নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা মুবারক
, ০৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৮ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
পবিত্র রওযা শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থিত থাকার কারণে এবং পবিত্র মদীনা শরীফ যমীনে অবস্থিত থাকার কারণে পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা-মর্তবা লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! একই কারণে যমীনের মর্যাদা আসমানের থেকে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ (শামী)-এর বাবুয্ যিয়ারহ-তে বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই পবিত্র রওযা শরীফ উনার যে মাটি মুবারক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকের সাথে লেগে রয়েছে, তা যমীন ও আসমানের সমস্ত কিছু থেকে ফযীলতপূর্ণ। এমনকি সুমহান আরশে আযীমের থেকেও ফযীলতপূর্ণ।” সুবহানাল্লাহ!
‘মিশকাত শরীফ’ উনার কিতাবুল হজ্জ-এর সর্বশেষ বাবে বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা থেকে মারফু’ সনদে বর্ণিত আছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার দীদার মুবারকে গমণের পর পবিত্র হজ্জ করে আমার যিয়ারত করে, সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে আমার হায়াত মুবারকে যিয়ারত মুবারক করলো।” (বায়হাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান)
‘মিশকাত শরীফ’ উনার কিতাবুল হজ্জ-এর সর্বশেষ বাবে বর্ণিত আছে, “হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পরিবারের একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় শুধু আমার যিয়ারত মুবারক উনার উদ্দেশ্যে এসে আমার যিয়ারত মুবারক করলো, কিয়ামতের দিন সে আমার পার্শ্বে প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (বায়হাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান)
পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার দীদার মুবারকে গমণের পর আমার যিয়ারত মুবারক করলো, সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার যিয়ারত মুবারক (সাক্ষাৎ) করলো।” সুবহানাল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ইযাহ)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার রওযা শরীফ যিয়ারত মুবারক করলো, তার জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য বা ওয়াজিব হয়ে গেলো।” সুবহানাল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ঈযাহ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমার (রওযা শরীফ) যিয়ারত মুবারক করলো না, সে আমার সাথে চরম বেয়াদবী করলো।” নাঊযুবিল্লাহ! (ইখতিয়ার, নূরুল ঈযাহ)
তেমনিভাবে যারা পবিত্র হজ্জ করতে গেলো এবং ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নতসহ যথারীতি হজ্জ সমাধা করলো কিন্তু পবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারত মুবারক করলো না তাদের হজ্জ কবুল হবে না। অর্থাৎ তাদের হজ্জ করা না করা সমান। যেমন: এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি হজ্জ করলো, কিন্তু আমার (রওযা শরীফ) যিয়ারত মুবারক করলো না, সে আমার সাথে বেয়াদবী করলো।” অর্থাৎ তার হজ্জ কবুল হবে না। (জযবুল কুলূব ইলা দিয়ারিল মাহবূব) উদ্ধৃত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে থেকে পবিত্র রওযায়ে পাক জিয়ারত মুবারক উনার গুরুত্বের পাশাপাশি মূলত পবিত্র রওযা শরীফ উনার বেমেছাল শান ও মানের বিষয়টি প্রতিভাত হয়। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ্ পাক তিনি যে সকল বস্তুকে সম্মানিত করেছেন, উনাদেরকে যে ব্যক্তি সম্মান করলো, এটা তার জন্য কল্যাণ বা ভালাইয়ের কারণ।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩০)
মূলত, পবিত্র রওযা শরীফ উনার ফযীলত-ফযীলত বর্ণনা করা আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনা করা একই কথা। এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ নাযিল করেছেন। আর ‘কাওছার’ উনার লক্ষ-কোটি অর্থ রয়েছে। একটা হচ্ছে খাইরে কাছির তথা সমস্ত ভালাই দেয়া হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকের কারণে সব কিছুই উত্তম থেকে উত্তমতর করা হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনাকে সম্মানিত করে উহাকে হারাম করেছেন, আর আমি পবিত্র মদীনা শরীফ উনাকে উহার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থলকে সম্মানিত করলাম যথাযোগ্য সম্মানে। উহাতে রক্তপাত করা যাবে না, যুদ্ধের জন্য অস্ত্র গ্রহণ করা যাবে না এবং আলাফ ব্যতীত উহাতে কোনো গাছের পাতা কাটা যাবে না।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখ্য, পবিত্র মদীনা শরীফ উনাকে সম্মান করা ঈমান। এজন্য পবিত্র মদীনা শরীফ উনার সংশ্লিষ্ট সমস্ত কিছুকেই অত্যন্ত মুহব্বত করতে হবে। অবমাননা করা যাবে না। অন্যথায় কঠিন গুনাহগার হতে হবে। সেটাই হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিয়েছেন যে, “যে ব্যক্তি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাটি নাপাক বলবে তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে এবং খালিছ তওবা-ইস্তিগফার না করা পর্যন্ত তাকে বন্দি করে রাখতে হবে।”
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৫
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (৮)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৪
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৩
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২২
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৯)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২১
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ক্বওল শরীফ
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












