হামিলু লিওয়ায়িল হামদ, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক তথা হাত মুবারক উনার স্পর্শ মুবারকে খাদ্যদ্রব্যে অভাবনীয় বরকত (৬ষ্ঠ পর্ব)
, ০১ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
(৮)
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমরা ১৩০ জন লোক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাদের মধ্যে কারো নিকট খাবার কিছু আছে কি? শুধু এক ব্যক্তির নিকট মাত্র একছা’ গম পাওয়া গেলো। তাই পিষে নেয়া হলো। আর এক ব্যক্তির নিকট একটি বকরী ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিকট হতে বকরীটি খরিদ করে যবেহ করলেন। ওটার গোশত রান্না করা হলো এবং কলিজা পৃথকভাবে ভুনা করা হলো।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তিকে এক একটি করে কলিজার টুকরা দিলেন এবং যারা তখনও উপস্থিত হননি, উনাদের প্রত্যেকের জন্যও একেকটি করে টুকরা পৃথক করে রেখে দিলেন। বকরীর গোশত দ্বারা দুইটি পাত্র ভর্তি হলো। অতঃপর প্রত্যেকেই পরিতৃপ্তভাবে গোশত খেলেন এবং দুইটি পাত্রেই উহা উদ্বৃত্ত রইলো। তারপর তা নিয়ে উটের পিঠে রেখে দেয়া হলো। সুবহানাল্লাহ!
(৯)
আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, কোন এক রাত্রে আমরা কোন কিছু আহার না করেই ঘুমিয়ে পড়লাম। প্রত্যুষে জাগ্রত হয়ে আমি কিছু খাদ্য সংগ্রহে ব্যাপৃত হলাম এবং এক দিরহাম দিয়ে কিছু আটা ও গোশত খরিদ করে সাইয়্যিদাতুন নিসা, আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট নিয়ে আসলাম। তিনি তা রান্না করে আমাকে বললেন, আব্বাজান উনাকে ডেকে আনলে ভাল হতো।
তখন আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট চলে গেলাম। তিনি তখন শায়িত অবস্থায় ছিলেন এবং কিছুটা ক্ষুধার্তও ছিলেন। আমি উনার নিকট আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের গৃহে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, আপনি চলুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আমাদের গৃহে তাশরীফ মুবারক রাখলেন, তখনও খাবারের ডেকচি উনুনের উপর টগবগ করছিলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার জন্যও কিছু খাবার উঠিয়ে রাখুন। তখন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি একটি পাত্রে উনার জন্য কিছু খাবার রেখে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আবার বললেন, উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ হযরত ইবনাতু আবীহা আলাইহাস সালাম উনার জন্যও কিছু খাবার উঠিয়ে রাখুন। সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার জন্যও উঠিয়ে রাখলেন।
এইভাবে এক এক করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নয়জন আজওয়াজুম মুত্বাহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের জন্যই খাবার উঠিয়ে রাখা হলো। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এখন আপনি আপনার পিতা এবং আহাল উনার জন্য খাবার উঠান এবং নিজের জন্যও উঠিয়ে নিন। সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সকলের খাবার উঠিয়ে নিয়ে আমি যখন ডেকচিটি উনুনের উপর হতে তুলে নিলাম, দেখলাম, তখনও তা সম্পূর্ণরূপে খাবার দ্বারা ভর্তি রয়েছে। মোটকথা আমরা সকলেই তৃপ্তিসহকারে আহার করলাম। সুবহানাল্লাহ!
(১০)
হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এক রাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাহিরে এসে আমাকে বললেন, আছহাবে ছুফফা উনাদেরকে ডেকে আনুন। আমি উনাদেরকে ডেকে আনলে তিনি উনার সামনে একটি খাঞ্চা রেখে দিলেন, যার মধ্যে সম্ভবতঃ একমুদ পরিমাণ যবের খাদ্য ছিলো। তিনি উনার পবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) উনার উপর রেখে বললেন, নিন; বিসমিল্লাহ বলে খেতে শুরু করুন। আমরা প্রায় ৭০-৮০ জন লোক ছিলাম। সকলে পেট ভরে আহার করলাম। দেখা গেলো এরপরেও খাদ্য পূর্ববৎ রয়েছে এবং খাদ্যের উপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অঙ্গুলি মুবারক উনার চিহ্ন বিদ্যমান। সুবহানাল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












