সম্পাদকীয়-২
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়লেও সুবিধার বাইরে ৭১ ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী। দারিদ্রের যাঁতাকল থেকে জনগণকে বের করে না আনলে দেশ অবিলম্বে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বাঁচতে হলে খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনায়ই পাওয়া যাবে প্রকৃত নিরাপত্তা ও সফলতা ইনশাআল্লাহ
, ২৭ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৪ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
দরিদ্রদের আয় বাড়াতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আয়ের উৎস সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখতে কাজ করছে এই কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে প্রতি বছর বরাদ্দের অংক বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও। তারপরও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো সামাজিক সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তথ্যমতে, দরিদ্রদের প্রায় ৭১ শতাংশ এখনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। তথ্যমতে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ। এসব মানুষের মাত্র ২৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বাকি ৭১ শতাংশই রয়েছে এর বাইরে।
২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে সমাজের চরম দরিদ্র ও সর্বাধিক ঝুঁকিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, এই খাতে সরকার যে বরাদ্দ দিচ্ছে তা দরিদ্র মানুষের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। শুধু তাই নয়, সুশাসনের অভাব এবং রাজনৈতিক দোষে দুষ্ট হওয়ায় এসব কর্মসূচির সুফলও পাচ্ছে না অনেক প্রকৃতজন, পাচ্ছে চিহ্নিত কিছু মানুষ। এ কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইস্যুতে সরকারের সদিচ্ছা।
প্রসঙ্গত, কোনো ধরনের নীতিমালা ও সুসংহত কাঠামোগত কার্যকর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি লুটপাটের কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাভোগী ও গ্রামীণ শক্তি কাঠামো নিজেদের কায়েমি স্বার্থ পূরণে সামাজিক নিরাপত্তাকে ব্যবহার করছে। যার পরিণতি, যাদের পাওয়া উচিত তারা বাদ পড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনই বলছে, ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধ ভাতা নিচ্ছে যাদের বয়স ৬০ বছর হয়নি। যদিও ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত, তথাপি এখনো ৫৭ শতাংশ হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের ৬৬ শতাংশ এসব সহায়তা কর্মসূচির বাইরে আছে। এ থেকেই চলমান সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল চরিত্রটি বোঝা যায়। খোদ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, এখনো ৫৭ শতাংশ হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের ৬৬ শতাংশই এসব সহায়তা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি পেনশনের অংশ বাদ দিলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের বরাদ্দ জিডিপি’র ১.৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ২৫ শতাংশ মানুষ বিত্তশালী। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এদেরও ২৭ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সেফটি নেটের সুবিধা ভোগ করছে। এমনিতেই এ কর্মসূচির বরাদ্দযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তার উপর বরাদ্দে এভাবে ভাগ বসালে তা উপরে উপরে গরিবের জন্য বরাদ্দ হলেও পুরো সুবিধা বিত্তশালীরা লুটে নিয়ে যাবে।
সঙ্গতকারণেই বলতে হয়, অতি দারিদ্র্য হ্রাসে সরকার সফলতা দাবি করলেও সত্যিকার অর্থে অতি দারিদ্র্যের যাঁতাকল থেকে মানুষ আদৌ মুক্তি পায়নি। তাই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তবে এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বরাদ্দের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা। পাশাপাশি বরাদ্দের পরিমাণ অনেক বাড়ানো। এদিকে পেনশনকে সর্বজনীন করার বিষয়ে ভাবতে হবে, মনে রাখতে হবে, দ্রুত নগরায়নের ফলে বিশেষ ধরনের দারিদ্র্য সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্যও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া অপরিহার্য। সেইসাথে এই সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের সুফল যাতে দেশের দুস্থ-দরিদ্র জনগোষ্ঠী সঠিকভাবে লাভ করতে পারে, সেজন্য উপযোগী ব্যক্তি নির্ধারণের সময় যাতে কোনো প্রকার অনিয়মের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মূলত, এসব বিষয় বাস্তবায়নের অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র চেতনা ও জজবা এবং পরিক্রমা থেকে ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতিকে আরো সমুন্নত করে ‘শক্ত প্রতিবাদ’ ও ‘প্রতিহতের কথা’ সংযুক্ত করতে হবে।
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ বিশেষ সম্মানিত, ফযীলত এবং রহমত, বরকতযুক্ত তথা ঐতিহাসিক ২৪শে যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শিশু কিশোরদের মাঝে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ভয়াবহ যা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শিশু-কিশোরদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে জরুরীভাবে নজর দেয়া উচিত।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নির্বাচন, গণতন্ত্র শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতেও হারাম। সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদও কাট্টা হারাম। মমতাই কৌশলে তার শিষ্য ও চরম যালিম কুভেন্দুকে বসিয়ে তার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদ প্রচারের ব্যবস্থা করে দিলো। হারাম থেকে বাচলে মুসলমান মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হেফাজত পাবে- ‘ইনশাআল্লাহ’।
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিগত জালেমশাহী সরকারগুলোর মত শুধু লবন প্রদানেই আর চামড়া সংরক্ষণেই নজর দিলে হবে না। চামড়ার দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে লাখ লাখ মাদরাসা, তালিব ইলম-ইয়াতীমদের সারা বছর ভালোভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ইনশাআল্লাহ
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সংখ্যালঘুদের উৎসব স্থানগুলিতে নিরাপত্তা দেয়া হলেও ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের কুরবানীর পশু ব্যবসায়ীদের জন্য এবং কুরবানীর হাটে যথাযথ নিরাপত্তাও থাকে না কুরবানীর হাটকে কেন্দ্র করে এবং কুরবানীর পশু বিক্রির সময় ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। হাটের হাসিলের টাকা সরকারী কোষাগার থেকেই ব্যবস্থা করতে হবে।
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
‘সবার আগে বাংলাদেশ’- শ্লোগানই যথার্থ। সব সমস্যার সমাধান সবার আগে বাংলাদেশেই আছে। জ্বালানী সংকটের উপায় পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মনিরুল আবিস্কৃত বিকল্প ও সাশ্রয়ী ডিজেল উদ্ভাবনে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এর সুফল সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে ইনশাআল্লাহ
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অতীতের মত উচ্চাভিলাসী বাজেট দিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ালে জনজীবন আরো বিপর্যস্থ হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাজেটের পরিবর্তে মানব সম্পদ উন্নয়ন ও জনসেবায় ব্যায় বাড়াতে হবে।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ মহিমান্বিত ১৬ই যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো বিদেশি কোম্পানি সাড়া দেয়নি বলে এতো হা হুতাশ কেনো? বাপেক্সকেই সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়ার দায়িত্ববোধ- কেবলমাত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমাই সম্ভব ইনশাআল্লাহ
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুবারক হো- মহিমান্বিত ১১ই যিলক্বদ শরীফ! যা ইমামুল আউলিয়া, হাবীবে ওয়া মাহবুবে রহমান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সিবতু সুলত্বানিন নাছীর, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, মহাসম্মানিত ইমাম হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদের মহিমান্বিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ!
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে প্রধান বাধা হলো উচ্চ কর ও শুল্ক। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের মনে একটা বদ ধারণা তৈরি করার জন্য একটা গোষ্ঠী খুব তৎপর। বড় বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ পিছিয়ে পড়ছে। এটি সৌর বিদ্যুতের গণমুখী বিস্তারকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের উচিৎ সহায়ক নীতিকাঠামো দিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা।
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












