হালাল হারামের কথা-৬
, ০৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৯ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ০২ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সাধারণ মানুষ এ বিষয়টি ভালভাবেই বোঝে যেমন শূকোর হারাম, শরাব হারাম ইত্যাদি কারণ এর বর্ণনা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে এসেছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যা কঠিন হয়ে পড়েছে তা হচ্ছে প্রকাশ্যে শুকোর নেই অথচ তার উপাদান মিশ্রিত থাকে যেমন এক ধরনের রেডিমিক্স সুপের মধ্যে, কাপ নুডুলসে থাকে পোরক (চড়ৎশ) পাউডার। কেউ হয়তো এ নিয়ে চেন্তাই করবে না সুপের মধ্যে বা কাপ নুডুলসে কি করে আবার শূকোরের গোস্তের পাউডার থাকবে। বাস্তবে থাকে (সবগুলোতে নয়) অবশ্য এ ধরণের প্রোডাক্ট পাশ্চাত্যেই বেশী দেখা যায়। আবার শরাব হচ্ছে ইথাইল এলকোহল কিন্তু অনেক সময় থাকে সুগার এলকোহল। ইথাইল এলকোহল হারাম হলেও সুগার এলকোহল নয়।
আবার কিছু কিছু উপাদান চেনা বেশ কঠিন। যেমন অনেক চকলেটের উপর এক ধরনের চকচকে ভাব আনতে ব্যবহার করা হয় সেলাক (ঝযবষষধপ) সেগুলো সংগ্রহ করা হয় পোকার নিঃসরণ থেকে।
ঈড়পযরহবধষ (কোড ই-১২০) নামে একটি পোকা পাওয়া যায় যা স্কেল ইন্সেক্ট এর অন্তর্ভুক্ত যেখান থেকে প্রাকৃতিক কারমিন রং প্রস্তুত করা হয়। এই পোকাটি ক্যাক্টাস প্রজাতির মধ্যে বাস করে। পোকাটি ক্যারামিনিক এসিড তৈরি করে যা তার শরীর এবং ডিম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং পরে এলুমিনিয়াম ও ক্যালসিয়াম সল্টের সাথে মিশিয়ে রং তৈরি করা হয়। বর্তমানে কারমিন (লাল রং) খাবার ও লিপস্টিকে ব্যবহার করা হয়। এটি লাল কালার যা উল কাপড় রং করতে, জ্যাম, জেলিতে , বেকারী বিস্কিটেও ব্যবহার করা হয়। ফলে আমাদের সব কিছুর গভীরে যেয়ে দেখতে হবে আসলে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম। তবে অবশ্যই তা সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে যা মনগড়া নয়। (চলবে)
সুওয়াল: ব্যবসায়িক মালের কিসের উপর যাকাত দিতে হবে?
জাওয়াব: ব্যবসায়িক মালের মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে: একটা লোক মালের ব্যবসা করবে। সে ১০ লাখ টাকার জিনিস কিনলো। এখন এই মালের দাম ২০ লাখ টাকা হয়ে গেছে। পুঁজি ছিলো ১০ লাখ। ২০ লাখ হলেই সে আর ২০ লাখ টাকা পাচ্ছে না। কারণ যদি মালের দাম ৫ লাখ টাকা হয়ে যায় তাহলে কি করবে। বিক্রি করার আগ পর্যন্ত কেনা দামই থাকবে। যখন বিক্রি করে ফেললো, বেশি দাম পেলো তখন বেশি দামের উপরই যাকাত দিতে হবে।
মাল কিনলো ১০ লাখ টাকা দিয়ে কিন্তু এটা এখন বাজারে ৫ লাখ টাকা হয়ে গেছে তাহলে তাকে ৫ লাখ টাকার উপরই যাকাত দিতে হবে। যেহেতু এটা বাজার দরের উপর নির্ভর করে।
একটা লোক স্বর্ণের ব্যবসা করে তার যাকাতের এক হুকুম আর স্বর্ণ যে ব্যবহার করে তার আরেক হুকুম। দুই জনের দুই হুকুম।
