মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
, ২৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মানুষ যে হাঁচি দেয় হাঁচির মধ্যে অনেক রোগ-জীবাণু বেরিয়ে যায়। এজন্য একটা রুমাল বা কাপড়ের মধ্যে হাঁচি দেয়া উচিত। আর শুকরিয়া স্বরূপ আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন বলা উচিত।
চিশতীয়া খান্দানের বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত খাজা উছমান হারুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আনিসুল আরওয়াহ নামক কিতাবে সপ্তদশ মজলিসে মু’মিন বান্দার হাঁচি সম্পর্কে বলেন, “যখন কোন মু’মিন বান্দা হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তার সমস্ত গুনাহখতা মাফ করে দেন এবং ঐ বান্দার জন্য জান্নাতে একটা প্রাসাদ তৈরী করেন, যার মধ্যে একটা গাছ থাকবে এবং সে গাছের উপর সুমধুর কন্ঠের অধিকারী একটা পাখি বসে থাকবে। একজন গোলাম আযাদ করার ছওয়াবও তার আমলনামায় লিখা হবে। সুবহানাল্লাহ! এরপর সে যদি দ্বিতীয় হাঁচি দিয়েও অনুরূপ বলেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার পিতা-মাতার সমস্তগুনাহও ক্ষমা করে দেন। সুবহানাল্লাহ! যদি সে তৃতীয়বার হাঁচি দেয় তাহলে ভাববে এটা সর্দির প্রতিক্রিয়া। মুসলমানদের জেনে রাখা উচিৎ হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বললে গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত (কাফফারা) আদায় করা হয় এবং আত্মিক উন্নতিও ঘটে। যে ব্যক্তি হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে সে রোজ হাশরে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে এবং জান্নাতে হাজার হুর লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! এরপর আরও বলেন, যে ব্যক্তির প্রথম হাঁচি আসে, তিনি হচ্ছেন আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং যে ব্যক্তি প্রথম হাঁচির জাবাব দেন তিনি হচ্ছেন জিবরীল আলাইহিস সালাম। সাইয়্যিদুনা হযরত ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যখন হাঁচি মুবারক দিয়ে আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন বললেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি উত্তরে ইয়ার হামুকাল্লাহ বললেন। এরপরে আরও বললেন, আতিয়া নামে এক পর্দা জাহান্নামের মাঝে আগুনকে আড়াল করে রেখেছে। যখন কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয় তখন সে ঐ পর্দার নিকটবর্তী হয় এবং যখন হাঁচির শুকরিয়া আদায় করে তখন সে ঐ পর্দা হতে বহুদূরে সরে আসে। সুবহানাল্লাহ! (আনিসুল আরওয়াহ)
যখন কেউ হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন জোরে বলেন, তখন যারা শুনবেন উনারা জবাব দিবেন। না শুনলে জাবাব দিতে হবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক ইখলাছের সাথে আমল করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)
-আহমদ ফাতেমা আক্তার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী বা হারাম কাজ থেকে খালিছ তওবা করে উনার যিকির ও ইবাদতে খালিছভাবে মনোনিবেশ করলে কুদরতী রিযিক লাভ করা যায়
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












