তখন আমি বললাম- أعلم الناس (সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি)। (সিয়ারু
আ’লামিন নুবালা)
জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে যখন
তিনি কিছুটা আত্মতৃপ্তি অনুভব করলেন,
তখন মানুষকে
শিক্ষাদানের ব্রত কাঁধে তুলে নিলেন। আর তখন থেকেই উনার বাড়ীটি একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে
পরিণত হয় অর্থাৎ দেশ বিদেশ থেকে আবালবৃদ্ধ-বনিতা সকল জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীরা উনার
বাড়ীতে এসে শিক্ষা গ্রহণ করতেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু উনার এক সঙ্গী বর্ণনা করেন,
আমি হযরত
ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এমন একটি মাহফিল দেখেছি যা গোটা কুরাইশ
গোত্রের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। দেখলাম উনার বাড়ীর সম্মুখের রাস্তাটি লোকে লোকারণ্য।
আমি উনার কাছে উপস্থিত হয়ে বাড়ীর দরজায় মানুষের প্রচ- ভীড়ের কথা জানালাম। তিনি অযুর
জন্য পানি আনালেন। অযু করলেন। তারপর বসে বললেন, তুমি বাইরে গিয়ে অপেক্ষমান লোকদের বলো, যারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও ক্বিরায়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা
করতে চাও, ভিতরে যাও। আমি বাইরে গিয়ে
এ কথা লোকদেরকে বললাম। বলার পর এত বিপুল সংখ্যক লোক ভিতরে প্রবেশ করলো যে, কক্ষটি এমনকি সম্পূর্ণ বাড়ীটি পূর্ণ হয়ে গেল। তারা
যা কিছু জানতে চাইলো, তিনি তাদেরকে অবহিত
করলেন। তারপর বললেন, তোমাদের অপেক্ষমান
ভাইদের জন্য পথ ছেড়ে দাও। তারা চলে গেল।
অতঃপর হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি আমাকে বললেন, বাইরে গিয়ে বলো, যারা পবিত্র কুরআন শরীফের তাফসীর ও তাবীল সম্পর্কে
জানতে চাও, ভিতরে যাও। আমি বাইরে গিয়ে
তাদেরকে এ কথা বললাম। বলার সাথে সাথে পূর্বের ন্যায় এবারো লোকে পুরো বাড়ীটি ভরে গেল।
শিক্ষার্থীদের সব প্রশ্নেরই তিনি জবাব দিলেন এবং অতিরিক্ত অনেক কিছুই অবহিত করলেন।
তারপর বললেন, তোমাদের অপেক্ষমান
ভাইদের জন্য পথ ছেড়ে দাও। তারা বেরিয়ে গেল।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু তিনি আমাকে আবার বললেন,
তুমি
বাইরে গিয়ে যারা হালাল, হারাম ও ফিক্বাহ সম্পর্কে
জানতে চায় তাদেরকে ভিতরে পাঠিয়ে দাও। আমি বাইরে গিয়ে তাদেরকে পাঠালাম। তাদের সংখ্যাও
এত ছিলো যে হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পুরো বাড়ীটি সম্পূর্ণরূপে
ভরে গেল। তাদের সকল জিজ্ঞাসার জবাব দানের পর তাদেরকে পরবর্তী লোকদের জন্য স্থান ছেড়ে
দিতে বললেন। তারা চলে গেল। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












