ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ০৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
(৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে উপস্থিত ছিলাম। আর সেই সময় উনার খিদমত মুবারকে দুইজন ব্যক্তি হাজির হলেন। উনাদের একজন ছিলেন আনসারী, অপরজন ছিলেন ছাখাফী গোত্রের। উনারা কিছু জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাখাফীকে বললেন, আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। তবে যদি চান, তাহলে আমিই বলে দিতে পারি যে, আপনি কি প্রশ্ন করতে এসেছেন। সুবহানাল্লাহ্!
ছাখাফী গোত্রের সেই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!! দয়া করে আপনিই বলুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি নামায, রুকু, সেজদা, রোযা এবং জানাবতের (নাপাকীর) গোসল সম্পর্কে জানতে এসেছেন। তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এসব বিষয়েই জ্ঞানার্জন করতে এসেছি।
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনসারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, আপনিও প্রশ্ন করতে পারেন। তবে চাইলে আমি আপনার প্রশ্নও বলে দিতে পারি। হযরত আনসারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! দয়া করে আপনিই বলুন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি এসেছেন একথা জানতে যে, কেহ নিজ গৃহ থেকে বাইতুল্লাহ শরীফ যিয়ারতের নিয়তে বের হলে তার কি ছওয়াব? আপনি আরও জানতে চান যে, আমি আরাফাতে অবস্থান করবো, মাথা মুন্ডন করবো, তাওয়াফ করবো এবং কংকর নিক্ষেপ করবো কি না?
আনসারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন-আমি একথাই জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৬)
(৪) হযরত উকবা ইবনে আমির জুহানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার কয়েকজন ইহুদী আগমন করলো। তাদের সাথে তাদের ধর্মগ্রন্থও ছিলো। তারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারক প্রার্থনা করলো। আমি উনার খিদমত মুবারকে হাজির হয়ে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি তাদেরকে আসার অনুমতি মুবারক দিলেন। তারা উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত হলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা ইচ্ছা করলে যে কথা জিজ্ঞেস করতে তোমরা এসেছো, তা আমি বলে দেই। তারা সম্মতি প্রকাশ করে বললো, আমাদের ইচ্ছাও তাই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা আমার কাছে হযরত যুলকারনাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে প্রশ্ন করতে এসেছো।
তবে শুনো! হযরত যুলকারনাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন রোমক ছিলেন। তিনি তাদের শাসক হয়ে গেলেন। তিনি দিগি¦জয়ে বের হয়ে অবশেষে মিশরের উপকূলে উপস্থিত হলেন। তিনি একটি শহর নির্মাণ করলেন, যার নাম আলেকজান্দ্রিয়া। শহরের নির্মাণ কাজ শেষ হলে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম উনাকে পাঠালেন। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম তিনি উনাকে নিয়ে আকাশে আরোহণ করলেন। আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থল পর্যন্ত উঁচুতে উঠে হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, নীচের দিকে তাকান। দেখুন সেখানে কি আছে?
হযরত যুলকারনাইন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, দু’টি শহর দেখা যাচ্ছে। হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে নিয়ে আরও উপরে উঠলেন। বললেন, নীচের দিকে তাকান। দেখুন সেখানে কি আছে? তিনি বললেন, কিছুই দেখা যায় না।
হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যে দু’টি শহর দৃষ্টিগোচর হয়েছিলো, তা শহর নয়, মহাসাগর। মহান আল্লাহ পাক আপনার পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আপনি সে পথে চলবেন। মূর্খদেরকে ইলিম শিক্ষা দিবেন। আর আলিমগণকে ইলিম ও আমলের উপর ইস্তিকামত বা অটল রাখবেন। তারপর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম তিনি হযরত যুলকারনাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন।
তিনি দু’পাহাড়ের মধ্যস্থলে লোহা ও তামার প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। তারপর পৃথিবীতে ছফর করেছিলেন। তিনি এক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন, যাদের চেহারা ছিলো কুকুরের মত। অতঃপর আরও এক সম্প্রদায়ের কাছে গমন করেছিলেন।
ইহুদীরা এই বিবরণ শুনে বললো, আমাদের কিতাবাদিতে এরূপই বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা-২/১২৭) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ভোট, নির্বাচন, পদপ্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কোনটিই জায়িয নেই
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












