সুলত্বানুল হিন্দ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
, ১৫ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২১ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ শরীফ
মুহিব বা আশিককে চারটি বিষয়ের প্রতি অতীব যতœবান হতে হয়:
সুলত্বানুল হিন্দ, হযরত গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মুহব্বতের পথে প্রকৃত মুহিব বা আশিক সেই ব্যক্তি যে দুনিয়া-আখিরাত উভয় জগত হতে নিজেকে বিমুখ রেখেছে। অর্থাৎ সে ব্যক্তি দুনিয়ার ধন-দৌলত, ঐশ্বর্যের মুহতাজ হবে না। তেমনি জান্নাতের নাজ-নিয়ামতের আশাও করবে না। তিনি আরো বলেন, মুহব্বত হাছিলের পথে মুহিব বা আশিককে চারটি বিষয়ের প্রতি অতীব যতœবান হতে হয়।
(১) মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরে-ফিকিরে সন্তুষ্ট চিত্তে সবসময় মশগুল থাকা।
(২) যিকির-ফিকিরের পূর্ণতার সর্বোচ্চ স্তরে তাকমীলে পৌঁছানো।
(৩) এমনভাবে শোগল করা (মহান আল্লাহ পাক উনার ধ্যান-খেয়ালের একটি প্রক্রিয়া) যাতে দুনিয়ার মুহব্বত বিদূরিত হয়।
(৪) বিনিত-বিনম্র হয়ে সবসময় কান্নাকাটি করা। অর্থাৎ অনুনয়-বিনয় সহকারে কান্নাকাটি করলে মন যেভাবে বিগলিত হয় ঠিক সেই অবস্থা সবসময় বজায় রাখা।
মুহিব বা আশিকদের জন্য চারটি মঞ্জিল রয়েছে:
(১) মুহব্বত
(২) ইলমিয়াত বা জ্ঞান অর্জন
(৩) হায়া বা লজ্জা
(৪) তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান
মুহিবে ছাদিক (প্রকৃত আশিক) সেই ব্যক্তি যে নিজের পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, পরিবার-পরিজন এর মোহে মোহগ্রস্ত না হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বতে সর্বদা গরক বা বিভোর থাকেন। প্রকৃতপক্ষে কেবল ঐ ব্যক্তির সাথে মুহব্বত রাখেন যার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুহব্বত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (দলীলুন আরিফীন-১১৪)
ঈদের দিনে হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি
ঈদের দিন। নতুন পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিহিত অবস্থায় হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঈদগাহের উদ্দেশ্যে চলছেন। শরীর মুবারকে আতর মুবারকের ঘ্রাণ বাতাসের সাথে মিলে যাচ্ছে। চোখ মুবারকে সুরমা মুবারক। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি বালক দৃষ্টি গোচর হলো। বালকটি অন্ধ। নোংরা শরীর, গায়ে ময়লা। শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পড়নে ছেঁড়া-ফাটা, ফেলে দেয়ার মতো কাপড়। বালকটি উনারই সমবয়সী। মনে কোনো আনন্দ নেই। আছে শুধু দুঃখ-কষ্ট ভারাক্রান্ত মন ও মনন। দুই চক্ষু দিয়ে পানি পড়ছে।
হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতা তখন উনার দুই ভাইকে সাথে নিয়ে অনেকটা পথ এগিয়ে গেছেন। হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চিন্তা ও সিদ্ধান্ত এক সাথে কাজ করলো। এগিয়ে গেলেন অন্ধ বালকটির দিকে। অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে একটা হাত ধরে বললেন আমার সাথে চলো। তিনি তাকে নিজের বাড়ি নিয়ে এলেন। গোসল করালেন। নিজের পরিহিত অত্যন্ত দামী, সুন্দর ও নতুন পোশাকটি তাকে পরিয়ে দিলেন। শরীরে আতর লাগিয়ে ঈদের নামাযের জন্য তৈরি করলেন। নিজে একটি সাধারণ পোশাক পরিধান করে বালকটিকে নিয়ে ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামায পড়লেন। নামায শেষ হলে তাকে সাথে নিয়েই বাড়ি ফিরলেন। অবশ্য উনার আগেই উনার সম্মানিত পিতা ও দুই ভাই নামায শেষ করে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন।
উনারা যখন হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এ কাজটি দেখলেন তখন প্রথমে একটু বিরক্ত হলেও পরক্ষণে খুশি হলেন। উনারাও ছেলেটিকে সাথে নিয়ে এক সাথে খাবার খেলেন। তারপর হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছেলেটিকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
ছেলেটি অত্যন্ত খুশি হলো। তার আর কোনো দুঃখ-কষ্ট রইলো না। অতি অল্প বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সুন্নত মুবারকটি তিনি পালন করলেন। সুবহানাল্লাহ!
সর্বোপরি সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শিশুকাল থেকেই ‘গরীবে নেওয়াজী’ তথা ‘অতিথি পরায়ণ’ ছিলেন তা প্রমাণিত হলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ‘গরীবে নেওয়াজী’র শিক্ষা ও রহমত উনার জন্মগত স্বভাব হিসেবে হাদিয়া করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! পরবর্তী জীবনে যা উনাকে সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবার আসনে সমাসীন করেছিলো।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল আশিরাহ্ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল আশিরাহ্ আলাইহাস সালাম উনার একখানা মহাসম্মানিত বিশেষ স্বপ্ন মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক নযরে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ‘আশিরহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রচিত সম্মানিত কবিতা বা ক্বাছীদাহ্ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক আযাদী দিবস
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সিবতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক নযরে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
এক নযরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বদরের জিহাদে সংঘটিত বিশেষ কয়েকটি ঘটনা
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামত মুবারক
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












