ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় ঘটনা
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক পর্ব)
(৫) হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একবার এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা আমার ধন-সম্পদ নিয়ে গেছেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার পিতাকে ডাকলেন। উনার পিতা মনে মনে কিছু বলতেছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন- আপনি মনে মনে কি বলেছেন? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার কারণে আমাদের অন্তজ্ঞান ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে দেন। আমি অবশ্যই কিছু বলেছি। অতঃপর তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন। যার অর্থ হচ্ছে-
শৈশবে তোমাকে লালন-পালন করেছি।
যৌবনে তোমার সাথে আশা আকাঙ্খায় জড়িয়েছি।
তোমাকে সর্বপ্রকারে সিক্ত ও নিদ্রাতৃপ্ত করেছি।
যখন তুমি রুগ্ন হতে, তখন তোমার রোগের কারণে
রাত কঠিন হয়ে যেতো।
আমি অশান্ত ও অস্থির হয়ে, রাত অতিবাহিত করতাম।
তোমার বিনাশের কথা ভেবে আমার মন ভীত থাকতো। অথচ আমি জানি মৃত্যু একদিন না একদিন আসবেই।
তোমার অসুখ-বিসুখ আসলে আমার উপর চড়াও হতো। আমার চক্ষু থেকে দরদর অশ্রু প্রবাহিত হতো।
যখন তুমি যৌবনে উত্তীর্ণ হলে এবং আমার আশা-আকাক্সক্ষা চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হলে,
তখন রূঢ় ভাষা ও অসৎ আচরণ দ্বারা আমাকে প্রতিদান দিলে, যেন এ যাবত তুমিই আমাকে
¯েœহ-মমতা ও অর্থসম্পদ দিয়ে বড় করেছো।
তুমি পিতৃত্বের হকের প্রতি লক্ষ্য করলে না। হায়, তুমি যদি একজন পড়শীর মতই আচরণ করতে!
এই কবিতা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অশ্রুসজল হয়ে গেলেন। তিনি বৃদ্ধের পুত্রের জামার কলার ধরে বললেন, তুমি এবং তোমার ধন-সম্পদ সবই তোমার পিতার। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা-২ /১২৭)
(৬) হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। একবার খাদ্যাভাবে আমরা ক্ষুধায় এমন কাতর হয়ে পড়লাম যে, ইতিপূর্বে কখনও এরূপ হইনি। আমার বোন বললেন, আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গিয়ে আমাদের এ অবস্থার কথা বলুন। আমি উনার কাছে গেলাম। তিনি তখন খুতবা মুবারক দিচ্ছিলেন। সেই খুতবা মুবারকে বললেন, যে ব্যক্তি পরহেজগার বা মুত্তাকী হতে চায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে পরহেজগার বা মুত্তাকী বানিয়ে দেন। আর যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ তালাশ করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ধনী করে দেবেন।
একথা শুনে আমি মনে মনে ভাবলাম, এ নছীহত মুবারক আমাকেই করা হয়েছে।
কাজেই এখন আমি উনার কাছে কোনো সুওয়াল করবো না। বাড়ীতে ফিরে বোনকে একথা বললাম। তিনি বললেন, আপনি সুওয়াল না করে ভালোই করেছেন। পরদিন আমি মজুরী শুরু করলাম এবং কয়েক দেরহাম উপার্জন করলাম। এগুলো দিয়ে খাদ্য ক্রয় করে খেলাম। তারপর থেকে দুনিয়ার ধন-দৌলত যেন আমার হাতে এসে গেলো। আমার চেয়ে অধিক ধনশীল কোন আনসারী পরিবার ছিলো না। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা-২ /১২৮)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুনাফিকদের তালিকা প্রকাশ করেছেন:
(১) ফকীহুল উম্মত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুতবা মুবারক দিলেন। সেই খুতবা মুবারকে তিনি বলেন, মুসলমানগণ! আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ মুনাফিক রয়েছে। এখন আমি যে মুনাফিকের নাম বলবো, সে যেন দাঁড়িয়ে যায়। অতঃপর তিনি এক একজন মুনাফিকের নাম বলতে বলতে ২৬ জনের নাম প্রকাশ করে দিলেন।
বর্ণনা করেন, মুনাফিকরা এক জায়গায় সমবেত হয়ে পরস্পরে আলাপ-আলোচনা করলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের অনেক ব্যক্তি সমবেত হয়ে এমন এমন কথাবার্তা বলেছে। তোমরা উঠো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করো। আমিও তোমাদের জন্যে মাগফেরাতের দোয়া করবো। কিন্তু মুনাফিকরা উঠলো না। তিনি একথা তাদেরকে তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এখন আমি তোমাদের নাম ধরে ডাকছি। তোমরা উঠো। অতঃপর তিনি তাই করলেন। মুনাফিকরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থায় মুখ ঢেকে দাঁড়ালো। সুবহানাল্লাহ! (খাসায়িসুল কুবরা: ২ /১২৯) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৮)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র যিকির উনার গুরুত্ব ও ফযীলত (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












