জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
বিলাদত শরীফ: ৬১৯ খৃ: বিছাল শরীফ: ৬৮ হিজরী (৬৮৮ খৃ:) বয়স মুবারক: ৭০ বছর।
, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পরিণত বয়সে:
এক বর্ণনা মতে, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতের শেষ পর্যন্ত বছরার গভর্ণরের দায়িত্ব পালন করেন এবং হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতের সূচনাতে তিনি মক্কা শরীফে চলে যান এবং নির্জনে বসবাস করতে থাকেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সিবতু রসূল আল খমিস, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) তিনি কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে যখন পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ হয়ে কুফায় রওয়ানা হচ্ছিলেন, তখন হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে কুফাবাসীদের গাদ্দারী করার প্রবণতা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কারবালায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও অন্যান্য শুহাদায়ে কারবালা আলাইহিমুস সালাম উনাদের শাহাদাত বরণে হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ভীষণ আঘাত পান। তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে তিনি তায়েফে চলে যান। শেষ জীবনে অসুস্থ হয়ে যান এবং তায়েফেই পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।
ফযীলত ও মর্যাদা:
হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বাল্যকাল হতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক পর্যন্ত ৮/১০ বছর উনার মুবারক সান্নিধ্যে কাটিয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়ার সময় অর্থাৎ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় তিনি ১৩ বছরের একজন কিশোর ছিলেন। এতদসত্বেও তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ১৬৬০ খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ নিজ স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে মুসলিম জাতির বিশেষ কল্যাণ সাধন করেন, যা বিভিন্ন হাদীছ শরীফের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি সব ধরনের পথ ও পন্থা অবলম্বন করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে অবস্থান মুবারককালে তিনি উনার অমীয় ঝর্ণাধারা থেকে দু’টি অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করেন এবং উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরে বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট থেকে জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে থাকেন। জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে তিনি যে কত বিনয়ী ও কষ্টসহিষ্ণু ছিলেন উনার নিজের এক বর্ণনা থেকেই তা অনুমান করা যায়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি যখনই অবগত হয়েছি, একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন একটি হাদীছ শরীফ সংরক্ষিত আছে, আমি তৎক্ষনাৎ সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘরের দরজায় উপনীত হয়েছি। দ্বিপ্রহরকালীন বিশ্রামের সময় উপস্থিত হলে দরজার সামনে চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়েছি। বাতাস ধুলাবালি উড়িয়ে আমার জামা-কাপড় ও শরীর হয়ত একাকার করে ফেলেছে। তারপর উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আমার দুরাবস্থা দেখে বলেছেন, হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাত ভাই! আপনি কি উদ্দেশ্যে এসেছেন? আমাকে খবর দেননি কেন, আমি নিজেই গিয়ে আপনার সাথে দেখা করে আসতাম। আমি বলেছি, আপনার নিকট আমারই আসা উচিত। কারণ ইলিম অর্থাৎ জ্ঞান এসে গ্রহণ করার বস্তু, গিয়ে দেয়ার বস্তু নয়। তারপর উনাকে আমি সংশ্লিষ্ট হাদীছ শরীফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিয়েছি।
জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন বিনয়ী। তিনি জ্ঞানীদের উপযুক্ত কদরও করতেন। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদিন কাতিবে ওহী ও বিচার, ফিক্বাহ, কিরায়াত ও ফারায়েজ শাস্ত্রে মদীনা শরীফের আলিমদের প্রধান হযরত যায়েদ বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাহনের উপর আরোহন করবেন, এমন সময় হাশেমী যুবক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বাহনের লাগাম ও জিনটি ধরে হযরত যায়েদ বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আরোহন করতে সাহায্য করলেন। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে বললেন, হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচাত ভাই! এ আপনি কি করছেন, ইহা ছেড়ে দিন। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমাদের উলামা ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে উক্তরূপ আচরণ করার জন্যই আমরা আদিষ্ট হয়েছি। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আপনার একটি হাত মুবারক বাড়িয়ে দিন। তিনি একখানা হাত বাড়িয়ে দিলে হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঝুঁকে পড়ে উনার হাত মুবারকে বুছা দিলেন এবং বললেন, আমাদের নবী পরিবারের লোকজনের সাথে এরূপ আচরণ করার জন্যও আমরা আদিষ্ট হয়েছি।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা এবং বিশেষ করে জ্ঞান অন্বেষণে উনার অভ্যাস, একাগ্রতা, কর্মপদ্ধতি দেখে সে যুগের বড় বড় জ্ঞানীগণ চরম বিস্ময়বোধ করেছেন। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তিনটি বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












