ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৮২)
, ১০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ কার্তিক, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আর দ্বিতীয়ত মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন-
إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهٗ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং ফেরেশ্তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত পাঠ করেন।
এখন কত সংখ্যক, এর তাফসীরে কি বর্ণিত রয়েছে, কত সংখ্যক রয়েছে? অসংখ্য অনির্দিষ্ট অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক অসীম, অসংখ্যবার মহান আল্লাহ পাক তিনি রহমত বর্ষণ করেই যাচ্ছেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সৃষ্টির শুরু থেকে সেই রহমত বর্ষণ শুরু হয়েছে এখন অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে, সেই রহমত বর্ষণ আর বন্ধ হবে না।
মক্কা শরীফ উনার মাত্র একশত বিশটা রহমত বর্ষিত হয়ে থাকে। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রতি মুহূর্তেই কোটি কোটি রহমত বর্ষণ করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! সেজন্য খাছ ফতওয়া দেয়া হয়েছে, মদীনা শরীফ উনার মর্যাদা মক্কা শরীফ উনার চাইতে লক্ষ কোটিগুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
এর কারণ হচ্ছে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারক সেখানে রয়েছেন সেজন্যই এই মর্যাদা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য যদি মদীনা শরীফ এত রহমত লাভ করতে পারে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবস্থান মুবারকের কারণে, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা তা’যীম-তাকরীম করবে তারা কতটা রহমত লাভ করবে, সেটা মানুষের জানা নেই।
ঠিক একইভাবে বলা হয়ে থাকে, আসমানের মর্যাদা বেশি না যমীনের মর্যাদা বেশি? আমভাবে ফতওয়া হচ্ছে আসমানের মর্যাদা বেশি। কারণ, আসমানে কোন গুনাহ-খতা হয় না, সেখানে ফেরেশ্তারা থাকেন। যমীনে মানুষ গুনাহ-খতা করে। কিন্তু খাছ ফতওয়া হচ্ছে যমীনের মর্যাদা আসমানের চাইতে লক্ষ কোটি গুণ বেশি। কারণ, এখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান করতেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই তাহলে দেখা যাচ্ছে, হাক্বীক্বত মহান আল্লাহ পাক উনার কুল কায়িনাতের কোন মর্যাদা নেই, কোন ফযীলত নেই, কোন বুযুর্গী নেই, একমাত্র মর্যাদা, ইজ্জত-সম্মান, বুযুর্গী সমস্তকিছুর মালিক হচ্ছেন স্বয়ং আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।
কাজেই উনার সাথে যার যতটুকু তায়াল্লুক থাকবে সে ততটুকু ফযীলত লাভ করবে এর চাইতে বেশি নয়। যার যতটুকু তায়াল্লুক সে ততটুকু ফযীলত লাভ করবে। নবী-রসূলগণ বেশি ফযীলত লাভ করেছেন। কারণ উনাদের বেশি তায়াল্লুক রয়েছে। এরপর ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সমস্ত উম্মতের চাইতে বেশি ফযীলত লাভ করেছেন। কারণ উনাদের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেশি তায়াল্লুক রয়েছে, নিসবত রয়েছে। যার জন্য উনারা সবচাইতে বেশি সম্মানিত।
এরপর পর্যায়ক্রমে যে সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম, ইমাম মুজতাহিদ যার সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যতটুকু তায়াল্লুক থাকবে তিনি ততটুকু ইহকাল এবং পরকালে সম্মানিত হবেন। সুবহানাল্লাহ! হাক্বীক্বত কারো কোন সম্মান নেই, কারো কোন ইজ্জত নেই, কারো কোন ফযীলত নেই।
একমাত্র ইজ্জত সম্মান এবং ফযীলতের মালিক হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। কাজেই উনার সাথে তায়াল্লুক অনুযায়ী, নিসবত অনুযায়ী ইজ্জত সম্মান সমস্ত কায়িনাত লাভ করবে।
সেটা জিন হোক, ইনসান হোক, পশু-পাখি হোক, কীট-পতঙ্গ হোক, আসমান হোক, যমীন হোক যে কোন বাহনই হোক না কেন, যে কোন বিষয় হোক না কেন, যে কোন দ্রব্য সামগ্রী হোক না কেন, যে কোন সৃষ্টি জীব হোক না কেন সকলেই তার যতটুকু তায়াল্লুক সে অনুযায়ী সে মর্যাদা, সে ফযীলত লাভ করবে।
এটাই যদি হয়ে থাকে তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারক উনার তা’যীম-তাকরীম যদি কেউ করে তাহলে সে কতটুকু মর্যাদা লাভ করবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১৩)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানকে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ থেকে দূরে থাকতে হবে
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৪)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












