পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
, ২৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অসুস্থতার কারণে রোযা না রাখার হুকুম:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِّنْ رَّمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلَا مَرَضٍ لَـمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمَ الدَّهْرِ كُلَّهٗ وَاِنْ صَامَهٗ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ওজর অথবা রোগ ব্যতীত রমাদ্বান শরীফ মাসের একটি রোযা ভঙ্গ করবে, সে যদি তার পরিবর্তে সারা বছরও রোযা রাখে, তবে ওটার সমকক্ষ হবে না।” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুছ ছওম ‘আর রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: বাবু মা জায়া ফীল ইফতারি মুতা‘আম্মিদান: হাদীছ শরীফ ৭২৩; শরহুস সুন্নাহ: হাদীছ শরীফ ১৭৫৩)
এ প্রসঙ্গে আরো বলা যেতে পারে যে, যেমন- মেয়েদের অসুস্থতার অর্থাৎ মাজুরতার সময় নামায পড়া ও রোযা রাখা নিষেধ। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর রোযা ক্বাযা করতে হয় কিন্তু নামায ক্বাযা করতে হয় না। এর কি কারণ?
এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয় যে-
عَنْ حَضْرَتْ مُعَاذَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهَا قَالَتْ سَأَلْتُ حَضْرَتْ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ الصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقُلْتُ مَا بَالُ الْـحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ وَلَا تَقْضِي الصَّلٰوةَ فَقَالَتْ اَحَرُوْرِيَّةٌ اَنْتِ قُلْتُ لَسْتُ بِـحَرُوْرِيَّةٍ وَلٰكِنِّيْ اَسْاَلُ. قَالَتْ كَانَ يُصِيْبُنَا ذٰلِكَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلَا نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلٰوةِ.
অর্থ: “ মহিলা তাবেয়ী হযরত মুয়াজাহ্ আদভিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, মাজূর অবস্থায় স্ত্রীলোক রোযা ক্বাযা করে কিন্তু নামায ক্বাযা করেনা, তার কি কারণ? তখন উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন আমরা এ অবস্থায় পৌঁছতাম, তখন আমাদেরকে রোযার ক্বাযা করার আদেশ দেয়া হতো কিন্তু নামায ক্বাযা করার আদেশ দেয়া হতো না।” (অথচ আমরা কখনো কোন কারণ তালাশ করিনি) (মুসলিম শরীফ: কিতাবুল হায়িদ্ব: বাবু উযূবি ক্বদ্বিয়িছ ছওমি ‘আলাল হায়িদ্বি দূনাছ ছলাতি: হাদীছ শরীফ ৫৩৫)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যে সকল মেয়েরা অসুস্থতার কারণে নামায পড়তে পারে না এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে কিছু সংখ্যক রোযা রাখতে পারলো না, তবে কি তারা উক্ত নামাযের ফযীলত ও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার রোযার ফযীলত হতে মাহ্রূম থাকবে? জবাবে বলা যায়- কখনোই নয় বরং সে নামায ও রোযার পরিপূর্ণ ফযীলতই লাভ করবে। কারণ সে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মাজূর।
অনুরূপ কারো যদি ওযূ অথবা গোসলের প্রয়োজন হয় কিন্তু যদি পানি পাওয়া না যায়, তবে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করবে, এখানে পানি দ্বারা ওযু-গোসল করে নামায আদায় করলে যে ফযীলত সে লাভ করতো, তায়াম্মুমের দ্বারা নামায পড়লেও সে ততটুকু ফযীলত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
এমনিভাবে ই’তিকাফকারী সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْمُعْتَكِفِ هُوَ يَعْتَكِفُ الذُّنُوْبَ وَيُـجْرٰى لَهٗ مِنَ الْـحَسَنَاتِ كَعَامِلِ الْـحَسَنَاتِ كُلِّهَا.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ই’তিকাফকারী সকল গুণাহ্ হতে বিরত এবং সকল নেক আমলের ফযীলত তাকেও দান করা হয়।” (ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীছ শরীফ নং ১৮৫৩)
অর্থাৎ ই’তিকাফকারী মসজিদে আবদ্ধ থাকার কারণে বাইরের যে নেক কাজগুলো করতে পারেন না, সে সকল নেক কাজের ছওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়ে থাকে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, যারা ওজর বশতঃ বা অসুস্থতার কারণে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার রোযা রাখতে পারবে না, তারা অন্য সময় উক্ত রোযাগুলো আদায় করলে অবশ্যই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা অর্থাৎ ফাযায়িল-ফযীলত লাভ করবে। বরং অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখিত অবস্থায় রোযা রাখার মধ্যেই বরং কোন ফায়দা বা ছওয়াব নেই।
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَرَاٰى زِحَامًا وَرَجُلًا قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا هٰذَا؟ فَقَالُوْا صَائِمٌ فَقَالَ لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ.
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সফরে ছিলেন, একস্থানে লোকের ভীড় দেখলেন, (সেখানে গিয়ে দেখলেন) এক ব্যক্তির উপরে ছায়া দেওয়া হচ্ছে। (এটা দেখে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে কি? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন- (যাকে ছায়া দেওয়া হচ্ছে) তিনি একজন রোযাদার, (তখন) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সফরে রোযা রাখা ছওয়াবের কাজ নয়।” (বুখারী শরীফ: কিতাবুছ ছওম: হাদীছ শরীফ নং ১৯৪৬, মুসলিম শরীফ: কিতাবুছ ছওম: হাদীছ শরীফ ১৯৪৬)
অতএব, কেউ যদি ওজরবশতঃ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার মধ্যে কিছু রোযা রাখতে না পারে, তবে সে তা অন্য সময় ক্বাযা আদায় করলেও পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার ন্যায় ফযীলত লাভ করবে। (সমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












