প্রসঙ্গ: শানে হযরত ওয়ালেদাইনিশ শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সুওয়াল:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্পর্কে মু’মিন-মুসলমানের জন্য কিরূপ আকীদা পোষণ করতে হবে?
জাওয়াব:
মুসলমানকে মুসলমান হিসেবে থাকতে হলে তাকে আকীদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে ঈমান-আকীদা মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন সেই ঈমান-আকীদা মুবারক গ্রহণ করতে হবে। এবং যেই আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন সেই আমল মুবারক করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন-
اٰمِنُوا كَمَا اٰمَنَ النَّاسُ
অর্থ: যারা ঈমান এনেছেন উনাদের মতো তোমরাও ঈমান আনো। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
فَإِنْ اٰمَنُوا بِمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهٖ فَقَدِ اهْتَدَوْا
অর্থ: তারা যদি আপনাদের অনুরূপ ঈমান আনে তাহলে অবশ্যই তারাও হিদায়েত লাভ করবে। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান-আকীদা গ্রহণ করেছেন পরবর্তী উম্মতকে তদ্রƒপ ঈমান-আকীদা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে এবং উনারা যেরূপ আমল করেছেন তদ্রƒপ আমল করতে বলা হয়েছে, তবেই উম্মত হিদায়েত লাভ করবে এবং নাজাত ও নিয়ামত লাভ করবে। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আকীদা-আমলের অনুসরণকারীদের নামই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সর্ম্পকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আকীদা মুুবারক হলো-
যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ
অর্থ: “(আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টি ছিলো সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَـمْ اَزَلْ اُنْقَلُ مِنْ اَصْلَابِ الطَّاهِرِيْنَ اِلـٰى اَرْحَامِ الطَّاهِرَاتِ
অর্থ: “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত পৃষ্ঠ মুবারক অর্থাৎ উনাদের থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অর্থাৎ উনাদের নিকট স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ طَلْقِ بْنِ عَـلِــىٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ سَـمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَوْ اَدْرَكْتُ وَالِدَىَّ اَوْ اَحَدَهُـمَا وَاَنَا فِى صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَقَدْ قَرَاْتُ فِيهَا بِفَاتـِحَـةِ الْكِتَابِ تُنَادِى يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ
অর্থ: “হযরত ত্বল্ক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, যদি আমি আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে অথবা উনাদের দু’জনের একজনকে যমীনে পেতাম, আর আমি সম্মানিত ছলাতুল ইশা (ফরয নামায) দাঁড়িয়ে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম। এমতাবস্থায় উনারা যদি আমাকে এই বলে সম্মানিত আহ্বান মুবারক করতেন, আয় মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ বন্ধ করে দিয়ে এবং ছলাত মুবারক ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের আহ্বান মুবারক-এ সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক! আয় আমার মহাসম্মানিত হযরত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, আয় আমার মহাসম্মানিত হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি উপস্থিত, হাযির।” সুবহানাল্লাহ! (শুয়াবুল ঈমান ১০/২৮৪, দায়লামী শরীফ ৩/৩৪৫, জামিউল আহাদীছ ১৮/৭৪, আল হাওই ২/২৮১ ইত্যাদি)
কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কত অপরিসীম তা চিন্তা-কল্পনার উর্ধ্বে।
উনারা হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মূল, মালিক এবং উনাদের প্রথম স্তর মুবারক-এ। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু যে জান্নাতী, তা না। বরং উনারা হচ্ছেন জান্নাতসহ সমস্ত নিয়ামতের মালিক। সুবহানাল্লাহ! জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছে কখন উনারা জান্নাতে দয়া করে প্রবেশ করবেন। উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাত ধন্য হয়ে যাবে এবং জান্নাতের নামকরণের বিষয়টি স্বার্থক হবে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি জান্নাত সৃষ্টিই করেছেন উনাদের খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আকীদা মুবারক এবং হুসনে যন মুবারক পোষণ করা এবং উনাদের গোলামী মুবারকের আনজাম দেয়া, উনাদের তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা এবং ছানা-ছিফত মুবারক করা দায়িমীভাবেই ফরয অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে সকল মুসলমান আকীদা-আমলে বিজাতীয়দের তথা ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের সাদৃশ্য রাখে তারা মুসলমান নয়
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৩)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের মর্যাদা উম্মতের মাঝে সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম স্থানে
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬,৬৬৬। আর এ মতটি বহুল প্রচলিত, মশহূর ও গ্রহণযোগ্য (১)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় খরচ করলে তা দিগুণ-বহুগুণে বৃদ্ধি করে ফিরিয়ে দেয়া হয়
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












