সম্পাদকীয়
সোনার বাংলার সব কিছুতেই সোনা। এক নারিকেল চাষেই দেশে ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় এবং লাখ লাখ লোকের বেকারত্বের অবসান সম্ভব। সহজেই হবে অনেক কর্মসংস্থান, আমদানীর সাশ্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমৃদ্ধি। ইনশায়াল্লাহ!
দেশবাসীর কাছে নারিকেলের সমৃদ্ধি তুলে ধরা সরকারের জন্য ফরজ।
, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
নারিকেল একটি বহুমুখী ফল, যা জনজীবনে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খাদ্য, পানীয়, জ্বালানি থেকে প্রসাধনসামগ্রী, কোথায় নেই এর ব্যবহার। নারিকেলের বহুবিধ ব্যবহার এ ফলটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এর কোনো অংশই ফেলনা নয়। নারিকেল গাছের পাতা, ডালা, ফল, ফুল, নারিকেলের ছোবড়াসহ প্রতিটি অংশ কাজে লাগে। কচি ডাব তৃষ্ণা নিবারণে জনপ্রিয় পানীয়। নারিকেলের কয়ার (নারিকেলের ভিতরের শাঁস) থেকে তেল উৎপাদন হয়। দেশের অভ্যন্তরেই নারিকেল তেলের বিশাল বাজার। নারিকেলের কয়ার থেকে তেল উৎপাদনের সময় খৈল উৎপন্ন হয়। যা গরু-ছাগলের খাদ্য এবং ফসলী জমিতে সার হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া প্রসাধনী সামগ্রী ছাড়াও নারিকেলের কয়ার থেকে ম্যাট, দড়ি, পাপোস, ফোম, গদি, ম্যাট্রেস, জাজিমসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। যা সীমিত আকারে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। নারিকেলের কয়ার থেকে উৎপাদিত কয়ার রোপের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে দেশের স্বল্প সংখ্যক রপ্তানিকারক কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে কয়ার রোপ রপ্তানি করছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৩১ হাজার হেক্টর জমিতে নারিকেলের চাষ হচ্ছে যা থেকে বছরে উৎপাদন হয় ৮৯ হাজার মেট্রিক টন। সামান্য যতেœ বছরে একটি নারিকেল গাছে ৬০ থেকে ৭০টি নারিকেল ধরে। আর সঠিক যতœ নিলে তা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। একটি পরিবারে ৫/৬টি নারিকেল গাছ থাকলে নিজের চাহিদা পূরণ করে বছরে অতিরিক্ত ১০/১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
(২)
নারিকেল ছোবড়া থেকে সৌখিনপণ্য তৈরির প্রধান উপাদান কোকো ফাইবার এবং মাটিবিহীন ছাদ বাগান, নার্সারির গাছ বপন, পশু ও পোল্ট্রিখামার তৈরির অন্যতম উপাদন কোকো ডাস্ট। কোকো ফাইবার ও কোকোডাস্ট উৎপাদনের প্রধান বাজার দেশের অন্যতম নারিকেল উৎপাদনকারী নূরপুর জেলা।
ব্যাপক নারিকেল চাষে বদলে যেতে পারে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা দেশের মানুষের ভাগ্য।
কৃষি ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে যে ১০ কোটি নারিকেল পাওয়া যাচ্ছে, নতুন গাছ লাগাতে পারলে পাঁচ বছর পর বছরে প্রতি গাছে হেক্টর প্রতি ১৭০টি ধরলে দুই হাজার ৫০০ কোটি নারিকেল উৎপন্ন হবে। প্রতিটি ডাব গড়ে ৬০ টাকা হিসাব করলে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা সম্ভব। নারিকেল চারা রোপণের পর দীর্ঘ প্রায় ৫০-৬০ বছর নিয়মিত ফল ধরে থাকে। এ ছাড়া, ডাব না খেয়ে নারিকেল থেকে ছোবরা দিয়ে নানা ধরণের পণ্য উৎপাদন হয়। এসব থেকে আরো বেশি লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা।
(৩)
জানা যায়, বিগত ১৯৬৫ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ছোট বড় মিলে মোট ১৫ বার প্রলয়ঙ্করী পানিচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের চরম প্রতিকূল প্রভাবে পর্যাপ্ত জানমাল বিনষ্ট হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় লবণাক্ত ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলাগুলোর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আবাদযোগ্য পতিত জমিতে একমাত্র নারিকেল চাষ সম্প্রসারণই সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পানিবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে নারিকেলের মতো লবণাক্ততা সহনশীল বৃক্ষ আর নেই বলা যায়।
জানা যায়, নারিকেল উৎপাদনে বিশে^ বাংলাদেশের অবস্থান ২৮তম। সরকারী ভুল হিসেবে প্রতি বছর দেশে ১০ কোটি নারিকেল উৎপাদন হয়। প্রায় ৪৬ হাজার ৮৯৯ হেক্টর জমিতে নারিকেল চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয় দুই হাজার ৫৬৪টি নারিকেল। অথচ দেশে উৎপাদন হচ্ছে এরচেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি, ১০ হাজার ৭৩৬টি। বিবিএস বলছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় লবণাক্ত ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ জেলাগুলোতে প্রায় ১৮ লাখ হেক্টর আবাদযোগ্য পতিত জমি পড়ে আছে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৪২ লাখ কৃষি বসতবাড়ি রয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি নারিকেল গাছ রয়েছে। তবে, প্রতিটি বাড়িতে আরো কমপক্ষে তিনটি করে নারিকেল গাছ লাগানো যাবে। সবমিলিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের বসতবাড়ি ও পতিত জমিতে প্রায় ৩৫ কোটি নারিকেল গাছ লাগানো সম্ভব।
