সঠিক তারতীবে যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা ফরয-ওয়াজিব
, ২৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা যে তারতীবে (পন্থায়) সম্মানিত যাকাত উসূল করেছেন সে তারতীবে যাকাত উসূল করাকে ছহীহ বা সঠিক তারতীব বলা হয়।
যাকাত একটি ফরয মালী ইবাদত। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অন্যতম বেনা-ভিত্তি বা খুঁটি।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُـنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُـحَمَّداً رَسُوْلُ اللهِ وَاقَام لصَّلاَةِ وَايْتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ
অর্থ: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ভিত্তি পাঁচটি। এই কালিমা শরীফ উনার প্রতি স্বাক্ষ্য দেয়া যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত রসূল, সম্মানিত হাবীব। নামায কায়িম করা, যাকাত আদায় করা, রমাদ্বান শরীফ মাসের রোযা রাখা এবং বাইতুল্লাহ শরীফ যিয়ারত তথা হজ্জ করা।
এই গুরুত্বপূর্ণ ও ফরয ইবাদত, তা যেন সঠিকভাবে সুসম্পন্ন হয় তার জন্য সবাইকে গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। যাকাত ৮ম হিজরীতে ফরয হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত যাকাত উসূল করার জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বিভিন্ন এলাকায় পাঠান। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালামসহ অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এই কাজে নিযুক্ত করেন। উনারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গিয়ে সবার সম্পদের হিসাব-নিকাশ করতঃ নির্ধারিত যাকাত উসুল বা সংগ্রহ করেন। আর তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে জমা দেন। উনাদেরকে যাকাত উসূল বা সংগ্রহের কাজে পাঠানোর প্রাক্কালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উদ্দেশ্যে যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করার তারতীব বা পন্থা পদ্ধতি মুবারক শিক্ষা দান করেন। যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা যে অতিব ফযীলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ তা বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র দীদার মুবারক এ তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর হযরত খুলাফায়ে রাশিদীনগণ সেই ধারাবাহিকতায় সম্মানিত যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করতেন।
উনারাও এ ব্যাপারে অনেককে নিয়োগ দান করেন, যাঁরা বিভিন্ন এলাকা কিংবা ব্যক্তির নিকট গিয়ে হিসাব-নিকাশ করতঃ সম্মানিত যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করে খলীফা আলাইহিস সালাম উনার খিদমত মুবারকে জমা দিতেন।
কালক্রমে এই সঠিক পন্থা বা পদ্ধতির বিলুপ্তি ঘটে। শুরু হয় মনগড়া নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীকার। যে যা পাবে যেভাবে পাবে হিসাব-নিকাশ ছাড়া স্ব স্ব উদ্যোগে সম্মানিত যাকাত আদায় করে থাকে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইহুদী-খ্রিস্টানরা সম্মানিত যাকাতকে নষ্ট করার হীন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে।
সঠিক পদ্ধতিতে যাকাত না দেয়ার কারণে যাকাত আদায় হয় না। ফলে যাকাত দেয়ার সুফল বা ফযীলত থেকে তারা মাহরূম বা বঞ্চিত হয়।
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের অবর্তমানে উনাদের নায়িব বা প্রতিনিধি তথা উলিল আমর উনার নিকট সম্মানিত যাকাত পৌঁছাতে হবে। উনি যাদেরকে নিযুক্ত করবেন তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে সম্মানিত যাকাত উসূল বা সংগ্রহ করা।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ইবনে সায়েদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একবার খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকালে তিনি আমাকে যাকাত উসূলের জন্য নিয়োগ করলেন। আমি আমার কাজ শেষ করলাম এবং উসূলকৃত অর্থ-সম্পদ উনার নিকট জমা দিলাম। তিনি আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দিলেন। আমি বললাম, আমি উহা শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের লক্ষ্যেই করেছি। কাজেই, আমার পারিশ্রমিক মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিকটেই রয়েছে।
উত্তরে তিনি বললেন, যা আপনাকে দেয়া হয়েছে তা গ্রহণ করুন। কেননা, আমি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র যামানায় এই কাজে নিয়োজিত ছিলাম। তিনি আমাকে পারিশ্রমিকরূপে কিছু দিয়েছিলাম। তখন আমিও আপনার ন্যায় এরূপ কথা বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে ইরশাদ মুবারক করেন, সুওয়াল করা ব্যতীত যখন কোন জিনিস লাভ হবে, তখন উহা খাবেন এবং অপরকে দান করবেন। (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
-আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কাফির মুশরিকদের থেকে দূরে থাকতে এবং তাদেরকেও দূরে রাখার ব্যাপারে নির্দেশ মুবারক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৩)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৫)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












