ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৮৩)
, ১১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৪ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৭ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এজন্য একটা ওয়াক্বিয়া বলা হয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মক্কা শরীফ বিজয় করলেন, মক্কা শরীফ বিজয় হলো, যুদ্ধ হলো, জিহাদ হলো, অনেক গনীমতের মাল লাভ করা হলো, অনেক গনীমত, অসংখ্য অগণিত, শত-শত হাজার-হাজার গরু, ছাগল, বকরী-ভেড়া, উট, মেষ, দুম্বা, স্বর্ণ, মনি-মুক্তা অনেক গনীমত লাভ করা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে জমা হলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো এগুলো সব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি মদীনা শরীফ চলে আসবেন। এদিকে নানান দেশের প্রতিনিধি, তারা আসতে লাগল দেখা সাক্ষাত করার জন্য। এসে যার যা চাহিদা ছিলো তারা সেটা বলতে লাগল। কারো টাকা-পয়সার দরকার, গরু-ছাগল, বকরী-ভেড়া দরকার। অভাব-অনটন রয়েছে, অসুখ-বিসুখ, আপদ-বিপদ মুছীবত রয়েছে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে দুয়া করে দিচ্ছিলেন, যার যা চাহিদা রয়েছে সকলের সকল চাহিদা পুরা করে দিচ্ছিলেন। উট, গরু-ছাগল, বকরী-ভেড়া মেষ-দুম্বা, যা কিছু ছিল গনীমতের মাল যে যা চাচ্ছিলেন তাকে সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়ে দিচ্ছিলেন।
দেখা গেল, অনেকে অনেক কিছু নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে যাঁরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, যাঁরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ এসেছেন উনারা ব্যাপারগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং দেখা-শুনা করছিলেন এবং খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। এ সমস্ত দেখে উনারা কোন খারাপ উদ্দেশ্যে নয়।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সবকিছু থেকে পবিত্র। উনাদের অন্তরগুলিও পবিত্র। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সম্পর্কে যদি খারাপ খেয়াল কেউ করে তাহলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।
উনারা শুধু ফিকির করেছিলেন, সকলে নন, কিছু কিছু ছাহাবী, উনারা চিন্তা করেছিলেন যে, গনীমতের এত মাল পাওয়া গেল, সবাইকে যদি সব দিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমাদের জন্য হয়ত কিছু বাকি থাকবে না। এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবাইকে দিচ্ছিলেন। যে যা চাচ্ছিলেন সেটাই দিচ্ছিলেন। যখন এটা কেউ কেউ চিন্তা-ফিকির করেন, তাহলে আমাদের জন্য কি থাকবে?
উনাদের এই ফিকিরটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কান মুবারকে গিয়ে পৌঁছল। পৌঁছার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দেখুন, সত্যি আমি তোমাদের সাথে এসেছি মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফে, মহান আল্লাহ পাক কামিয়াবী দান করেছেন। অনেক গনীমত দিয়েছেন। যতটুকু দিয়েছেন তার থেকে বরকত বেশি দিয়েছেন। তার চেয়ে বরকত অনেক বেশি হয়েছে। এ অসংখ্য অগণিত গরু-ছাগল, বকরী-ভেড়া, উট, দুম্বা, স্বর্ণ-চান্দি, টাকা-পয়সা দীনার-দিরহাম দেয়া হচ্ছে তারপরেও মনে হচ্ছে সেটা শেষ হচ্ছে না। যতই দেয়া হচ্ছে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যেককে তার চাহিদার অতিরিক্ত দেয়া হচ্ছে।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দেখুন, আমি উনাদেরকে গনীমতের মাল দিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে উনারা যারা এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার জন্য। আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে নিদর্শন লাভ করার জন্য উনারা গনীমতের মালগুলো গ্রহণ করতেছেন।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দেখুন, আপনারা যে চিন্তা করেছেন, আমি সব দিয়ে দিচ্ছি তাহলে আপনাদের জন্য কি থাকবে? হাক্বীক্বত এই সমস্ত যারা দূর থেকে এসেছেন, যে সমস্ত লোকজন, তাদেরকে আমি মাল দিচ্ছি আপনারা কি জিনিসটা ফিকির করেছেন? আমি তো সবকিছু দিয়ে স্বয়ং আমি নিজেই আপনাদের সাথে মদীনা শরীফ চলে যাব। সুবহানাল্লাহ! আপনারা কোনটা পছন্দ করেন, আপনারা মাল-সামানা নিবেন অথবা আমার সাথে আপনারা যাবেন, কোনটা আপনারা পছন্দ করেন? উনারা যে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন উনারা আমাকে পাবেন না। আমার স্পর্শ করা জিনিস অথবা আমার তরফ থেকে কিছু নিয়ামত উনারা লাভ করতেছেন। এটা নিয়ে উনারা সন্তুষ্ট থাকবেন। আর স্বয়ং আমিই তো আপনাদের সাথে যাব। তাহলে আপনাদের গনীমতের মালের কি প্রয়োজন রয়েছে?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১৩)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












