ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (২০)
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে পবিত্রা বললেও ভুল হবে। উনারা হলেন পবিত্রতা দানকারিণী। সুবহানাল্লাহ! উনারা যদি পবিত্রতা দানকারিণী হয়ে থাকেন তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতা কত বেমেছাল তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। সুবহানাল্লাহ! অতএব যারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা কীল-কাল করবে, উনাদেরকে কোন প্রকার দোষারোপ করবে তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। তাদের জন্য সম্মানিত শরীয়ত উনার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা করার অর্থ হচ্ছে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে চু-চেরা করা। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
يَا بُنَيَّةُ أَلَا تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَأَحِبِّي هَذِهِ اى هَذِهِ هولاء.
অর্থ : হে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম! আমি যে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করি আপনি কি উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করবেন না? তিনি বললেন, অবশ্যই। আপনি যে মহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করেন আমিও উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করবো ও করি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তাহলে আপনাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে মহব্বত মুবারক করা। অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করা। সুবহানাল্লাহ! (সমস্ত সৃষ্টির জন্য তা ফরযে আইন।) সুবহানাল্লাহ!”
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র শান মুবারকে এ বিষয়টি বলা হয়েছে। কিন্তু এই হুকুম সমস্ত সৃষ্টির জন্যে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সমস্ত সৃষ্টির জন্য ফরযে আইন হয়ে গেছে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করা।’ সুবহানাল্লাহ!
এখন কাফিক, মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারা, মুনাফিক, নাস্তিক ও মুরতাদরা দেখা যাচ্ছে উনাদের মহাসম্মানিত শান-মান মুবারকের খিলাফ বিভিন্ন রকম বই পুস্তক বের করে যাচ্ছে, নাটক, নোবেল, সিনেমা ইত্যাদি প্রকাশ করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! যারা উনাদের মহাসম্মানিত শান-মান নিয়ে চু-চেরা কীল-কাল করছে তারা জাহান্নামের কীট, সৃষ্টির নিকৃষ্ট পশু এবং পশুর থেকেও অধম। এবং তাদেরকে যারা সমর্থন করবে, এ ব্যাপারে যারা চুপ থাকবে, প্রতিবাদ করবে না এরাও তাদের দলভুক্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা কীল-কাল যারা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ করতে হবে, চুপ থাকার কোন সুযোগ নেই।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, ‘এক ব্যক্তি সে নিজেকে ছূফী, বুযূর্গ ও সম্মানিত ব্যক্তি বলে দাবি করতো। সে এক মজলিসে উপস্থিত ছিলো, সেখানে কিছু লোক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’নিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারকে চু-চেরা কীল-কাল করেছিল। নাউযুবিল্লাহ! সে ব্যক্তি কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারতো এবং সামর্থও ছিলো। কিন্তু সে চুপ থাকলো। সে চুপ থেকে মজলিস থেকে চলে আসলো। এসে সে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুমের মধ্যে সে স্বপ্নে দেখতে লাগলো, মহাসম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারক প্রকাশ করে বললেন, হে ব্যক্তি উঠো। তুমি যে মজলিসে গিয়েছিলে, সেখানে কিছু লোক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারকে চু-চেরা কীল-কাল করেছে, তুমি কেন প্রতিবাদ করলে না? লোকটা তখন মিথ্যা বলল, আমার কোন কিছু করার সামর্থ ছিল না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তুমি মিথ্যা বলছ। এই মিথ্যার জন্য আজ থেকে তুমি অন্ধ হয়ে যাবে। সত্যিই লোকটা সেদিন থেকে অন্ধ হয়ে গেল।’ নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












