ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (৯৫)
, ০৭ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৭ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এখানে যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কাদের ক্ষমা করবেন?
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللهُ لَكَ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ
অত্যন্ত মহব্বত মুবারকের সাথে বললেন। মহাসম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কেন হারাম করলেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সন্তুষ্টির জন্য, না। আমার সন্তুষ্টি রেজামন্দি সন্তুষ্টির জন্য। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
সাবধান হয়ে যাও! সমস্ত সৃষ্টি, জিন-ইনসান, তোমরা মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারকে কখনও চূ-চেরা, কীল-কাল করো না, ইস্তেগফার তাওবাহ করো। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখানে উম্মতকে অর্থাৎ যারা পরবর্তীতে চূ-চেরা কীল-কাল করবে তাদেরকে বলা হচ্ছে, সাবধান! তাওবাহ করো, ইস্তেগফার করো তাহলে তোমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে। এরপর যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলছেন উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য।
قَدْ فَرَضَ اللهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ وَاللهُ مَوْلاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
দ্বিতীয় আয়াত শরীফে বলা হচ্ছে, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলছেন,
قَدْ فَرَضَ اللهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদেরকে ক্বসম ভঙ্গের কি বিধান সেটা তিনি বলে দিয়েছেন।
وَاللهُ مَوْلاكُمْ وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলের মালিক, মাওলা। তাদেরও মাওলা যারা চূ-চেরা, কীল-কাল করে যাচ্ছে, এদেরও মাওলা। তিনি সমস্ত কিছু জানেন, শুনেন।
وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
তিনি সর্বজ্ঞানী, তিনি সর্বশ্রোতা ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এখানে উম্মতকে ক্বসম করলে ক্বসম ভঙ্গের যে মাসয়ালা সেটা শিক্ষা দেয়া হয়েছে। এখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওহী মুবারক অনুযায়ি সমস্ত কিছু করেন। তিনি ক্বসম মুবারক করলেন, এটা যদি গন্ধযুক্ত হয় তাহলে সেটা তিনি খাবেন না। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন যে, হ্যাঁ ঠিক আছে, ওহী মুবারক এরকমই। তবে যেগুলো গন্ধ নেই সেগুলি খাওয়া যাবে। তাহলে সেখানে এই ক্বসমটার কাফফারা আদায় করতে হবে।
তাহলে কি কাফফারা আদায় করতে হবে, সেটা যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে নাযিল করা হয়েছে, সে কাফফারাটা কি? যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলছেন যে, তাহলে কাফফারাটা কি হবে?
فَكَفَّارَتُهٗ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ
এখানে চারটা বিষয় বলা হয়েছে, ক্বসমের কাফফারা। একটা হচ্ছে, কেউ যদি খাবার খাওয়াতে চায় সে যেরকম খায় মধ্যম শ্রেণীর, তার পরিবারের সেরকম ১০জনকে তাকে খাবার খাওয়াতে হবে, ১০ দিনের খাবার। অথবা দশজনকে নামায পড়ার যত কাপড় লাগে এরকম কাপড় দিতে হবে। অথবা একটা গোলাম আযাদ করতে হবে। অথবা যদি কোনটাও কেউ না পায় আর্থিক সচ্ছলতা না থাকে, তাহলে সে কি করবে? সে তিনদিন একাধারা রোযা রাখবে এর মধ্যে ভাঙ্গতে পারবে না। একটা ভেঙ্গে গেলে আবার তিনটা করতে হবে। সেটাই বলা হচ্ছে-
ذٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ
যখন তোমরা ক্বসম করবে তখন এটা তোমাদের জন্য কাফফারা।
وَاحْفَظُواْ أَيْمَانَكُمْ
তোমাদের ক্বসমের কাফফারাগুলি, মানতগুলি তোমরা হিফাযত করো এবং তোমরা চূ-চেরা, কীল-কাল করো না।
كَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ آيَاتِهٖ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলছেন, এভাবে তিনি উনার নিদর্শন মুবারক, হুকুম মুবারক, বিধান মুবারক, আদেশ-নির্দেশ মুবারকগুলি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যাতে তোমরা শোকরগুযার বান্দা-বান্দি হতে পারো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭ম পর্ব)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিনটি আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করা আবশ্যক
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