একটা লোক স্বর্ণ কিনলো ১০ কোটি টাকার। বাজার দর এটার দাম আছে ১৪ কোটি টাকা বা ১৫ কোটি টাকা, তাহলে সে ১০ কোটি টাকার যাকাত দিবে। বিক্রিত দামে নয়, কেনা দামে। আর একটা লোক স্বর্ণ কিনলো, সে ব্যবহার করে। তার ১০০ ভরি স্বর্ণ আছে। ১০০ ভরি স্বর্ণ কিনেছিলো ১০ লাখ টাকা দিয়ে এখন এটা ৫০ লাখ টাকা হয়েছে।
তাহলে তাকে ৫০ লাখ টাকার উপর যাকাত দিতে হবে। দুইটার দুই হুকুম। এই বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে কিনলো তার পুঁজিতো সেটা। এখন ৫ লাখ টাকার জিনিস ২৫ লাখ টাকা বিক্রি করলে তখন তাকে ২৫ লাখ টাকার উপর যাকাত দিতে হবে। কারণ নিছাব আগেই হয়েছে।
লাভ-ক্ষতি দুটাই হিসাব করতে হবে। একটা হিসাব করলে হবে না। দুটাই হিসাব করতে হবে। দুইটা হিসাব করলে তাহলে বুঝতে সহজ।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সম্মানিত যাকাত আদায়ের বিধান : সাধারণভাবে যারা রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা করে তার কিছুই নেই। অর্থাৎ জমির মালিকের সাথে চুক্তি করে বাড়ি নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি করে। এই ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত পুঁজির হিসাব করতে হবে। এখানে ফ্ল্যাটের দাম দেখা যাবে না।
একটা লোক ৫০ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করলো। অতঃপর ১০ জন মালিকের সাথে চুক্তি করলো, জায়গা নিলো, ৫ কোটি টাকা লোন নিয়ে ফ্ল্যাটগুলো করতে থাকলো, এগুলো সে বিক্রি করবে, লাভ করবে। সে যে ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করছে, এটা তার ব্যবসার মাল, মূল পুঁজি। এটার উপর অর্থাৎ তার মূল পুঁজি ৫০ লক্ষ টাকারই যাকাত দিতে হবে। ঐ ৫ কোটি টাকার জন্যে ৫০ লক্ষ টাকা মাইনাস হবে না। ঐ ৫ কোটি টাকার বিল্ডিং আছে। ঐ বিল্ডিংগুলো সে যেহেতু বানিয়ে বিক্রি করবে সেটাতো তার মালিকানা বা অধীনে না। কারণ যে কোন কিছুর যাকাত দিতে হলে সেটা তার মালিকানায় ১ বছর থাকতে হবে। এখন সেটা তৈরি করা হলে বিক্রি করে যে লাভটা হবে সেই লাভটা যদি ১ বছর থাকে তাহলে তার নিছাব হবে।
ঔষধ কোম্পানীগুলোর সম্মানিত যাকাত আদায়ের হুকুম : ঔষধ কোম্পানীগুলোর ব্যাঙ্কে টাকা জমা থাকে। আবার বহু টাকার প্রোডাক্ট/পণ্য মার্কেটে/বাজারে থাকে। যে টাকা ব্যাঙ্কে আছে তার যাকাত যেমন আদায় করতে হবে, ঠিক তেমনি মার্কেটে যত টাকার প্রোডাক্ট আছে তারও যাকাত আদায় করতে হবে। তবে যে টাকা বকেয়া হিসেবে মার্কেটে আছে সেই টাকা যদি দেনাদাররা স্বীকার করে যে, আদায় করে দিবে তবে তা হস্তগত হওয়ার পূর্বেও আদায় করতে পারবে। অন্যথায় হস্তগত হওয়ার পরও আদায় করতে পারবে। আর দেনাদার যদি দেনা অস্বীকার করে অথবা টাকা দিতে অস্বীকার করে তবে সে টাকার যাকাত দিতে হবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মু’তাকিফ ব্যক্তি উনাদের জন্য তিনটি সুসংবাদ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












