ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৪৫)
, ১৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হে ব্যক্তি! তুমি কি নিজের কানে শুনেছ যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার যবান মুবারকে একথা বলেছেন”
সে বললো, হ্যাঁ, আমি শুনেছি।
হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্য কথাই বলেছেন।
তিনি যখন একথা বললেন, সাথে সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে প্রেরণ করলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। “হে হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম! আপনি এখনই যান আমার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে। গিয়ে বলুন, আজ থেকে হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনাকে উপাধি দেয়া হলো ছিদ্দীকে আকবর। কারণ, তিনি অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন”।
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুখে শুনেন নাই, দ্বিতীয় আর এক ব্যক্তির মুখে শুনেছেন। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, আর তিনি বিশ্বাস করেছেন। কাজেই যারা ঈমানদার হবে
هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
মুত্তাক্বীন ঐ ব্যক্তি-
اَلَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ
যে অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে। এরপর বলা হয়েছে-
يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ
যে নামায কায়েম করে। তার মেছাল হলো- এক বুযুর্গ ব্যক্তি ছিলেন, তিনি বাজারে গিয়েছেন মাল খরিদ করার জন্য। একটা বড় মাছ খরিদ করেছেন। যেটা সাধারণভাবে ব্যাগে করে আনা সম্ভব নয়। ওটা মাথায় করে আনতে হবে। তখন সেই বুযুর্গ ব্যক্তি একজন কুলি খুঁজতে লাগলেন। একটা যুবক ছেলে এসে বললো, হুযূর! আপনি কি মাছটা নেয়ার জন্য কোন লোক খুঁজছেন? বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, হ্যাঁ। তাহলে আমাকে দেন, আমি পৌঁছে দেব। আপনি যা দেন সন্তুষ্ট হয়ে আমি তাই নেব।
যুবক ছেলেটি মাছটা কাঁধে নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেল। কিছুদূর আসার পরে হঠাৎ মসজিদে আযান হলো। যোহরের আযান। সেই কুলি মাছটা রাস্তার মধ্যে রেখে বললো, হুযূর! এখন তো আযান হয়ে গেছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ডাক দিয়েছেন, আমি মসজিদে চলে যাই, আমাকে নামায পড়তে হবে। আপনি যদি ইচ্ছা করেন অপেক্ষা করতে পারেন বা আমার সাথে মসজিদে আসতে পারেন। এখন তো আমাকে মসজিদে যেতেই হবে।
একথা বলে যুবক মসজিদে চলে গেল। তখন বুযুর্গ ব্যক্তি যিনি মাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি বললেন, এই ছেলের কাজটাতো দেখা যায় আল্লাহ্ওয়ালা উনাদের মতো। আযান হওয়ার সাথে সাথে মসজিদে প্রবেশ করলো। সেই বুযুর্গ ব্যক্তির সাথে উনার ছেলেও ছিল। উনারা দু’জনও সেই মাছটাকে রাস্তার মধ্যে রেখে মসজিদে প্রবেশ করলেন, নামায আদায় করলেন। নামায আদায় করার পর উনারা বের হয়ে আসলেন। দেখলেন মাছটা যেখানে ছিল ঠিক ঐ ভাবেই রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












