ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (২১)
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক তিনিতো কুরআন শরীফ আমাদের কাছে দেননি। মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ নাযিল করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এটা কুরআন শরীফ, এটা হাদীছ শরীফ, আমরা বিশ^াস করেছি।
আমাদের তো ইলম্-কালাম নেই, কারো কোন ইলম্-কালাম নেই, সকলেই মুর্খ। একমাত্র সমস্ত কিছুর ছাহিবুল ইলম্ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক। আর মহান আল্লাহ পাক ইলম্ দান করেছেন উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। সেখান থেকে সকলে ইলম অর্জন করেছে। কারো কোন ইলম-কালাম নেই। আক্বল-বুদ্ধি নেই। সমস্ত কিছু অনুমোদন হয়েছে, হাছিল হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকেই।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, এটা কুরআন শরীফ, এটা আমার হাদীছ শরীফ। তোমরা এভাবে এভাবে মানবে, এভাবে পালন করবে। এভাবে নামায পড়বে, রোযা রাখবে, হজ্জ করবে, যাকাত দিবে। আমরা সেটা শুনেছি, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সেটা শুনেছেন, দেখেছেন, উনারা শিখেছেন। পরবর্তীদের উনারা শিখিয়েছেন, আমরাও সেভাবে শিখেছি।
কাজেই, হাক্বীক্বত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যদি কেউ বিশ্বাস না করে, না মানে, তাহলে সে মহান আল্লাহ পাককে মানতে পারবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফেই রয়েছে, এটা কুরআন শরীফ। আপনি কুরআন শরীফ কোথায় পেলেন, এটা কুরআন শরীফ। দলীল কোথায়? যদি বলে, কুরআন শরীফের ভেতর রয়েছে। এই কুরআন শরীফ কে এনে দিয়েছেন আপনাকে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এনে দিয়েছেন। তাহলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যদি আপনি না মেনে নিতে পারেন, মুহব্বত করতে না পারেন, স্বীকার করতে না পারেন, তা’যীম- তাকরীম না করতে পারেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনকে কি করে তা’যীম করবেন, স্বীকার করবেন, মেনে নিবেন?
কাজেই, এটা মনে রাখতে হবে, প্রথমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ^াস করতে হবে, অর্থাৎ উনার প্রতি ঈমান আনতে হবে, স্বীকার করতে হবে, তাহলেই কুরআন শরীফ মানাটা সহজ হয়ে যাবে। আদেশ-নিষেধ পালন করা সহজ হয়ে যাবে।
সেটাই বলা হয়েছে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফে যা রয়েছে, হুবহু সেটা পালন করতে হবে। এর মধ্যে কোন চু-চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করা যাবে না। কুরআন শরীফে যেমন চু-চেরা করা যাবে না, হাদীছ শরীফেও করা যাবে না।
কাজেই, এখন যদি কেউ বলে, সে দু’ঈদ মানে তাহলে দু’ঈদতো কুরআন শরীফে নেই। ঐ দু’ঈদতো হাদীছ শরীফে রয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বর্ণনা করেছেন। তাহলে, বাকী যে ঈদগুলো রয়েছে সেই ঈদগুলোও হাদীছ শরীফে রয়েছে। তাহলে তুমি অর্ধেক হাদীছ মানবে, অর্ধেক হাদীছ মানবে না, তাহলে তুমি মুনাফিক। তুমিতো ঈমানদার নও। সেটাই যদি হয়ে থাকে, হাদীছ শরীফের দ্বারা শুক্রবার, সোমবার, আরাফার দিন, রোযার দিনগুলো ঈদের দিন হয়ে থাকে, খুশীর দিন হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বিলাদত শরীফের দিন, সেটা যে সত্যিই ঈদের দিন সেটাতো ফিকির করতে হবে, সেটা চিন্তা করতে হবে।
এখন হাদীছ শরীফের এত গুরুত্ব রয়েছে। এই হাদীছ শরীফগুলো কারা বর্ণনা করেছে? ওহাবী, খারিজী, রাফিজী, মু’তাজিলা? না এরা বর্ণনা করেনি। বেদ্বীন, বদ্দ্বীন? বদ মাযহাব, বদ আক্বীদার লোক? তারাও করেনি। মুনাফিকরাও করেনি। এগুলো বর্ণনা করেছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা ছাহাবী। মহান আল্লাহ পাক উনার নবীদের পরে যাদের স্থান মহান আল্লাহ পাক উনার যমীনে, মহান আল্লাহ পাক উনার নবীদের পরে যাদের স্থান যমীনে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। যাদের শানে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ -
মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন, উনারাই হাদীছ শরীফগুলি বর্ণনা করেছেন। বিশেষকরে জুমুয়ার দিনকে ঈদের দিন, আরাফার দিনকে ঈদের দিন, সোমবার দিনকে ঈদের দিন, রোযার দিনকে ঈদের দিন এই হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেছেন, মূল ছাহাবী হচ্ছেন তিনজন।
একজন হচ্ছেন হযরত হফারুক্বে আযম আলাইহিস সালাম, আরেকজন হচ্ছেন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আর তৃতীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। এই তিনজন ছাহাবী এই হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেছেন।
ৃ
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












