হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১ম পর্ব)
, ১৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ফযীলত মুবারক সম্পর্কে অনেক আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে অনেক হাদীছ শরীফও বর্ণিত রয়েছে।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি মুহাজির ও আনছার সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالسَّابِقُوْنَ الْأَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهَاجِرِيْنَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِيْنَ اتَّـبَـعُوْهُمْ بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْـهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ تَحْتَـهَا الْأَنْـهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْـهَا أَبَدًا ۚ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
অর্থ: মুহাজির ও আনছার সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যারা (ঈমান আনয়নে) অগ্রগামী, প্রথম উনারা এবং উনাদেরকে যারা উত্তমভাবে অনুসরণ করবেন উনাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। উনাদের জন্য তিনি এমন জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন যার নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে। উনারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবেন। ইহা উনাদের জন্য বিরাট কামিয়াবী। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০)
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا رَاٰنِىْ أَوْ رَأَى مَنْ رَاٰنِىْ
অর্থ: ঐ সকল মুসলমানদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, যারা আমাকে দেখেছেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদেরকে যারা দেখেছেন অর্থাৎ (হযরত তাবিয়ীনে কিরাম) উনাদেরকেও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। (তিরমিযী শরীফ, মা’রিফাতুছ ছাহাবা ইত্যাদি)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে প্রতিভাত, সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সার্বিকভাবে সবদিক থেকে চূড়ান্তভাবে পূর্ণতাপ্রাপ্ত ছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এমন মকবুল হয়েছেন যার কারণে তিনি উনাদের প্রতি যমীনে থাকতেই সন্তুষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। এমনকি উনাদেরকে যারা দেখবেন এবং উত্তমভাবে অনুসরণ করবেন উনাদের জন্যও সন্তুষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বৈশিষ্ট্য মুবারক সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلٰكِنَّ اللهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّـنَهٗ فِي قُـلُوْبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَ ۚ أُولٰئِكَ هُمُ الرَّاشِدُوْنَ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের নিকট সম্মানিত ঈমানকে প্রিয় বা পছন্দনীয় করে দিয়েছেন এবং আপনাদের অন্তরে তা সুশোভিত করে দিয়েছেন। আর আপনাদের নিকট কুফরী, ফাসিকী ও নাফরমানীকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। উনারাই হচ্ছেন হাক্বীক্বী হিদায়েতপ্রাপ্ত। (পবিত্র সূরা হুজুরাত শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ০৭)
উল্লেখ্য, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মহানতম বৈশিষ্ট্য মুবারক স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে জানিয়ে দিয়েছেন; মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
কাজেই এত এত আয়াত শরীফ-হাদীছ শরীফ দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের শান-মান মুবারক বা বুলন্দী শান মুবারক স্পষ্ট করে দেয়ার পরও কিছু জাহিল, বদ আক্বীদাধারী মালানা-মুফতী দাবিদাররা উনাদের শান মুবারক নিয়ে চূ-চেরা করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রতি যুগে যুগেই উনাদের বিরুদ্ধবাদীরা তৎপর ছিলো; উনাদের যামানায় যেমন আবূ জাহেল-আবূ লাহাব, উতবা-শায়বা, মুগিরা ছিলো; তদ্রুপ তাদেরই উত্তরসূরী হিসেবে এখনও কিছু বিরুদ্ধবাদী আছে; যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নাকিছ বা অপূর্ণ বলতে চায়, উনাদের প্রতি মিথ্যারোপ করতে চায়, দোষারোপ করতে চায়, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
এই সমস্ত কথিত মালানা-মুফতী, মুহাদ্দিস, মুফাসসির দাবিদাররা নিজেরা যেমন কুফরী আক্বীদা পোষণ করছে; সাধারণ মানুষেরও আক্বীদা নষ্ট করছে আবার উনাদের শান মুবারকের খেলাফ কিতাবও ছাপাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ১৪৪৬ হিজরী সনে প্রকাশিত এক মাসিক পত্রিকায় পাকিস্তানের কথিত মুফতী তকী উসমানী সে থানবীর বরাত দিয়ে লিখেছে- “মক্কায় থাকা অবস্থায় মুসলমানদের সকলের মাঝে উন্নত চরিত্র, ইখলাছ, সবর ও তাক্বওয়া গুণ দৃঢ়তা লাভ করেনি। এ অবস্থায় সশস্ত্র জিহাদের অনুমতি দিলে সকল মোকাবিলা হতো কেবল উদ্দীপনা, জোশ, ক্রোধ ও প্রতিশোধের লক্ষ্যে। কেবল আখলাক্ব ও আল্লাহ পাক উনার কালিমা বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে হতো না। এ অবস্থায় উনারা ফেরেশতাদের পবিত্র কাফেলার সহযোগিতা লাভের উপযুক্ত হতেন না। এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা লাভেরও যোগ্য বিবেচিত হতেন না। ” নাউযুবিল্লাহ!
থানবীর বরাত দিয়ে তকী উসমানী সে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে মনগড়া, দলীলবিহীন এবং উনাদের সুমহান শান বা মর্যাদা মুবারকের খিলাফ কুফরী বক্তব্য প্রদান করেছে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তিনটি বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












