সারাবিশ্বে একই দিনে ঈদ পালন ও রোযা শুরু করার কথা বলার উদ্দেশ্য পবিত্র ঈদ ও পবিত্র রোযাকে নষ্ট করা, যা মূলত মুনাফিকদের একটি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত (১৭)
, ২৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১২ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সারা বিশ্বে একই দিনে পবিত্র রোযা শুরু করতে হবে এবং পবিত্র ঈদ পালন করতে হবে, এমন কথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কোথাও বলা হয় নাই। এমনকি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাসহ চার মাযহাব উনার এমন একজন ইমাম মুজতাহিদ কেউই এমন কথা বলেন নাই যে “সারা বিশ্বে একই সাথে বা একই দিনে পবিত্র ঈদ পালন করতে হবে ও পবিত্র রোযা শুরু করতে হবে”। কেউ কেউ নতুন চন্দ্রের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণযোগ্য নয়, এ কথা বললেও তারও ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে কোন ইমাম মুজতাহিদ উনারা কখনো এমন ফতওয়া দেন নাই যে, সারা বিশ্বে একই সাথে একই দিনে পবিত্র ঈদ পালন করতে হবে ও পবিত্র রোযা শুরু করতে হবে। যা কোন কালেই সংঘটিত হয় নাই এবং তা কোন দিনই সম্ভব নয়।
পূর্বে প্রকাশিতের পর.........
পূর্বে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার মাত্বলা’ তথা উদয়স্থলের ভিন্নতার সমর্থনে শরহু বুলূগিল মারাম কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
من يقول باختلاف المطالع لا إشكال عنده. فالمطلع في الشام غير المطلع في المدينة. وهو المرجح أن لكل بلد أو إقليم مطلعه. كل بلد أو إقليم له مطلعه
অর্থ: যারা উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা মাত্বলা’র ভিন্নতা প্রমাণ করতে দলীল দিয়েছেন, উনাদের সাথে কোন মতানৈক্য নাই। কেননা, পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মাত্বলা’ আর শাম অঞ্চলের মাত্বলা’ এক নয়। উক্ত কথাটিই তারজীহপ্রাপ্ত কথা। নিশ্চয়ই প্রত্যেক শহর অথবা অঞ্চলের নির্দিষ্ট মাতলা’ বা নতুন চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা রয়েছে। অথবা প্রত্যেক শহর অথবা অঞ্চলের জন্য মাত্বলা’ বা নতুন চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা রয়েছে। (শরহু বুলূগিল মারাম ১১/৪৮)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায়-
تيسير العلام شرح عمدة الحكام
উক্ত কিতাবের ৩১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে-
ذهب الشافعي في المشهور عنه إلى التفصيل وهو أنه إن اختلفت المطالع فلكل قوم حكم مطلعهم. وإن اتفقت المطالع فحكمهم واحد في الصيام والإفطار
অর্থ: হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রসিদ্ধ মত হলো, নতুন চাঁদ উদয়ের মাত্বলা’ যদি ভিন্ন হয়, তাহলে প্রত্যেক মাত্বলা’ভুক্ত অধিবাসীদের নতুন চাঁদ দেখার হুকুম ভিন্ন হবে। আর নতুন চাঁদ উদয়ের মাত্বলা’ যদি একই হয়, তাহলে পবিত্র রোযা ও ইফতারের ক্ষেত্রে উক্ত মাত্বলা’ভুক্ত অধিবাসীদের নতুন চাঁদ দেখার হুকুমও একই হবে।
উল্লেখ্য যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শাম বা সিরিয়ায় জুমুয়াবার পবিত্র রোযা শুরু করেছেন, আর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পরের দিন ইয়াওমুস সাব্ত (শনিবার) পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র রোযা শুরু করেছেন। এমনকি সেই একই বছর হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শাম বা সিরিয়ায় যেদিন ঈদুল ফিতর পালন করেছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার পরের দিন পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন মাতলা’ভুক্ত অঞ্চল হওয়ার কারণে শুধুমাত্র উনারা দু’জনেই ভিন্ন ভিন্ন দিনে পবিত্র রোযা শুরু করেন নাই এবং পবিত্র ঈদ পালন করেন নাই। বরং ঐ সময় অসংখ্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও সকলেই উপস্থিত ছিলেন এবং উক্ত ভিন্নতার বিষয়টি অবশ্যই সকলেই জানতেন। ফলে পবিত্র মদীনা শরীফ ও সিরিয়া এই দূরবর্তী দু’টি শহর ভিন্ন মাতলা’ তথা উদয়স্থলের ভিন্নতা থাকায় উনারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে পবিত্র রোযা শুরু করেছেন ও পবিত্র ঈদ পালন করেছেন, কেউ তার প্রতিবাদ করেননি।
হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শাম বা সিরিয়ায় এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে আলাদা আলাদা দিনে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে উনাদের পবিত্র রোযা রাখার কারণ হলো- পবিত্র মদীনা শরীফ ও সিরিয়ার দামেস্ক উনাদের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান হচ্ছে ১০৫৬ (এক হাজার ছাপ্পান্ন) কিলোমিটার তথা ৬৫৬ (ছয়শত ছাপ্পান্ন) মাইল। আর হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সিদ্ধান্ত মতে, চাঁদের এক মাত্বলা’ থেকে আরেক মাত্বলা’ বা উদয়স্থলের মধ্যে দূরত্ব হলো ৯৮৭.৫০ (নয় শত সাড়ে সাতাশি) কিলোমিটার। প্রমাণিত হয় যে, উনাদের দু’জনের এলাকা ভিন্ন ভিন্ন মাতলা’ উনার অর্ন্তভুক্ত।
তবে যদি পবিত্র মদীনা শরীফ ও সিরিয়ার দূরত্বের ব্যবধান ৯৮৭.৫০ (নয় শত সাড়ে সাতাশি) কিলোমিটারের কম হতো তাহলে সিরিয়ায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে একই দিনে পবিত্র রোযা ও পবিত্র ঈদাঈন পালন করা যেত। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। অতএব, বুঝা যাচ্ছে যে, সারাবিশ্বে একই সাথে চাঁদ সংশ্লিষ্ট ইবাদত পালন করা গ্রহণযোগ্য নয়। ইহাই হানাফী মাযহাব উনার গ্রহণযোগ্য ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত ফায়সালা।
চলবে........
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফির মুশরিকদের থেকে দূরে থাকতে এবং তাদেরকেও দূরে রাখার ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সঠিক তারতীবে যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা ফরয-ওয়াজিব
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












