হরদম পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে আত্মনিয়োগ করা ইশকে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিদর্শন
, ১৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সু-সংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারীরূপে। অতএব, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনো এবং উনার খিদমত মুবারক করো, তাযীম-তাকরীম মুবারক করো ও ছানা-ছীফত মুবারক অর্থাৎ প্রশংসা করতে থাকো সকাল থেকে সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে”। (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনাই হলো সমস্ত কায়িনাতের জন্য প্রথম দায়িত্ব। এরপর ঈমানদারদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করা, দ্বিতীয়ত উনার তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, তৃতীয়ত উনার ছানা-ছীফত মুবারক করা। আর এই বিষয়গুলো করতে হবে সকাল, সন্ধ্যা তথা দায়িমীভাবে সর্বক্ষণ। সুবহানাল্লাহ!
(১) খিদমত মুবারক: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার অগণিত বেমেছাল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে গেছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। যেমন- আমীরুল মু’মিনীন, খলীফায়ে ছালিছ, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে বর্ণিত আছে- তাবুকের জিহাদের প্রস্তুতিকালে একদিন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ১ হাজার স্বর্ণমুদ্রা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমত মুবারকে পেশ করলেন। আর সেই স্বর্ণমুদ্রাগুলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার কোর্তা মুবারকে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন আর বলেছিলেন- এরপর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে আর কোনো আমল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। সুবহানাল্লাহ!
(২) তা’যীম-তাকরীম মুবারক: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে বর্ণিত আছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাপবিত্র শান মুবারকে অবমাননাকর কথা বলার অপরাধে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাট্টা কাফির কা’ব বিন আশরাফ ও আবু রাফে নামক দুই মুনাফিককে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ও হিকমতের সাথে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেন। দুই কাফিরের প্রতি মৃত্যুদন্ড জারি করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তা’যীম-তাকরীম উনার এক সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
(৩) ছানা-ছিফত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক করেছেন- “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ অর্থাৎ পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করো এবং সালাম মুবারক দাও, দেয়ার মতো অর্থাৎ অত্যন্ত আদবের সাথে”। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছীফত মুবারক করে পবিত্র ছলাত শরীফ পেশ করে থাকেন। এবং মু’মিন মুসলমানদের প্রতিও পবিত্র ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক পেশ করার আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আমল মুবারক কত ফযীলতপূর্ণ; সেটা চিন্তা-কল্পনার বাহিরে। কেননা যে আমল মুবারক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার দায়িমী শান মুবারক। অনাদী-অনন্তকাল ধরে যিনি উনার ইসমে জাত পাক উনার শান মুবারকে ছলাত মুবারক পাঠ করে যাচ্ছেন। এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য ছলাত পাঠ করা ফরজ করে দিয়েছেন; সেই মহামহিমান্বিত আমল মুবারক “পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” পালন করা জীন-ইনসানের জন্য কত নিয়ামতপূর্ণ, কত ফযীলতপূর্ণ এবং সেই আমল মুবারক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে হর-হামেশা ছলাতে মশগুল থাকা কতটুকু ফরজে আইনের অন্তর্ভুক্ত সেটা ভাষায় বর্ণনাতীত।
মূলত: হরদম পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফের ফিকিরে থাকা, আর্থিক-শারিরীক খিদমতে আন্জাম দেয়া হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইশক-মুহব্বত মুবারক অন্তরে থাকার নিদর্শন। সুবহানাল্লাহ!
তাই উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাবিদার প্রত্যেকের জন্য ফরজ হচ্ছে- পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের জন্য সার্বিক সময়, মাল, জান দিয়ে খিদমত মুবারকে শরীক থাকা। যা সকলের জন্য হাক্বীক্বী নিসবত-কুরবত, রেজামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের কারণ হবে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