(৪)
দেশে বছরে খাবারের তেল আমদানির পেছনে ব্যয় হয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় নারিকেল তেলের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। এতে আমদানি ব্যয় হ্রাস সম্ভব। উপকূলে মোট জনশক্তির ৪০ শতাংশ আছে কৃষির সাথে জড়িত। নারিকেল গাছ লাগানোর মাধ্যমে আরো ২০ শতাংশ কর্মক্ষম জনশক্তি কৃষিতে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার যদি নারিকেল সম্প্রসারণ নিয়ে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তাহলে এর অর্জন হবে বহুগুণ।
(৫)
নারিকেলের কয়ার (নারিকেলের ভিতরের শাঁস) থেকে তেল উৎপাদন হয়। আমাদের দেশের নারিকেলের শাঁসের ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। এই ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতি বছর বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে নারিকেলের শাঁস আমদানি করতে হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। অপরদিকে শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ নারিকেল তেল এবং নারিকেলের শাঁস রপ্তানি করছে। ডাবের পানি বোতলজাত করেও রপ্তানি করছে তারা। সে সব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারিকেল সম্পদ বিশেষ অবদান রাখছে। আমাদের দেশে নারিকেল চাষে সমৃদ্ধি আনা সম্ভব। নারিকেলের উৎপাদনকারী দেশগুলোর মত আমাদের দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নারিকেল উৎপাদন করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। আমাদের দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। বেকার তরুণ যুবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারিকেল চাষে উৎসাহিত করতে হবে। এসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে নারিকেল চাষ করতে পারলে আমরা বড় ধরণের সুফল পাবো।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আত তাসিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আম্রিকা, ইসরাইল আর ফ্রান্সের ষড়যন্ত্রে- মুসলিম দেশ ইথিওপিয়ায় চলছে মর্মান্তিক গৃহযুদ্ধ আর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং লখতে জিগারে সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আহলে বাইতে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নিবরাসাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ ক্বায়িম-মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ নাওয়াদা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণের সপ্তম দিন। তথা মহিমান্বিত আক্বীক্বা শরীফ।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
লাখো অভিনব অর্জন, কর্মদক্ষতা তথা সাফল্যের মাঝে বিজিবির খুব কম কাজের খবরই গণমাধ্যমে আসে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নীরব ঘাতক ‘প্যারাকোয়াট’ সহ ১৭ রকমেরঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক অবাধে ব্যবহার হচ্ছে।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঈদে আকবর মুবারক! ঈদে আ’যম মুবারক!! মহা ঈদ মুবারক!!! ক্বায়িম মাক্বামে সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ। সুবহানাল্লাহ! ক্বায়িম-মাক্বামে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ নাওয়াদা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যা গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সুমহান দিবস।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সালাফী ধর্মপ্রতিমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। দায় এড়াতে পারেনা জুলাই সনদের এল.জি.বি.টি.কিউর সমর্থনকারী ধারা এবং সমর্থনকারী জামাতীরা।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যা উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, বিনতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাধারণ মুসলিম শুধু ফিলিস্তিন-কাশ্মীরের প্রতি সহানুভূতিতেই সীমাবদ্ধ
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












