জীবনী মুবারক
হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
, ২৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন একজন আরব কবি। উনাকে অল্প বয়সী ছাহাবীদের মধ্যে গণ্য করা হয়। একজন সম্ভ্রান্ত বংশোদ্ভূত ব্যক্তিত্ব হওয়ার কারণে তিনি গোত্রের নেতা ছিলেন। একজন অশ্বারোহী এবং একজন কবি হিসাবে উনার খ্যাতি ছিলো।
জাহিলিয়াতের যুগেও তিনি নিজের জন্য মদ্যপান হারাম করেছিলেন। পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পূর্বেই তিনি সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। উনার গোত্রের তিন শত সওয়ারী নিয়ে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে আগমন করেন এবং সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর উনার গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি “মুয়াল্লাফাতুল কুলূব” (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাঁদেরকে বিশেষক্ষেত্র হিসাবে দান করেছেন) উনার আওতায় হুনাইনের জিহাদ থেকে প্রাপ্ত গণীমত থেকে উনাকে একশত উট দান করা হয়েছিলো।
কথিত আছে যে, উনার পিতার ‘দিমার’ নামে একটি প্রতিমা ছিলো। তিনি এবং উনার গোত্রের লোকেরা এই প্রতিমাটির পূজা করতেন। একবার মধ্য রাতে তিনি সেই প্রতিমার মধ্যে একটি আওয়াজ শুনতে পান। দ্বিতীয়বার এক ব্যক্তি উনাকে ঘুম হতে জাগিয়ে তোলে। তখনও তিনি একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পান। উভয় সময়ই তিনি সত্যিকার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আবির্ভাবের ঘোষণা শ্রবণ করেন। এতে উনার মধ্যে ভাবান্তর উদয় হয়। উনার গোত্রের তিনশত সওয়ারীসহ তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণের জন্য পবিত্র মদীনা শরীফে গমণ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ইসলাম গ্রহণের পরে এই পরামর্শ দেন যে, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় অভিযানে তিনি যেন উনার গোত্রের লোকজনসহ আল-কুদাইদ নামক স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে মিলিত হন। অতঃপর হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আপন গোত্রের নিকট ফিরে যান এবং নিজের প্রতিমাটি পুড়িয়ে ফেলেন। উনার আহলিয়া (স্ত্রী) আহালের (স্বামীর) ধর্মান্তরিত হওয়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে আপন গোত্রের লোকজনের নিকট ফিরে যান।
হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু স্বীয় অঙ্গীকার রক্ষা করেছিলেন এবং নিজ গোত্রের ৯ শত সশস্ত্র বাহিনীসহ মক্কা শরীফ বিজয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মক্কা শরীফ বিজয়ের পর তিনি নিজ গোত্রে ফিরে যান এবং হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
হযরত হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বছরার নিকটবর্তী গ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন। বলা হয়, পরবর্তীতে তিনি দামেশকে এসে সেখানে একটি বাড়ী তৈরী করেছিলেন।
তিনি হাদীছ শরীফও বর্ণনা করেছেন। এক হাদীছ শরীফে তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরাফাতের ময়দানে সন্ধ্যায় উনার উম্মতের জন্য মাগফিরাত (ক্ষমা) ও রহমত উনার দোয়া করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দোয়া কবুল করে জাওয়াব দেন যে, আপনার উম্মতের জন্য আপনার দোয়া আমি কবুল করলাম এবং তাদেরকে ক্ষমা করলাম, তবে যারা নিজেরা পরস্পরের উপর জুলুম করবে তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় দোয়া করলেন, আয় আমার মহান রব তায়ালা! আপনি তো জালিমকে ক্ষমা করতে পারেন এবং মজলুমকে (তার উপর কৃত) জুলুমের বিনিময়ে ছওয়াব দিতে পারেন। সেই সন্ধ্যায় মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে আর কোন সাড়া পাওয়া গেলো না।
পরবর্তী দিন সকাল বেলা মুজদালিফায় তিনি উম্মতের জন্য পুনরায় দোয়া করতে থাকেন। দোয়ার অল্প কিছুক্ষণ পরই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুচকি হাঁসলেন। তখন কোন এক ছাহাবী বললেন, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! আপনি এমন এক সময় মুচকি হাঁসলেন, সচরাচর এ সময় আপনি হাঁসেন না। আপনার হাঁসির কারণ কি? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু ইবলিসের অবস্থা দর্শনে আমার হাঁসি এসেছে। সে যখন জানতে পারলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার উম্মতের জন্য আমার দোয়া কবুল করেছেন এবং অত্যাচারীকেও ক্ষমা করেছেন, তখন সে হায় হায় বলে আক্ষেপ ও বিলাপ করতে লাগলো এবং তার নিজ মস্তকে মাটি নিক্ষেপ করতে লাগলো। আমি তার বিলাপ দেখে হেঁসেছি।
কবি হিসাবে হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খ্যাতির মধ্যে সুন্দর বাক্য বিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গে উনার বৈচিত্রময় ব্যক্তিত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। কথিত উমাইয়া খলীফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ান বলেন, কবিতায় সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত আব্বাস ইবনে মিরদাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যখন তিনি বলেন,
أقاتل فى الكتيبة لا أبالى –
- أفيها كان حتفى أم سواها
(আমি শত্রুবাহিনীর অভ্যন্তরভাগে প্রবেশ করে যুদ্ধ করি। আমি কোন পরওয়া করি না, আমি উনার মধ্যে কি ধ্বংস হয়ে যাই নাকি রক্ষা পাই।) সূত্র: উসুদুল গাবা, ইছাবা। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তিনটি বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘গরুর গোশতে রোগ আছে’ এই সংক্রান্ত বাতিল হাদীছ ও তার খন্ডনমূলক জবাব
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পক্ষ থেকে উম্মতের ১২ হাজার কুরবানী করার ঐতিহাসিক অকাট্য দলীল (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












